• শনিবার , ১১ জুলাই, ২০২৬ | ২৭ আষাঢ়, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

জাতীয় অবকাঠামোয় হামলা হলে কঠোর জবাব, ইসরায়েলকে ইরানের হুঁশিয়ারি

জাতীয় অবকাঠামোয় হামলা হলে কঠোর জবাব, ইসরায়েলকে ইরানের হুঁশিয়ারি

অনলাইন ডেস্ক
অনলাইন ডেস্ক

প্রকাশিত: ১১:২৮ ১১ জুলাই ২০২৬

ইরানের গুরুত্বপূর্ণ জাতীয় অবকাঠামো লক্ষ্য করে কোনো হামলা চালানো হলে তার কঠোর জবাব দেওয়া হবে বলে ইসরায়েলকে সতর্ক করেছেন দেশটির সর্বোচ্চ জাতীয় নিরাপত্তা পরিষদের সচিব মোহাম্মদ বাকের জোলঘাদর। সাম্প্রতিক সামরিক উত্তেজনার মধ্যে শুক্রবার (১০ জুলাই) দেওয়া এক বিবৃতিতে তিনি এ হুঁশিয়ারি দেন।

মেহের নিউজের বরাতে আনাদোলু এজেন্সি জানিয়েছে, ইরানের বিদ্যুৎ, যোগাযোগ, পরিবহন কিংবা অন্যান্য গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনা আক্রান্ত হলে তেহরান তা বিনা জবাবে ছেড়ে দেবে না। এ ধরনের হামলার সঙ্গে জড়িত পক্ষগুলোকে লক্ষ্য করে ইরানি বাহিনী পাল্টা ব্যবস্থা নেবে বলেও জানান জোলঘাদর।

যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে সাম্প্রতিক পাল্টাপাল্টি হামলার পর মধ্যপ্রাচ্যে নতুন করে উত্তেজনা বেড়েছে। যুক্তরাষ্ট্রের সেন্ট্রাল কমান্ড জানিয়েছে, ইরানের বিমান প্রতিরক্ষাব্যবস্থা, উপকূলীয় নজরদারি স্থাপনা এবং ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন সংরক্ষণাগারসহ প্রায় ৯০টি সামরিক লক্ষ্যবস্তুতে হামলা চালানো হয়েছে। জবাবে উপসাগরীয় অঞ্চলে অবস্থিত কয়েকটি মার্কিন সামরিক স্থাপনায় হামলার দাবি করেছে ইরান।

ইরানি কর্তৃপক্ষের হিসাবে, বুধবার ও বৃহস্পতিবার যুক্তরাষ্ট্রের হামলায় দেশটির ছয় শহরে অন্তত ১৭ জন নিহত এবং ১১৫ জন আহত হয়েছেন। তেহরানের অভিযোগ, সামরিক স্থাপনার পাশাপাশি কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ যোগাযোগ অবকাঠামোও হামলার শিকার হয়েছে।

ইরানের প্রয়াত সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনিকে বৃহস্পতিবার মাশহাদের ইমাম রেজা মাজারে দাফন করা হয়। তিনি গত ২৮ ফেব্রুয়ারি যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের যৌথ হামলার প্রথম দিনে নিহত হন। তার দাফনের সময়ও অঞ্চলটিতে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে সামরিক পাল্টাপাল্টি চলছিল।

এদিকে সামরিক উত্তেজনা চললেও আলোচনা পুরোপুরি বন্ধ হয়নি। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প জানিয়েছেন, দুই দেশ আলোচনা চালিয়ে যেতে সম্মত হয়েছে, যদিও আগের যুদ্ধবিরতি আর কার্যকর নেই। ইরান অবশ্য সরাসরি আলোচনার অনুরোধ করার দাবি অস্বীকার করে জানিয়েছে, কাতারের মধ্যস্থতা গ্রহণ করেছে তেহরান।

কাতার ও ওমান পরিস্থিতি শান্ত করতে কূটনৈতিক তৎপরতা চালিয়ে যাচ্ছে। বিশেষ করে হরমুজ প্রণালিতে জাহাজ চলাচলের নিরাপত্তা এবং নতুন সংঘাত এড়ানোর উপায় নিয়ে পক্ষগুলোর মধ্যে যোগাযোগ চলছে। তবে ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের পাল্টাপাল্টি হুঁশিয়ারির কারণে স্থায়ী সমঝোতার সম্ভাবনা এখনো অনিশ্চিত।

সর্বশেষ পরিস্থিতিতে ইরানের অবকাঠামো ঘিরে নতুন কোনো হামলা হলে সংঘাত আরও বিস্তৃত হতে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে। জোলঘাদরের বক্তব্যের মাধ্যমে তেহরান স্পষ্ট করেছে, জাতীয় স্থাপনার ওপর আঘাতকে তারা সরাসরি নিরাপত্তার হুমকি হিসেবে বিবেচনা করবে।

সূত্র: মেহের নিউজ/আনাদোলু এজেন্সি/রয়টার্স/অ্যাসোসিয়েটেড প্রেস

বিজ্ঞাপন