• সোমবার , ১৩ জুলাই, ২০২৬ | ২৯ আষাঢ়, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

জুনের তাপপ্রবাহে ইউরোপে ১০ হাজারের বেশি অতিরিক্ত মৃত্যু

জুনের তাপপ্রবাহে ইউরোপে ১০ হাজারের বেশি অতিরিক্ত মৃত্যু

অনলাইন ডেস্ক
অনলাইন ডেস্ক

প্রকাশিত: ১২:০৬ ১৩ জুলাই ২০২৬

জুনের শেষ দিকে ইউরোপের পশ্চিমাঞ্চলজুড়ে বয়ে যাওয়া রেকর্ড তাপপ্রবাহের সময় স্বাভাবিকের তুলনায় ১০ হাজারের বেশি মানুষের মৃত্যু হয়েছে। ইউরোপীয় মৃত্যুহার পর্যবেক্ষণ নেটওয়ার্ক ইউরোমোমোর তথ্য অনুযায়ী, ২২ থেকে ২৮ জুন পর্যন্ত এক সপ্তাহে ২৭টি ইউরোপীয় দেশে মোট ১০ হাজার ৬৫০টি অতিরিক্ত মৃত্যু নথিভুক্ত হয়েছে।

মৃতদের বড় অংশই ছিলেন প্রবীণ। ইউরোমোমোর হিসাবে, অতিরিক্ত মৃত্যুর মধ্যে ৯ হাজারের বেশি মানুষের বয়স ছিল ৬৫ বছর বা তার ঊর্ধ্বে। প্রচণ্ড গরমে হিট স্ট্রোকের পাশাপাশি হৃদ্‌রোগ ও শ্বাসতন্ত্রের পুরোনো জটিলতা বেড়ে যেতে পারে, যা প্রবীণদের জন্য বিশেষ ঝুঁকি তৈরি করে।

ডেনমার্কের স্ট্যাটেন্স সেরাম ইনস্টিটিউটের প্রধান চিকিৎসক লাসে ভেস্টারগার্ড বলেন, বছরের এই সময়ে এত বড় মাত্রার অতিরিক্ত মৃত্যু অস্বাভাবিক। তার মতে, ওই সপ্তাহে মৃত্যুহার হঠাৎ বেড়ে যাওয়ার পেছনে চরম তাপমাত্রা ছাড়া অন্য কোনো বড় কারণ পাওয়া যায়নি।

তবে ইউরোমোমোর পরিসংখ্যান সরাসরি চিকিৎসকের সনদে ‘তাপজনিত মৃত্যু’ হিসেবে নথিভুক্ত সংখ্যা নয়। এটি প্রত্যাশিত স্বাভাবিক মৃত্যুহারের তুলনায় অতিরিক্ত মৃত্যুর হিসাব। সংশ্লিষ্ট বিজ্ঞানীরা জানিয়েছেন, ওই সময়ে বড় কোনো কোভিড-১৯ সংক্রমণ বা অন্য রোগের প্রাদুর্ভাব না থাকায় তাপপ্রবাহকেই এই অস্বাভাবিক বৃদ্ধির প্রধান কারণ বলে মনে করা হচ্ছে।

তাপপ্রবাহের আগের আট সপ্তাহে একই দেশগুলোতে গড়ে প্রতি সপ্তাহে প্রত্যাশিত সংখ্যার তুলনায় প্রায় ৫০০ মৃত্যু কম ছিল। ফলে জুনের শেষ সপ্তাহের আকস্মিক উল্লম্ফনকে আরও তাৎপর্যপূর্ণ বলে মনে করছেন গবেষকেরা। নতুন তথ্য যুক্ত হলে এই হিসাব কিছুটা সংশোধিত হতে পারে বলেও জানিয়েছে ইউরোমোমো।

দেশভিত্তিক পূর্ণাঙ্গ মৃত্যুর সংখ্যা প্রকাশ করা হয়নি। তবে ফ্রান্স ও বেলজিয়ামে অতিরিক্ত মৃত্যুর মাত্রা সবচেয়ে বেশি ছিল। বেলজিয়ামের জনস্বাস্থ্য প্রতিষ্ঠান সিয়েনসানোর তথ্যমতে, ২০০০ সালে রেকর্ড রাখা শুরু হওয়ার পর দেশটিতে কোনো তাপপ্রবাহের সময় এটিই সর্বোচ্চ অতিরিক্ত মৃত্যুর ঘটনা।

তীব্র গরমে ফ্রান্স, স্পেন ও যুক্তরাজ্যসহ ইউরোপের বিভিন্ন দেশে তাপমাত্রার নতুন রেকর্ড হয়েছে। বিদ্যুৎ সরবরাহে ব্যাঘাত, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান বন্ধ এবং দৈনন্দিন জনজীবনেও বড় ধরনের সমস্যা তৈরি হয়।

ইংল্যান্ড ও ওয়েলস নিয়ে পৃথক একটি গবেষণায় মে ও জুনের কয়েক দফা তাপপ্রবাহের সঙ্গে প্রায় ২ হাজার ৭০০ মৃত্যুর সম্পর্ক পাওয়া গেছে। গবেষকদের হিসাবে, এর প্রায় ৪২ শতাংশ মানুষের মৃত্যুর সঙ্গে মানবসৃষ্ট বৈশ্বিক উষ্ণতায় বেড়ে যাওয়া অতিরিক্ত তাপমাত্রার যোগসূত্র রয়েছে।

জলবায়ুবিজ্ঞানীদের মতে, মানবসৃষ্ট জলবায়ু পরিবর্তন না হলে জুনের শেষ দিকের এমন তীব্র তাপপ্রবাহ প্রায় অসম্ভব হতো। বৈশ্বিক তাপমাত্রা বৃদ্ধির কারণে ইউরোপে ভবিষ্যতে আরও ঘন ঘন এবং দীর্ঘ সময় ধরে তাপপ্রবাহ দেখা দেওয়ার ঝুঁকি বাড়ছে।

সূত্র: রয়টার্স ও ইউরোমোমো।

বিজ্ঞাপন