• শনিবার , ০৮ আগস্ট, ২০২৬ | ২৪ শ্রাবণ, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

১/১১-তে তারেক রহমানকে ‘আয়নাঘরে’ বন্দি রাখা হয়েছিল: চিফ প্রসিকিউটর

১/১১-তে তারেক রহমানকে ‘আয়নাঘরে’ বন্দি রাখা হয়েছিল: চিফ প্রসিকিউটর

অনলাইন ডেস্ক
অনলাইন ডেস্ক

প্রকাশিত: ০২:৩৬ ৮ আগস্ট ২০২৬

ওয়ান-ইলেভেনের সময় বর্তমান প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানকে ঢাকা সেনানিবাসে প্রতিরক্ষা গোয়েন্দা মহাপরিদপ্তরের (ডিজিএফআই) জয়েন্ট ইন্টারোগেশন সেন্টার বা জেআইসি সেলের গোপন বন্দিশালায় আটকে রেখে নির্যাতন করা হয়েছিল বলে দাবি করেছেন আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের চিফ প্রসিকিউটর আমিনুল ইসলাম।

শনিবার (৮ আগস্ট) ঢাকা সেনানিবাসে ডিজিএফআই সদর দপ্তরের জেআইসি সেল পরিদর্শন শেষে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে তিনি এ দাবি করেন।

চিফ প্রসিকিউটর আমিনুল ইসলাম বলেন, আগের সরকারের সময় দেশে এমন একটি ব্যবস্থা গড়ে তোলা হয়েছিল, যেখানে রাজনৈতিক ভিন্নমতাবলম্বীসহ বিভিন্ন ব্যক্তিকে গোপন বন্দিশালায় আটকে রাখার অভিযোগ রয়েছে। এসব স্থান পরবর্তীতে ‘আয়নাঘর’ নামে পরিচিতি পায়।

তিনি বলেন, ওয়ান-ইলেভেনের সময় তারেক রহমানকেও ডিজিএফআইয়ের একটি গোপন বন্দিশালায় রাখা হয়েছিল। এ বিষয়ে প্রসিকিউশন পর্যাপ্ত সাক্ষ্য ও তথ্য-প্রমাণ পেয়েছে বলেও দাবি করেন তিনি।

আমিনুল ইসলাম বলেন, গোপন বন্দিশালা পরিচালনা, আটক ও নির্যাতনের সঙ্গে যেসব ব্যক্তি জড়িত ছিলেন বলে তদন্তে তথ্য পাওয়া যাচ্ছে, তাদের বিচারের আওতায় আনার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।

তিনি আরও জানান, তদন্ত চলাকালে নতুন করে কারও সম্পৃক্ততার প্রমাণ পাওয়া গেলে তাকেও আইনের আওতায় আনা হবে।
জেআইসি সেল পরিদর্শন শেষে চিফ প্রসিকিউটর অভিযোগ করেন, ৫ আগস্টের পর ওই স্থানের কিছু গুরুত্বপূর্ণ আলামত নষ্ট করা হয়েছে।

তার দাবি, বিভিন্ন স্থানে নতুন করে দেয়াল তৈরি করে কিছু অংশ আড়াল করা হয়েছে। পাশাপাশি বেশ কিছু তথ্য ও সম্ভাব্য আলামত ধ্বংস করার ঘটনাও ঘটেছে।

তবে বর্তমানে ঘটনাস্থলে যেসব আলামত ও কাঠামো রয়েছে, সেগুলোও তদন্ত এবং বিচারপ্রক্রিয়ার জন্য গুরুত্বপূর্ণ বলে জানান তিনি।

চিফ প্রসিকিউটর বলেন, বিচারাধীন কোনো ঘটনার সঙ্গে সংশ্লিষ্ট স্থান সরেজমিনে পরিদর্শনের আইনি ভিত্তি রয়েছে।

তার মতে, বিচারকদের ঘটনাস্থলের বর্তমান অবস্থা দেখা, স্থানটির কাঠামো সম্পর্কে ধারণা নেওয়া এবং সেখানে থাকা সম্ভাব্য আলামত পর্যবেক্ষণ করা বিচারপ্রক্রিয়ায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে।

ন্যায়বিচার নিশ্চিত করার ক্ষেত্রেও এ ধরনের পরিদর্শন সহায়ক হবে বলে মন্তব্য করেন তিনি।
শনিবার আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-১-এর বিচারপতিরা ঢাকা সেনানিবাসে অবস্থিত ডিজিএফআই সদর দপ্তরের জেআইসি সেলের কথিত গোপন বন্দিশালা পরিদর্শন করেন।

ট্রাইব্যুনাল-১-এর চেয়ারম্যান বিচারপতি গোলাম মর্তূজার নেতৃত্বে পরিদর্শন কার্যক্রম পরিচালিত হয়। এ সময় চিফ প্রসিকিউটরসহ প্রসিকিউশন টিমের সদস্য এবং আসামিপক্ষের আইনজীবীরাও উপস্থিত ছিলেন।

এর আগে রাজধানীর উত্তরায় র‍্যাব পরিচালিত একটি কথিত গোপন বন্দিশালা বা ‘গুমঘর’ পরিদর্শন করেন আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের বিচারপতিরা।

প্রসিকিউশন সূত্রের দাবি, র‍্যাব ও ডিজিএফআই পরিচালিত কথিত গোপন বন্দিশালায় বিভিন্ন ব্যক্তিকে গুম করে আটকে রাখার অভিযোগে দুটি মামলা বর্তমানে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে বিচারাধীন রয়েছে।

ওই মামলাগুলোর বিচারপ্রক্রিয়ার অংশ হিসেবেই সংশ্লিষ্ট ঘটনাস্থলগুলো সরেজমিনে পরিদর্শন করছেন ট্রাইব্যুনালের বিচারকেরা।

তদন্ত ও বিচারপ্রক্রিয়া চলমান থাকায় এসব অভিযোগের চূড়ান্ত সত্যতা আদালতের বিচারিক সিদ্ধান্তের ওপর নির্ভর করবে।

বিজ্ঞাপন