• বৃহস্পতিবার , ২৫ জুন, ২০২৬ | ১১ আষাঢ়, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

ইরান সংঘাতে চীন-রাশিয়া-তুরস্কের নিরপেক্ষতা নিয়ে ট্রাম্পের বড় দাবি

ইরান সংঘাতে চীন-রাশিয়া-তুরস্কের নিরপেক্ষতা নিয়ে ট্রাম্পের বড় দাবি

অনলাইন ডেস্ক
অনলাইন ডেস্ক

প্রকাশিত: ০২:৩৯ ২৫ জুন ২০২৬

ইরানকে ঘিরে সাম্প্রতিক উত্তেজনার সময় চীন, রাশিয়া ও তুরস্ক সরাসরি সংঘাতে জড়ায়নি—এ বিষয়টিকে নিজের কূটনৈতিক সাফল্য হিসেবে তুলে ধরেছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। তার দাবি, প্রভাবশালী এই তিন দেশ চাইলে ইরানের পক্ষে অবস্থান নিতে পারত, কিন্তু তিনি ব্যক্তিগত যোগাযোগ ও কূটনৈতিক উদ্যোগের মাধ্যমে পরিস্থিতি বড় যুদ্ধের দিকে যেতে দেননি।

ওয়াশিংটনে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে ট্রাম্প বলেন, ইরান ইস্যুতে বিশ্ব পরিস্থিতি আরও ভয়াবহ রূপ নিতে পারত। তবে চীন, রাশিয়া ও তুরস্ক শেষ পর্যন্ত সামরিকভাবে সংঘাতে না জড়ানোয় বড় ধরনের আন্তর্জাতিক সংকট এড়ানো গেছে বলে তিনি মনে করেন।

ট্রাম্পের ভাষ্য অনুযায়ী, বিশেষ করে তুরস্কের প্রেসিডেন্ট রিসেপ তাইয়েপ এরদোয়ান এই সংকটে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছেন। তিনি বলেন, এরদোয়ান ইসরায়েলের ঘনিষ্ঠ সমর্থক নন এবং আঞ্চলিক রাজনীতিতে তার অবস্থান অনেক সময় তেলআবিবের বিপরীতে দেখা যায়। এ কারণে তুরস্ক ইরানের পক্ষে অবস্থান নিতে পারে—এমন আশঙ্কা ছিল বলে দাবি করেন ট্রাম্প।

তবে তিনি জানান, ব্যক্তিগতভাবে এরদোয়ানের সঙ্গে যোগাযোগ করে তাকে সংঘাত থেকে দূরে থাকার অনুরোধ করেছিলেন। ট্রাম্পের দাবি, তুর্কি প্রেসিডেন্ট সেই অনুরোধ রেখেছেন এবং সরাসরি যুদ্ধে জড়াননি। এরদোয়ানকে তিনি শক্তিশালী নেতা হিসেবেও উল্লেখ করেন।

চীনের প্রেসিডেন্ট শি জিনপিংয়ের ভূমিকা নিয়েও ট্রাম্প প্রশংসা করেন। তার মতে, মধ্যপ্রাচ্য চীনের জ্বালানি নিরাপত্তার জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। চীনের জ্বালানি আমদানির একটি বড় অংশ ওই অঞ্চল থেকে আসে। তাই ইরানকে ঘিরে সংঘাত দীর্ঘ হলে বেইজিংয়ের অর্থনৈতিক স্বার্থ সরাসরি প্রভাবিত হতে পারত।

ট্রাম্প বলেন, এই পরিস্থিতিতে চীন চাইলে আরও সক্রিয় অবস্থান নিতে পারত। কিন্তু শি জিনপিং শেষ পর্যন্ত সংঘাতকে বড় আকারে ঠেলে দেননি। মার্কিন প্রেসিডেন্ট এটিকে ইতিবাচক ও দায়িত্বশীল সিদ্ধান্ত হিসেবে তুলে ধরেন।

রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন সম্পর্কেও ট্রাম্প বলেন, মস্কো এই সংকটে সরাসরি সামরিকভাবে জড়ায়নি। তার মতে, রাশিয়ার নিজস্ব ভূরাজনৈতিক ব্যস্ততা থাকলেও ইরান ইস্যুতে পুতিনের অবস্থান সংঘাতকে আরও বিস্তৃত হতে দেয়নি।

তবে আন্তর্জাতিক পর্যবেক্ষকরা ট্রাম্পের এই বক্তব্যকে সতর্কতার সঙ্গে দেখছেন। কারণ তার মন্তব্য মূলত নিজের দাবি হিসেবে এসেছে। চীন, রাশিয়া বা তুরস্কের পক্ষ থেকে সরাসরি এমন কোনো স্বীকারোক্তি আসেনি যে তারা যুদ্ধে যোগ দেওয়ার প্রস্তুতি নিয়েছিল এবং ট্রাম্পের অনুরোধে সরে দাঁড়িয়েছে।

বিশেষ করে তুরস্কের ক্ষেত্রে বিষয়টি আরও সংবেদনশীল। আঙ্কারা ইসরায়েলের নীতির তীব্র সমালোচক হলেও সরাসরি যুদ্ধে অংশ নেওয়ার কোনো আনুষ্ঠানিক ঘোষণা দেয়নি। তাই ট্রাম্পের বক্তব্যকে অনেক বিশ্লেষক রাজনৈতিক বার্তা ও ব্যক্তিগত কূটনৈতিক সাফল্য প্রদর্শনের অংশ হিসেবে দেখছেন।

চীন ও রাশিয়া ইরানের সঙ্গে কৌশলগত সম্পর্ক বজায় রাখলেও তারা সরাসরি যুক্তরাষ্ট্র বা ইসরায়েলের বিরুদ্ধে সামরিক সংঘাতে জড়ায়নি। এর পেছনে অর্থনৈতিক স্বার্থ, আঞ্চলিক ভারসাম্য, আন্তর্জাতিক চাপ এবং

বিজ্ঞাপন

https://moreshopbd.com/