• বৃহস্পতিবার , ২৫ জুন, ২০২৬ | ১১ আষাঢ়, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

ভেনেজুয়েলায় জোড়া শক্তিশালী ভূমিকম্প, বড় প্রাণহানির আশঙ্কা

ভেনেজুয়েলায় জোড়া শক্তিশালী ভূমিকম্প, বড় প্রাণহানির আশঙ্কা

অনলাইন ডেস্ক
অনলাইন ডেস্ক

প্রকাশিত: ০২:১৯ ২৫ জুন ২০২৬

ভেনেজুয়েলায় পরপর দুটি শক্তিশালী ভূমিকম্পে রাজধানী কারাকাসসহ দেশটির উত্তর ও মধ্যাঞ্চলের বিভিন্ন এলাকায় ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতির খবর পাওয়া গেছে। ভূমিকম্পের পর বহু মানুষ আতঙ্কে ঘরবাড়ি ছেড়ে রাস্তায় নেমে আসে। বেশ কয়েকটি ভবন ধসে পড়েছে এবং অনেক স্থানে উদ্ধার অভিযান চলছে।

মার্কিন ভূতাত্ত্বিক জরিপ সংস্থা ইউএসজিএসের তথ্য অনুযায়ী, প্রথম ভূমিকম্পটির মাত্রা ছিল ৭ দশমিক ২। এর অল্প সময় পরই ৭ দশমিক ৫ মাত্রার আরেকটি শক্তিশালী ভূকম্পন আঘাত হানে। দ্বিতীয় ভূমিকম্পটির উৎপত্তিস্থল ছিল ভেনেজুয়েলার ইউমারে এলাকার কাছাকাছি এবং গভীরতা ছিল প্রায় ১০ কিলোমিটার।

প্রাথমিকভাবে অন্তত ৩২ জনের মৃত্যুর খবর পাওয়া গেছে। আহত হয়েছেন কয়েকশ মানুষ। তবে ধ্বংসস্তূপের নিচে অনেকে আটকা থাকতে পারেন বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে। ফলে নিহতের সংখ্যা আরও বাড়তে পারে বলে সতর্ক করেছেন সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা।

ইউএসজিএসের প্রাথমিক PAGER মূল্যায়নে এই দুর্যোগকে সর্বোচ্চ সতর্কতার পর্যায়ে রাখা হয়েছে। সংস্থাটির মডেল অনুযায়ী, ব্যাপক প্রাণহানি ও বড় ধরনের অর্থনৈতিক ক্ষতির ঝুঁকি রয়েছে। মডেলে ১০ হাজার থেকে ১ লাখ মানুষের মৃত্যুর আশঙ্কা উল্লেখ করা হয়েছে এবং মৃতের সংখ্যা ১ লাখ ছাড়ানোর ঝুঁকিও দেখানো হয়েছে। তবে এটি নিশ্চিত হিসাব নয়, বরং ক্ষয়ক্ষতির সম্ভাব্য মাত্রা বোঝাতে জরুরি মূল্যায়ন।

কারাকাসের কয়েকটি এলাকায় বহুতল ভবন ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। বিশেষ করে লা গুয়াইরা, মিরান্দা, আরাগুয়া, কারাবোবোসহ কয়েকটি রাজ্যে বড় ধরনের ক্ষয়ক্ষতির খবর পাওয়া যাচ্ছে। কিছু এলাকায় রাস্তাঘাট, বিমানবন্দর ও গণপরিবহন ব্যবস্থাও ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে বলে স্থানীয় সূত্র জানিয়েছে।

ভূমিকম্পের পর ভূমিধস ও পরাঘাতের ঝুঁকি নিয়ে সতর্ক করা হয়েছে। উপকূলীয় অঞ্চলে প্রথমে সুনামি সতর্কতা জারি করা হলেও পরে তা প্রত্যাহার করা হয়। তবে ক্ষতিগ্রস্ত ভবন থেকে দূরে থাকার জন্য বাসিন্দাদের পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।

দুর্যোগের পর জরুরি অবস্থা ঘোষণা করা হয়েছে। উদ্ধারকর্মী, চিকিৎসক, পুলিশ ও স্বেচ্ছাসেবীরা ক্ষতিগ্রস্ত এলাকায় উদ্ধার ও চিকিৎসা কার্যক্রম চালাচ্ছেন। আন্তর্জাতিক মহল থেকেও ভেনেজুয়েলার পাশে দাঁড়ানোর আশ্বাস দেওয়া হয়েছে।

ভেনেজুয়েলায় এই ভূমিকম্প এমন এক দিনে আঘাত হানে, যখন দেশটিতে জাতীয় ছুটি ছিল। ফলে অনেক মানুষ নিজ নিজ ঘরে অবস্থান করছিলেন। এতে ক্ষয়ক্ষতির ঝুঁকি আরও বেড়েছে বলে ধারণা করা হচ্ছে।

পরিস্থিতি এখনো পরিবর্তনশীল। উদ্ধার অভিযান শেষ না হওয়া পর্যন্ত হতাহত ও ক্ষয়ক্ষতির প্রকৃত চিত্র জানা সম্ভব হবে না।
 

বিজ্ঞাপন

https://moreshopbd.com/