• সোমবার , ২১ সেপ্টেম্বর, ২০২৬ | ৫ আশ্বিন, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

বাংলাদেশ প্রসঙ্গে কড়া হুঁশিয়ারি পাকিস্তানি নেতার: ‘ভারত নজর দিলে জবাব দেবে পাকিস্তানের মিসাইল’

বাংলাদেশ প্রসঙ্গে কড়া হুঁশিয়ারি পাকিস্তানি নেতার: ‘ভারত নজর দিলে জবাব দেবে পাকিস্তানের মিসাইল’

অনলাইন ডেস্ক
অনলাইন ডেস্ক

প্রকাশিত: ১২:২৫ ২৩ ডিসেম্বর ২০২৫

বাংলাদেশকে ঘিরে ভারতের যেকোনো আগ্রাসী বা শত্রুতামূলক পদক্ষেপের বিরুদ্ধে কঠোর হুঁশিয়ারি দিয়েছেন পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী শেহবাজ শরীফের দল মুসলিম লীগ–এনের (পিএমএল–এন) এক প্রভাবশালী নেতা। তিনি বলেছেন, ভারত যদি বাংলাদেশের দিকে খারাপ কোনো অভিপ্রায়ে নজর দেয় বা হামলার চেষ্টা করে, তাহলে পাকিস্তানের সেনাবাহিনী ও মিসাইল তার জবাব দিতে প্রস্তুত।

ভারতীয় সংবাদমাধ্যম ইন্ডিয়া টুডে–র এক প্রতিবেদনে বলা হয়, পাকিস্তানি নেতা কামরান সাঈদ উসমানী এক ভিডিও বার্তায় এই বক্তব্য দেন। ওই ভিডিওতে তিনি বলেন, “যদি কেউ বাংলাদেশের সার্বভৌমত্বে আঘাত হানে, যদি ভারত খারাপ উদ্দেশ্যে বাংলাদেশের দিকে চোখ দেওয়ার সাহস দেখায়—তাহলে মনে রাখবে, পাকিস্তানের জনগণ, পাকিস্তানের সেনাবাহিনী এবং আমাদের মিসাইল খুব দূরে নয়।”

উসমানী অভিযোগ করেন, ভারত ‘অখণ্ড ভারত’ ধারণা বাস্তবায়নের অংশ হিসেবে বাংলাদেশে প্রভাব বিস্তারের চেষ্টা করছে। তিনি বলেন, বাংলাদেশের ওপর এমন কোনো রাজনৈতিক বা আদর্শিক চাপ পাকিস্তান মেনে নেবে না। তার ভাষায়, এ ধরনের উদ্যোগ আঞ্চলিক স্থিতিশীলতার জন্য হুমকি সৃষ্টি করবে।

ভারত–পাকিস্তান সম্পর্কের অতীত টানাপোড়েনের প্রসঙ্গ টেনে উসমানী দাবি করেন, পাকিস্তান আগেও ভারতকে কঠিন পরিস্থিতিতে ফেলেছে এবং প্রয়োজন হলে ভবিষ্যতেও তা করতে দ্বিধা করবে না। তিনি আরও অভিযোগ করেন, বাংলাদেশ সীমান্তে ভারতীয় সীমান্তরক্ষী বাহিনী (বিএসএফ) বিভিন্নভাবে বাংলাদেশকে উত্যক্ত করছে এবং দেশটির ভেতরে ধর্মীয় ও রাজনৈতিক ভারসাম্য নষ্ট করার চেষ্টা চলছে।

এ সময় তিনি আরও এক ধাপ এগিয়ে বাংলাদেশ ও পাকিস্তানের মধ্যে সামরিক জোট গঠনের প্রস্তাব দেন। উসমানী বলেন, “বাংলাদেশের উচিত পাকিস্তানের সঙ্গে সামরিক জোটে যাওয়া। বাংলাদেশে পাকিস্তানের এবং পাকিস্তানে বাংলাদেশের সামরিক ঘাঁটি স্থাপন করা উচিত।” তার মতে, এমন একটি জোট গঠিত হলে দক্ষিণ এশিয়ার আঞ্চলিক শক্তির ভারসাম্যে বড় ধরনের পরিবর্তন আসতে পারে।

বিশ্লেষকদের মতে, পাকিস্তানি এই নেতার বক্তব্য কেবল রাজনৈতিক মন্তব্য নয়; বরং এটি দক্ষিণ এশিয়ায় ক্রমবর্ধমান ভূরাজনৈতিক উত্তেজনার প্রতিফলন। বিশেষ করে বাংলাদেশকে কেন্দ্র করে ভারত–পাকিস্তান–চীন–যুক্তরাষ্ট্রের কৌশলগত হিসাব–নিকাশের প্রেক্ষাপটে এই ধরনের বক্তব্য নতুন করে আলোচনার জন্ম দিয়েছে।

বিজ্ঞাপন