• শুক্রবার , ১১ সেপ্টেম্বর, ২০২৬ | ২৭ ভাদ্র, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

সরকারি ব্যয় আরও কমাতে বলেছে আইএমএফ, বাংলাদেশের জন্য সতর্কবার্তা

সরকারি ব্যয় আরও কমাতে বলেছে আইএমএফ, বাংলাদেশের জন্য সতর্কবার্তা

অনলাইন ডেস্ক
অনলাইন ডেস্ক

প্রকাশিত: ০৫:৩২ ১১ সেপ্টেম্বর ২০২৬

আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিলের (আইএমএফ) ঋণ কর্মসূচির আওতায় থাকা দেশগুলোর ওপর সরকারি ব্যয় কমানোর চাপ গত এক দশকে উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়েছে বলে অভিযোগ করেছে আন্তর্জাতিক দাতব্য সংস্থা অক্সফাম। সংস্থাটি সতর্ক করেছে, অতিরিক্ত কৃচ্ছ্রসাধনের কারণে স্বাস্থ্য, শিক্ষা ও আবাসনের মতো গুরুত্বপূর্ণ জনসেবা খাত ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে।

বৃহস্পতিবার (১০ সেপ্টেম্বর) প্রকাশিত এক বিবৃতিতে এসব উদ্বেগের কথা জানায় অক্সফাম।

আইএমএফের কৃচ্ছ্রসাধনের চাপ বাড়ার অভিযোগ

অক্সফামের তথ্য অনুযায়ী, ২০১২ থেকে ২০১৭ সালের মধ্যে আইএমএফের ঋণগ্রহীতা দেশগুলোর জন্য নির্ধারিত কৃচ্ছ্রসাধনের মধ্যম বার্ষিক মাত্রা ছিল মোট দেশজ উৎপাদনের (জিডিপি) প্রায় শূন্য দশমিক ২১ শতাংশ।

তবে ২০১৮ থেকে ২০২৫ সালের মধ্যে এই হার চারগুণেরও বেশি বেড়ে প্রায় শূন্য দশমিক ৮৫ শতাংশে পৌঁছেছে বলে দাবি করেছে সংস্থাটি।

অক্সফামের আশঙ্কা, আইএমএফের বর্তমান নীতিমালা অনেক ক্ষেত্রে ১৯৮০-এর দশকের কঠোর ‘কাঠামোগত সমন্বয়’ কর্মসূচির দিকে ফিরে যাওয়ার ইঙ্গিত দিচ্ছে।

স্বাস্থ্য-শিক্ষায় প্রভাব নিয়ে উদ্বেগ

অক্সফামের মতে, শুরুতেই বড় ধরনের সরকারি ব্যয় কমানোর চাপ তৈরি হলে নিম্নআয়ের মানুষ সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে। বিশেষ করে স্বাস্থ্য, শিক্ষা, আবাসন ও সামাজিক সুরক্ষার মতো খাতে ব্যয় কমে গেলে সাধারণ মানুষের জীবনযাত্রায় নেতিবাচক প্রভাব পড়ার আশঙ্কা রয়েছে।

অক্সফামের আন্তর্জাতিক জ্যেষ্ঠ নীতিবিষয়ক উপদেষ্টা নাবিল আবদো আইএমএফের এই নীতির সমালোচনা করেছেন। তার মতে, শুরুতেই বড় মাত্রায় কৃচ্ছ্রসাধনের চাপ দেওয়া হলে তা অর্থনীতির পাশাপাশি সাধারণ মানুষের ওপরও বড় ধরনের চাপ তৈরি করতে পারে।

অক্সফামের অভিযোগ নাকচ আইএমএফের

তবে অক্সফামের অভিযোগ সরাসরি নাকচ করেছে আইএমএফ। সংস্থাটির মুখপাত্র জুলি কোজাক জানিয়েছেন, আইএমএফের প্রতিটি ঋণ কর্মসূচিতেই ‘সামাজিক ব্যয়ের সীমা’ বা ‘সোশ্যাল স্পেন্ডিং ফ্লোর’ রাখা হয়।

এর লক্ষ্য হলো ঝুঁকিপূর্ণ ও অসহায় জনগোষ্ঠীর জন্য প্রয়োজনীয় সামাজিক ব্যয় সুরক্ষিত রাখা।

আইএমএফ আরও জানিয়েছে, শুধু সরকারি ব্যয় কমানোর ওপর গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে না। বরং দেশগুলো কীভাবে অভ্যন্তরীণ উৎস থেকে রাজস্ব ও কর আদায় বাড়াতে পারে, সেদিকেও গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে।

বাংলাদেশের জন্য কেন গুরুত্বপূর্ণ

আইএমএফের এই বৈশ্বিক বিতর্ক বাংলাদেশের অর্থনীতির বর্তমান পরিস্থিতির সঙ্গেও সম্পর্কিত। বাংলাদেশ বর্তমানে আইএমএফের ঋণ সহায়তা ও অর্থনৈতিক সংস্কার কর্মসূচির আওতায় রয়েছে।

দেশের সামষ্টিক অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতা ফিরিয়ে আনতে রাজস্ব আদায় বাড়ানো, ভর্তুকি যৌক্তিকীকরণ এবং সরকারি ব্যয় ব্যবস্থাপনায় সংস্কারের উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে।

আইএমএফের সাম্প্রতিক পর্যালোচনায় অর্থনৈতিক চাপ মোকাবিলায় অপ্রয়োজনীয় মূলধনি ব্যয় কমানোর পরামর্শ দেওয়া হলেও শিক্ষা, স্বাস্থ্য ও সামাজিক সুরক্ষা খাতকে অগ্রাধিকার দেওয়ার বিষয়টিও গুরুত্ব পেয়েছে।

সাধারণ মানুষের ওপর প্রভাব নিয়ে প্রশ্ন

চলতি ২০২৬ সালে বাংলাদেশের জন্য রাজস্ব সংগ্রহ বাড়ানোর পাশাপাশি সীমিত সম্পদের মধ্যে শিক্ষা, স্বাস্থ্য ও সামাজিক নিরাপত্তা খাতে ব্যয় অব্যাহত রাখাও গুরুত্বপূর্ণ।

তাই আইএমএফের ঋণ ও সংস্কারের শর্ত পূরণ করতে গিয়ে সরকারের কৃচ্ছ্রসাধনের মাত্রা কতটা হবে এবং এর ফলে সাধারণ মানুষের মৌলিক সেবা কতটা সুরক্ষিত থাকবে—এখন সেটিই বড় প্রশ্ন হয়ে দাঁড়িয়েছে।

অক্সফামের সাম্প্রতিক সতর্কতা বাংলাদেশের মতো উন্নয়নশীল দেশগুলোর জন্য এ কারণে বিশেষভাবে তাৎপর্যপূর্ণ।

বিজ্ঞাপন