• রবিবার , ০৪ অক্টোবর, ২০২৬ | ১৯ আশ্বিন, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

আকাশেই গতিপথ বদলাতে পারে এআই ক্ষেপণাস্ত্র, পরীক্ষা উত্তর কোরিয়ার

আকাশেই গতিপথ বদলাতে পারে এআই ক্ষেপণাস্ত্র, পরীক্ষা উত্তর কোরিয়ার

অনলাইন ডেস্ক
অনলাইন ডেস্ক

প্রকাশিত: ০২:৪৬ ৪ অক্টোবর ২০২৬

কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বা এআই প্রযুক্তি যুক্ত এমন একটি মধ্যম পাল্লার কৌশলগত ক্ষেপণাস্ত্র পরীক্ষা করার দাবি করেছে উত্তর কোরিয়া। পিয়ংইয়ংয়ের দাবি, কম উচ্চতায় উড়তে থাকা অবস্থাতেও ক্ষেপণাস্ত্রটি নিজের গতিপথ পরিবর্তন করতে পারে, যা প্রতিপক্ষের নজরদারি ও প্রতিরক্ষা ব্যবস্থাকে ফাঁকি দিতে সক্ষম।

শনিবার (৩ অক্টোবর) উত্তর কোরিয়ার পূর্বাঞ্চল থেকে পূর্ব সাগরের দিকে ক্ষেপণাস্ত্রটি উৎক্ষেপণ করা হয়। দেশটির নেতা কিম জং–উন সরাসরি এ সামরিক মহড়া তত্ত্বাবধান করেন।

এর আগে দক্ষিণ কোরিয়ার সামরিক বাহিনী জানায়, উত্তর কোরিয়া একটি ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র ছুড়েছে, যা ৭০০ কিলোমিটারের বেশি পথ অতিক্রম করেছে। উৎক্ষেপণের পর দক্ষিণ কোরিয়া, যুক্তরাষ্ট্র ও জাপান পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ এবং ক্ষেপণাস্ত্রসংক্রান্ত তথ্য আদান-প্রদান বাড়িয়েছে।

পরে উত্তর কোরিয়ার নেতা কিম জং–উনের বোন ও ক্ষমতাসীন দলের জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তা কিম ইয়ো–জং জানান, এটি ছিল একটি ‘মধ্যম পাল্লার কৌশলগত ক্ষেপণাস্ত্র’।

তার দাবি, ক্ষেপণাস্ত্রটিতে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার প্রযুক্তি যুক্ত রয়েছে এবং কম উচ্চতায় চলার সময়ও এটি উড্ডয়নপথ পরিবর্তন করতে পারে। তবে কীভাবে এআই প্রযুক্তি ক্ষেপণাস্ত্রটির পরিচালনায় ব্যবহার করা হয়েছে, সে বিষয়ে বিস্তারিত কোনো প্রযুক্তিগত তথ্য প্রকাশ করেনি পিয়ংইয়ং।

কিম ইয়ো–জং দাবি করেন, এ ধরনের গতিপথ পরিবর্তনের কারণে ক্ষেপণাস্ত্রটিকে প্রতিহত করা অত্যন্ত কঠিন। তিনি আরও বলেন, উত্তর কোরিয়ার এই প্রযুক্তি অন্য দেশগুলোর নাগালের বাইরে থাকবে বলে কিম জং–উন মনে করেন।

এর আগে দেশটির অস্ত্রব্যবস্থায় কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার ব্যবহার আরও বাড়ানোর ওপর গুরুত্ব দিয়েছিলেন কিম জং–উন।

কিম ইয়ো–জংয়ের ভাষ্য অনুযায়ী, উত্তর কোরিয়ার ক্ষেপণাস্ত্র যখন ‘ঢেউয়ের মতো আঁকাবাঁকা’ গতিপথে চলেছে, তখন দক্ষিণ কোরিয়া সেটির প্রাথমিক দিক পরিবর্তন শনাক্ত করলেও পরবর্তী সময়ে ধারাবাহিকভাবে নজরদারিতে রাখতে পারেনি। তবে পিয়ংইয়ংয়ের এই দাবি স্বাধীনভাবে নিশ্চিত করা হয়নি।

এদিকে সাম্প্রতিক সময়ে দুই কোরিয়ার মধ্যে সামরিক উত্তেজনাও বেড়েছে। সীমান্তের অসামরিকীকৃত অঞ্চলে বিস্ফোরণের ঘটনায় দক্ষিণ কোরিয়ার সেনাসদস্য আহত হওয়ার পর সিউল এর জন্য পিয়ংইয়ংকে দায়ী করে। উত্তর কোরিয়া ওই অভিযোগ প্রত্যাখ্যান করেছে।

সামরিক প্রযুক্তিতে এআই ব্যবহারের বিষয়টি নিয়ে বিশ্লেষকেরাও সতর্ক পর্যবেক্ষণের কথা বলছেন। সিউলভিত্তিক কোরিয়া ইনস্টিটিউট ফর মিলিটারি অ্যাফেয়ার্সের জ্যেষ্ঠ গবেষক হং সুং-পিওর মতে, বিশ্বজুড়ে সামরিক প্রযুক্তিতে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার ব্যবহার বাড়ছে এবং ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্রও এর বাইরে নয়।

তার মতে, এআই লক্ষ্যবস্তুর তথ্য বিশ্লেষণ থেকে শুরু করে উৎক্ষেপণ ও পরিচালনার বিভিন্ন পর্যায়ে সহায়তা করতে পারে। তবে উত্তর কোরিয়ার নতুন ক্ষেপণাস্ত্রটির এআই সক্ষমতা আসলে কতটা কার্যকর, তা এখনই নিশ্চিতভাবে বলা কঠিন।

হং সুং-পিও আরও বলেন, লক্ষ্যবস্তুর কাছাকাছি গিয়ে গতিপথ পরিবর্তন করতে সক্ষম ক্ষেপণাস্ত্র ঠেকানো কঠিন হতে পারে। তবে শুধু এ ধরনের সক্ষমতা থাকলেই যে ক্ষেপণাস্ত্রটি নিখুঁতভাবে লক্ষ্যবস্তুতে আঘাত করতে পারবে, তা নিশ্চিত নয়।

বিজ্ঞাপন