• শনিবার , ১০ অক্টোবর, ২০২৬ | ২৫ আশ্বিন, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

মক্কা প্রতিরক্ষা চুক্তিতে ইরানকে অন্তর্ভুক্তির প্রস্তাব রাশিয়ার

মক্কা প্রতিরক্ষা চুক্তিতে ইরানকে অন্তর্ভুক্তির প্রস্তাব রাশিয়ার

অনলাইন ডেস্ক
অনলাইন ডেস্ক

প্রকাশিত: ১১:৩৮ ৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬

পারস্য উপসাগরীয় অঞ্চলের নিরাপত্তা কাঠামোয় ইরানকে অন্তর্ভুক্ত করার পক্ষে মত দিয়েছে রাশিয়া। দেশটির পররাষ্ট্রমন্ত্রী সের্গেই ল্যাভরভ বলেছেন, ইরানকে মক্কা প্রতিরক্ষা চুক্তির প্রক্রিয়ায় যুক্ত করা হলে তা আঞ্চলিক নিরাপত্তা ও স্থিতিশীলতা জোরদারে কার্যকর পদক্ষেপ হতে পারে।

ইরানকে যুক্ত করার পক্ষে ল্যাভরভ

সোমবার (৭ সেপ্টেম্বর) মস্কো স্টেট ইনস্টিটিউট অব ইন্টারন্যাশনাল রিলেশনসের (এমজিআইএমও) শিক্ষক-শিক্ষার্থীদের সঙ্গে এক বৈঠকে এ মন্তব্য করেন ল্যাভরভ।

তিনি বলেন, পারস্য উপসাগরের নিরাপত্তা ব্যবস্থায় ইরানের অংশগ্রহণ আঞ্চলিক স্থিতিশীলতা প্রতিষ্ঠার ক্ষেত্রে বাস্তবসম্মত একটি পদক্ষেপ হতে পারে। তাঁর মতে, সাম্প্রতিক সামরিক উত্তেজনার অভিজ্ঞতা থেকে শিক্ষা নিয়ে উপসাগরীয় দেশগুলোর মধ্যে স্থায়ী নিরাপত্তা সহযোগিতার কাঠামো গড়ে তোলার সুযোগ তৈরি হয়েছে।

কী এই মক্কা প্রতিরক্ষা চুক্তি?

সৌদি আরব, তুরস্ক ও পাকিস্তান গত ৭ আগস্ট মক্কায় যৌথ প্রতিরক্ষা চুক্তিতে সই করে। চুক্তির মূল নীতির মধ্যে রয়েছে—তিন দেশের যেকোনো একটির ওপর সশস্ত্র হামলা হলে সেটিকে তিন দেশের ওপর হামলা হিসেবে বিবেচনা করা হবে।

তবে তুরস্ক ও পাকিস্তান উভয় পক্ষই জানিয়েছে, চুক্তিটি কোনো নির্দিষ্ট দেশের বিরুদ্ধে পরিচালিত নয়। তুরস্কের পররাষ্ট্রমন্ত্রী হাকান ফিদানও বলেছেন, চুক্তিতে ইরান বা অন্য কোনো দেশকে সাধারণ শত্রু হিসেবে চিহ্নিত করা হয়নি।

পুরোনো রুশ প্রস্তাবের প্রসঙ্গ

ল্যাভরভ জানান, প্রায় দুই দশক আগে রাশিয়া আরব রাজতন্ত্র ও ইরানসহ উপসাগরীয় দেশগুলোকে নিয়ে একটি আঞ্চলিক নিরাপত্তা কাঠামো তৈরির প্রস্তাব দিয়েছিল।

আরব লীগ, ইসলামি সহযোগিতা সংস্থা (ওআইসি) এবং জাতিসংঘ নিরাপত্তা পরিষদের পাঁচ স্থায়ী সদস্যকে নিয়ে একটি সমন্বিত প্রক্রিয়ার মাধ্যমে আঞ্চলিক নিরাপত্তা সমস্যার সমাধান করা যেতে পারে বলে মস্কো মনে করে।

মক্কা চুক্তিতে ইরান থাকলে কী হতে পারে?

ল্যাভরভের মতে, সৌদি আরব, পাকিস্তান ও তুরস্কের উদ্যোগে গঠিত মক্কা চুক্তির পরিধি বাড়িয়ে সেখানে ইরানকে অন্তর্ভুক্ত করা গেলে রাশিয়ার দীর্ঘদিনের আঞ্চলিক নিরাপত্তা ধারণার বাস্তবায়ন আরও কার্যকর হতে পারে।

মিশর ও আলজেরিয়ার মতো দেশগুলোকেও ভবিষ্যতে এই প্রক্রিয়ায় যুক্ত করার সুযোগ থাকতে পারে বলে তিনি উল্লেখ করেন। তবে এ ধরনের কোনো উদ্যোগে রাশিয়া নেতৃত্বের দাবি করবে না বলেও স্পষ্ট করেছেন ল্যাভরভ।

ইরানকে ঘিরে আগের বিতর্ক

এর আগে আগস্টে ইরান মক্কা প্রতিরক্ষা চুক্তিতে যোগ দেওয়ার কোনো আনুষ্ঠানিক আমন্ত্রণ পাওয়ার বিষয়টি অস্বীকার করেছিল। ইরানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র জানিয়েছিলেন, তেহরানের কাছে আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো আমন্ত্রণ পৌঁছায়নি।

অন্যদিকে, মক্কা চুক্তির সদস্যরা এটিকে আঞ্চলিক নিরাপত্তা জোরদারের একটি প্রতিরক্ষামূলক উদ্যোগ হিসেবে তুলে ধরেছে। ফলে ইরানকে এই কাঠামোয় যুক্ত করার রুশ প্রস্তাব বাস্তবে কীভাবে এগোয়, তা এখন নজরকাড়া বিষয় হয়ে উঠেছে।

বিজ্ঞাপন