মঙ্গলে কি সত্যিই ছিল প্রাণ? নাসার রোভার জানাচ্ছে চমকপ্রদ তথ্য


প্রকাশিত: ০৬:০৪ ২১ সেপ্টেম্বর ২০২৫
রাতের আকাশের অসংখ্য তারার দিকে তাকিয়ে মানুষ বহু শতাব্দী ধরে এক প্রশ্ন করে আসছে—আমরা কি সত্যিই একা? মহাবিশ্বের কোথাও কি আরেক প্রজাতির প্রাণ আছে, যারা আমাদের মতোই খুঁজে বেড়াচ্ছে উত্তর? কল্পনার গণ্ডি পেরিয়ে এখন বিজ্ঞানীরা বাস্তব অনুসন্ধানে নামছেন। সৌরজগতের ভেতরেই কোথাও প্রাণের অস্তিত্ব রয়েছে কি না, তা জানার জন্য একের পর এক মহাকাশ মিশন চলছে।
মঙ্গল: একসময় কি ছিল প্রাণের চিহ্ন?
বর্তমান মঙ্গল শুষ্ক ও বরফঠাণ্ডা এক মরুভূমি। তবে নাসার রোভারগুলো জানিয়েছে—অতীতে এই গ্রহে তরল পানি ছিল। আর পানি মানেই জীবনের সম্ভাবনা। কিউরিওসিটি ও পারসিভারিয়েন্স রোভার মঙ্গলের মাটি ও শিলার নমুনা সংগ্রহ করছে। এগুলো ভবিষ্যতে পৃথিবীতে ফিরিয়ে আনা হবে ‘মার্স স্যাম্পল রিটার্ন’ মিশনের মাধ্যমে।
যুক্তরাষ্ট্রের ইউনিভার্সিটি অব ফ্লোরিডার অধ্যাপক ও নাসার গবেষক অ্যামি উইলিয়ামস বলেন, “আমরা খুঁজছি, অতীতে মঙ্গলের পরিবেশ কি অণুজীবের টিকে থাকার মতো উপযুক্ত ছিল।”
শুক্র: চরম বৈরী পরিবেশের মধ্যেও সম্ভাবনা
শুক্রকে পৃথিবীর যমজ বলা হলেও এর পৃষ্ঠ এতটাই উষ্ণ ও চাপপ্রবণ যে প্রাণ টিকে থাকা প্রায় অসম্ভব। আবার আকাশজুড়ে সালফিউরিক অ্যাসিডের ঘন মেঘ। তবে বিজ্ঞানীরা বলছেন, শুক্রের উপরের বায়ুমণ্ডলে কিছু জায়গা তুলনামূলক সহনীয়, যেখানে চরম পরিবেশপ্রিয় অণুজীব থাকতে পারে।
এমআইটির নেতৃত্বে ‘মর্নিং স্টার’ মিশন শুক্রের মেঘ থেকে নমুনা সংগ্রহ করে পৃথিবীতে ফিরিয়ে আনবে। ২০২০ সালে শুক্রের মেঘে ফসফিন গ্যাস শনাক্তের দাবি হয়েছিল, যা জীবনধারণের সম্ভাবনার ইঙ্গিত দেয়। যদিও এ নিয়ে বিতর্ক রয়েছে, নতুন মিশন সেই প্রশ্নের উত্তর দেবে।
এনসেলাডাস ও ইউরোপা: বরফের নিচে মহাসাগর
শনির উপগ্রহ এনসেলাডাস ও বৃহস্পতির উপগ্রহ ইউরোপা—দুই উপগ্রহেই পুরু বরফের নিচে বিশাল মহাসাগরের প্রমাণ মিলেছে। এনসেলাডাসের ফোয়ারা থেকে লবণাক্ত পানির নমুনা সংগ্রহ করেছে ক্যাসিনি মিশন। সেখানে জীবনের জন্য জরুরি রাসায়নিক উপাদান ফসফেটও পাওয়া গেছে।
অন্যদিকে ইউরোপার ভেতরের মহাকর্ষীয় টান মহাসাগরকে তরল রাখে, যা পৃথিবীর গভীর সমুদ্রের মতো পরিবেশ সৃষ্টি করে। ইউরোপীয় মহাকাশ সংস্থার জুপিটার আইসি মুনস এক্সপ্লোরার ও নাসার ইউরোপা ক্লিপার মিশন আগামী দশকে সেখানে নতুন তথ্য নিয়ে আসবে।
টাইটান ও সেরেস: সম্ভাবনার নতুন দুয়ার
শনির উপগ্রহ টাইটানকে বলা হয় সৌরজগতের অন্যতম রহস্যময় জগৎ। এখানে নাইট্রোজেন ও মিথেনসমৃদ্ধ ঘন বায়ুমণ্ডল এবং মিথেন চক্র রয়েছে। বিজ্ঞানীরা বলছেন, এখানকার রাসায়নিক পরিবেশ জীবনের ভিত্তি গড়ে তুলতে পারে। নাসা একটি অক্টোকপ্টার মিশন পাঠানোর পরিকল্পনা করছে, যা টাইটানের বিভিন্ন অঞ্চল থেকে নমুনা সংগ্রহ করবে।
অন্যদিকে ছোট বামন গ্রহ সেরেসের বরফমোড়া পৃষ্ঠের নিচেও তরল পানির সম্ভাবনা দেখা যাচ্ছে, যা জীবনের অস্তিত্বের দ্বার খুলে দিতে পারে।
বিজ্ঞানীদের অভিমত
একাধিক গ্রহ ও উপগ্রহে সম্ভাব্য জীবনের পরিবেশ চিহ্নিত হলেও এখনো এর কোনো সরাসরি প্রমাণ মেলেনি। বিজ্ঞানীদের মতে, যদি প্রাণ থেকে থাকে, তবে তা অণুজীবের মতো সরল জীব হবে। তারা আমাদের সঙ্গে যোগাযোগ করতে সক্ষম নয়। তাই মানবজাতিকেই এগিয়ে যেতে হবে এই অনুসন্ধানে।
বিজ্ঞাপন
- কাজের সুযোগ দিতে শারীরিক সম্পর্কের প্রস্তাব, বিস্ফোরক অভিযোগ অভিনেত্রী নীতি টেলরের
- বাংলাদেশের বিপক্ষে ব্যাটিংয়ে চোট, মাঠ ছাড়লেন হাশমতউল্লাহ
- ক্ষুদ্র উদ্যোক্তাদের জন্য বিশেষ ঋণ সুবিধা, সুযোগ দিচ্ছে বাংলাদেশ ব্যাংক
- ভারতের আন্দোলনের পেছনে বাংলাদেশের সংশ্লিষ্টতার অভিযোগ দিলীপ ঘোষের
- দেশে ফেরা প্রবাসীদের প্রশিক্ষণ ও পুনর্বাসনে কাজ করছে সরকার: নুর
- কেজিতে ৩ টাকা পর্যন্ত বাড়ল চালের দাম, ডিম-মুরগির বাজারেও স্বস্তি নেই
- মুম্বাইয়ে আটক হওয়ার পর শরীরে আঘাতের চিহ্ন দেখালেন আমির খানের ভাতিজি
- রবীন্দ্রনাথের গ্রাফিতিতে চুনকালি, জামায়াত নেতার উপদেষ্টার বিরুদ্ধে রাশেদ খাঁনের অভিযোগ
- ভবিষ্যৎ ফুটবলের ১০ তারকা বেছে নিলেন মেসি, তালিকায় কারা?
- দিল্লিতে ফের বিক্ষোভের প্রস্তুতি, পুলিশকে ২৪ ঘণ্টার সময় দিল ককরোচ জনতা পার্টি
- রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্রের জ্বালানি আজ পৌঁছাচ্ছে বাংলাদেশে
- পাঠাওয়ের ১ কোটি ৯০ লাখ ব্যবহারকারীর তথ্য ফাঁসের দাবি, চাওয়া হয়েছে ৪ লাখ ডলার
- শেষ ম্যাচে গোল-অ্যাসিস্ট, সতীর্থদের ভালোবাসায় বিদায় মেসির
- জাতীয় দলের শিবির ছাড়ায় ৬ মাসের নিষেধাজ্ঞার ঝুঁকিতে রোনালদো
- মেসির বিদায়ে রোনালদোর আবেগঘন বার্তা, জানালেন ‘পূর্ণ শ্রদ্ধা’
- ৮ মাস পর চালু, দুই দিনের মাথায় ফের বন্ধ যমুনা সার কারখানা
- অসংখ্য ডিসেম্বর আসবে-যাবে, শেখ হাসিনা দেশে ফিরবেন না: রাশেদ খাঁন
- সাভারের বনগাঁওয়ে তিন দিনব্যাপী মশক নিধন কার্যক্রম শুরু
- নিম্নস্তরের সিগারেটের দাম আবার বাড়ল, ১০ শলাকা এখন ৬৫ টাকা
- প্রেম, অভিমান আর ‘আকাশের ঠিকানায় চিঠি’: রুদ্র–তসলিমার অজানা গল্প