• বুধবার , ১২ আগস্ট, ২০২৬ | ২৮ শ্রাবণ, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

চাঁদাবাজি মামলায় চট্টগ্রামের শীর্ষ ‘সন্ত্রাসী’ ডেভিড ইমন পাঁচ দিনের রিমান্ডে

চাঁদাবাজি মামলায় চট্টগ্রামের শীর্ষ ‘সন্ত্রাসী’ ডেভিড ইমন পাঁচ দিনের রিমান্ডে

অনলাইন ডেস্ক
অনলাইন ডেস্ক

প্রকাশিত: ০২:৫৩ ১২ আগস্ট ২০২৬

চট্টগ্রামের হাটহাজারী থানায় দায়ের করা একটি চাঁদাবাজি মামলায় মোবারক হোসেন ওরফে ডেভিড ইমনের পাঁচ দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেছেন আদালত। চাঁদা না পেয়ে এক ব্যবসায়ীর নির্মাণাধীন ভবনে হামলা ও ককটেল বিস্ফোরণের অভিযোগে করা মামলায় পুলিশের আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে এ রিমান্ড দেওয়া হয়।

বুধবার (১২ আগস্ট) শুনানি শেষে চট্টগ্রাম জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট লোকমান হাকিমের আদালত রিমান্ডের আদেশ দেন।

চট্টগ্রামের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার কাজী মোহাম্মদ তারেক আজিজ বিষয়টি নিশ্চিত করে জানান, হাটহাজারীর বড়দিঘির পাড় এলাকায় একটি নির্মাণাধীন ভবনে হামলা ও ককটেল বিস্ফোরণের ঘটনায় ডেভিড ইমনের রিমান্ড চাওয়া হয়েছিল। শুনানি শেষে আদালত পাঁচ দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেছেন।

৫০ লাখ টাকা চাঁদা দাবির অভিযোগ

পুলিশ ও মামলার তথ্য অনুযায়ী, গত জুলাইয়ে হাটহাজারীর বড়দিঘির পাড় এলাকার ব্যবসায়ী জসিম উদ্দিনের একটি নির্মাণাধীন ভবনে হামলা ও ককটেল বিস্ফোরণের ঘটনা ঘটে। এর আগে ওই ব্যবসায়ীর কাছে ৫০ লাখ টাকা চাঁদা দাবি করা হয়েছিল বলে অভিযোগ রয়েছে।

হামলা ও বিস্ফোরণের ঘটনায় জসিম উদ্দিন হাটহাজারী থানায় মামলা করেন। সেই মামলায় তদন্তের অংশ হিসেবে ডেভিড ইমনের রিমান্ড চাওয়া হয়।

কঠোর নিরাপত্তায় আদালতে হাজির

ডেভিড ইমনকে বুধবার সকালে কঠোর নিরাপত্তার মধ্য দিয়ে চট্টগ্রাম কেন্দ্রীয় কারাগার থেকে আদালতে হাজির করা হয়। তাকে আদালতে আনার আগে থেকেই আদালত প্রাঙ্গণে অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়।

এর আগে গত ২৯ জুলাই যশোরের কোতোয়ালি এলাকা থেকে ডেভিড ইমনকে গ্রেপ্তার করা হয়। তার দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে পরদিন ৩০ জুলাই ফটিকছড়িতে অভিযান চালিয়ে একটি বিদেশি পিস্তলসহ দেশীয় অস্ত্র উদ্ধার করে পুলিশ।

একাধিক মামলায় আসামি

পুলিশের তথ্য অনুযায়ী, চট্টগ্রাম মহানগর ও জেলার বিভিন্ন থানায় ডেভিড ইমনের বিরুদ্ধে হত্যা, অস্ত্র ও চাঁদাবাজিসহ অন্তত ১৫টি মামলা রয়েছে।

গ্রেপ্তারের পরদিন তাকে আদালতে হাজির করা হলে ফটিকছড়ি থানার একটি হত্যা ও একটি অস্ত্র মামলায় গ্রেপ্তার দেখানো হয়। পরে তাকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য রিমান্ডের আবেদন করে পুলিশ। ওই দুই মামলায় আদালত মোট ১০ দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেছিলেন।

বড় সাজ্জাদের হয়ে কর্মকাণ্ড পরিচালনার অভিযোগ

পুলিশ কর্মকর্তাদের দাবি, বিদেশে পলাতক কথিত শীর্ষ সন্ত্রাসী সাজ্জাদ আলী ওরফে বড় সাজ্জাদের হয়ে চট্টগ্রামে অপরাধমূলক কর্মকাণ্ড পরিচালনায় নেতৃত্ব দেওয়া দুজনের একজন ডেভিড ইমন। অন্যজন মোহাম্মদ রায়হান।

পুলিশের দাবি, বড় সাজ্জাদের বাহিনীতে প্রায় ৫০ জন শুটার ও সহযোগী সক্রিয় রয়েছেন। ব্যবসায়ী, প্রবাসী ও বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের কাছে নিয়মিত চাঁদা দাবির জন্য ডেভিড ইমন ফোন করতেন বলেও পুলিশ জানিয়েছে।

ক্রিকেটের সঙ্গে যুক্ত ছিলেন ডেভিড ইমন

স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, চট্টগ্রামের ফটিকছড়ি উপজেলার কাঞ্চননগর এলাকার বাসিন্দা ডেভিড ইমন দুই ভাই ও দুই বোনের মধ্যে সবার বড়। তার বাবা মো. মুসা ওমানে প্রবাসী ছিলেন এবং কয়েক বছর আগে মারা যান।

স্কুলজীবন থেকেই ক্রিকেটের প্রতি আগ্রহ ছিল ইমনের। কাঞ্চননগর থেকে সাইকেলে ফটিকছড়ি কলেজ মাঠে গিয়ে অনুশীলন করতেন তিনি। পরে চট্টগ্রাম নগরের অক্সিজেন এলাকায় খালার বাসায় থেকে নিয়মিত ক্রিকেট প্রশিক্ষণ নেন। চট্টগ্রাম ব্রাদার্স একাডেমির হয়ে খেলতেন এবং কাজীর দেউড়ি স্টেডিয়ামে অনুশীলন করতেন।

পুলিশের তথ্য অনুযায়ী, ২০২৪ সালের ৫ আগস্টের পর কথিত সন্ত্রাসী সাজ্জাদ আলীর সঙ্গে যুক্ত হন ইমন। এরপর ধীরে ধীরে বিভিন্ন অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডে তার সম্পৃক্ততার অভিযোগ সামনে আসে।

মামলার তদন্তে ডেভিড ইমনের বিরুদ্ধে ওঠা অভিযোগগুলোর বিষয়ে আরও তথ্য পাওয়া যাবে বলে জানিয়েছে পুলিশ। আদালতের দেওয়া পাঁচ দিনের রিমান্ডে তাকে এসব বিষয়ে জিজ্ঞাসাবাদ করা হবে।

বিজ্ঞাপন