• শুক্রবার , ০১ মে, ২০২৬ | ১৭ বৈশাখ, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

যেখানে বাধা, সেখানেই প্রতিরোধ গড়ে তোলা হবে ইনশাআল্লাহ: জামায়াতে ইসলামীর মহিলা উইং

যেখানে বাধা, সেখানেই প্রতিরোধ গড়ে তোলা হবে ইনশাআল্লাহ: জামায়াতে ইসলামীর মহিলা উইং

মোরনিউজ ডেস্ক
মোরনিউজ ডেস্ক

প্রকাশিত: ১০:০৯ ২ ফেব্রুয়ারী ২০২৬

নির্বাচন সামনে রেখে সারা দেশে নারী কর্মীদের ওপর হামলা ও গভীর ষড়যন্ত্র চলছে বলে অভিযোগ করেছে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর মহিলা উইং। তবে কোনো বাধাই নারী ভোটারদের দমাতে পারবে না বলে হুঁশিয়ারি দিয়েছেন সংগঠনের নেত্রীরা।

রোববার (১ ফেব্রুয়ারি) প্রধান নির্বাচন কমিশনারের (সিইসি) কাছে একটি স্মারকলিপি জমা দেন জামায়াতে ইসলামীর মহিলা উইংয়ের নেত্রীরা। স্মারকলিপিতে নারী কর্মীদের নিরাপত্তা, সুষ্ঠু ভোটের পরিবেশ এবং লেভেল প্লেয়িং ফিল্ড নিশ্চিত করার দাবি জানানো হয়।

নির্বাচন কমিশনের সঙ্গে সাক্ষাৎ শেষে সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলেন জামায়াতে ইসলামীর কেন্দ্রীয় নেত্রী ও মহিলা বিভাগের প্রতিনিধি দল। প্রতিনিধি দলে ছিলেন মহিলা বিভাগের সেক্রেটারি জেনারেল নেসা সিদ্দিকা, সহকারী সেক্রেটারি সাইদা রহমান এবং রাজনৈতিক বিষয়ক দায়িত্বপ্রাপ্ত ডা. হাবিবা চৌধুরী।

বৈঠক শেষে ডা. হাবিবা চৌধুরী বলেন, দেশের মোট ভোটারের প্রায় ৫০ শতাংশ নারী। আমরা একটি সুষ্ঠু ও শান্তিপূর্ণ পরিবেশে ভোট দিতে চাই। গত ১৫–১৬ বছর ধরে আমাদের মা-বোনেরা ভোটাধিকার থেকে বঞ্চিত ছিলেন। এবার সেই সুযোগ নষ্ট করতে একটি মহল গভীর ষড়যন্ত্রে লিপ্ত। দেশের অন্তত ১৫টি স্থানে নারীদের ওপর হামলার সচিত্র নথিপত্র আমরা নির্বাচন কমিশনে জমা দিয়েছি।

তিনি আরও বলেন, আমাদের ভয় দেখিয়ে কোনো লাভ নেই। নারীরা অবলা নয়, আমরা সাহসী। যেখানে বাধা আসবে, সেখানেই প্রতিরোধ গড়ে তোলা হবে ইনশাআল্লাহ।

সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবে মহিলা বিভাগের সেক্রেটারি নেসা সিদ্দিকা বলেন, জামায়াতে ইসলামী একটি ইসলামী সংগঠন এবং আমরা কোরআনের বিধান মেনে চলি। আল্লাহ তায়ালা পুরুষকে নারীর পরিচালক বানিয়েছেন। তাই শীর্ষ পদে নারী নেতৃত্ব আমাদের কাছে মুখ্য বিষয় নয়; মুখ্য হলো নারীর অধিকার ও নিরাপত্তা নিশ্চিত করা। গত ৫৪ বছরে দেশে দুজন নারী প্রধানমন্ত্রী ছিলেন, কিন্তু তাতে নারীদের নিরাপত্তা কি নিশ্চিত হয়েছে?

তিনি আরও জানান, জামায়াতে ইসলামীর মজলিসে শুরার উপদেষ্টা কমিটিতে প্রায় ৪৩ শতাংশ নারী প্রতিনিধি রয়েছেন এবং স্থানীয় নির্বাচনগুলোতেও নারীরা ব্যাপকভাবে অংশগ্রহণ করছেন।

নির্বাচন পরবর্তী পরিস্থিতি প্রসঙ্গে জামায়াত নেত্রীরা অভিযোগ করেন, মাঠ পর্যায়ে এখনো লেভেল প্লেয়িং ফিল্ড নিশ্চিত হয়নি। শরিফ ওসমান হাদি ও রেজাউল করিম হত্যাকাণ্ডের উদাহরণ টেনে তারা বলেন, প্রশাসন ও নির্বাচন কমিশনকে নিরপেক্ষ থাকতে হবে। কোনো নির্দিষ্ট দলের প্রতি পক্ষপাতিত্ব হলে নির্বাচন প্রশ্নবিদ্ধ হবে।

এ সময় বিএনপির পক্ষ থেকে উত্থাপিত অভিযোগগুলোকে ‘আজগুবি’ ও ‘ভীতু মানসিকতার বহিঃপ্রকাশ’ বলে মন্তব্য করেন প্রতিনিধি দলের সদস্যরা। তাদের দাবি, জামায়াতের প্রতি জনগণের ক্রমবর্ধমান সমর্থন দেখে একটি পক্ষ অস্থির হয়ে এসব বক্তব্য দিচ্ছে।

স্মারকলিপি গ্রহণের পর নির্বাচন কমিশনাররা অভিযোগগুলো গুরুত্বের সঙ্গে শুনেছেন এবং প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার আশ্বাস দিয়েছেন বলে জানান ডা. হাবিবা চৌধুরী। তিনি বলেন, নির্বাচন কমিশন আমাদের আশ্বস্ত করেছে যে তারা বিষয়গুলো ইতিবাচকভাবে দেখবে এবং সুষ্ঠু ভোটের পরিবেশ নিশ্চিত করতে কাজ করবে।

বিজ্ঞাপন

https://moreshopbd.com/