• বুধবার , ২০ মে, ২০২৬ | ৬ জ্যৈষ্ঠ, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

সিদ্ধিরগঞ্জে সন্তান বিক্রির অভিযোগ: বাবাসহ গ্রেপ্তার তিন

সিদ্ধিরগঞ্জে সন্তান বিক্রির অভিযোগ: বাবাসহ গ্রেপ্তার তিন

অনলাইন ডেস্ক
অনলাইন ডেস্ক

প্রকাশিত: ০৪:৫২ ২০ মে ২০২৬

নারায়ণগঞ্জের সিদ্ধিরগঞ্জে নিজ সন্তানদের পাচারের উদ্দেশ্যে বিক্রির অভিযোগে চাঞ্চল্যকর এক ঘটনার রহস্য উদঘাটন করেছে পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন (পিবিআই)। এ ঘটনায় দুই শিশুকে নিরাপদে উদ্ধার করার পাশাপাশি তাদের বাবাসহ তিনজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। ঘটনাটি এলাকায় ব্যাপক আলোচনার জন্ম দিয়েছে।

পিবিআই সূত্রে জানা গেছে, গ্রেপ্তার হওয়া ব্যক্তিরা হলেন শিশু দুটির বাবা মেজবাহ উদ্দিন, কথিত মানব পাচার চক্রের সদস্য এমদাদুল হক রাব্বানী এবং নুর-ই-নাসরিন। এর মধ্যে মেজবাহ উদ্দিন আদালতে জবানবন্দি দিয়েছেন বলে জানা গেছে।

উদ্ধার হওয়া শিশুদের মধ্যে একজনের বয়স পাঁচ বছর এবং অন্যজনের বয়স মাত্র ২৮ দিন। তারা সিদ্ধিরগঞ্জের একটি এলাকার বাসিন্দা। অভিযোগ অনুযায়ী, দীর্ঘদিন ধরেই পারিবারিক কলহ ও আর্থিক সংকটকে কেন্দ্র করে পরিবারটিতে অশান্তি চলছিল।

তদন্ত সংশ্লিষ্টরা বলছেন, সাত বছর আগে দাম্পত্য জীবন শুরু হলেও সময়ের সঙ্গে সম্পর্কের অবনতি ঘটে। অভিযোগ রয়েছে, মেজবাহ উদ্দিন সংসারে অশান্তি সৃষ্টি করতেন এবং নিয়মিত টাকার জন্য চাপ দিতেন। এমনকি টাকা না পেলে সন্তানদের বিক্রি করে দেওয়ার হুমকিও দেওয়া হতো বলে অভিযোগ উঠেছে।

ঘটনার সূত্রপাত হয় গত এপ্রিল মাসে। অভিযোগ অনুযায়ী, পরিচিত এক ব্যক্তির সহায়তায় পরিকল্পিতভাবে দুই শিশুকে বাসা থেকে সরিয়ে নেওয়া হয়। পরে শিশুদের মা বিভিন্ন মাধ্যমে জানতে পারেন, তাদের পাচারের উদ্দেশ্যে বিক্রির চেষ্টা চলছে। সন্তানদের খোঁজ না পেয়ে তিনি থানায় অভিযোগ দায়ের করেন।

মামলার তদন্তে নামে পিবিআইয়ের একটি বিশেষ দল। প্রযুক্তিগত তথ্য ও গোয়েন্দা নজরদারির মাধ্যমে রাজধানীর বিভিন্ন এলাকায় অভিযান চালানো হয়। প্রথমে সাভারের একটি এলাকা থেকে বড় শিশুটিকে উদ্ধার করা হয় এবং আটক করা হয় তার বাবাকে। পরে তার দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে আরও অভিযান চালিয়ে বাকি দুজনকে গ্রেপ্তার করা হয়। একই অভিযানে রাজধানীর অন্য একটি এলাকা থেকে ছোট শিশুটিকেও উদ্ধার করা হয়।

প্রাথমিক তদন্তে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী জানতে পেরেছে, গ্রেপ্তার হওয়া এক ব্যক্তি শিশু পাচারের সঙ্গে জড়িত একটি সংঘবদ্ধ চক্রের সদস্য হতে পারেন। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমসহ বিভিন্ন মাধ্যমে অসহায় ও দরিদ্র পরিবারকে লক্ষ্য করে শিশু সংগ্রহের অভিযোগও উঠেছে তার বিরুদ্ধে।

এদিকে তদন্তে আরও উঠে এসেছে, অভিযুক্ত বাবা মাদক ও অনলাইন জুয়ার সঙ্গে সম্পৃক্ত ছিলেন বলে অভিযোগ রয়েছে। তার বিরুদ্ধে একাধিক বিয়ে এবং অর্থের বিনিময়ে সন্তান বিক্রির মতো গুরুতর অভিযোগও খতিয়ে দেখা হচ্ছে।

পিবিআই জানিয়েছে, পুরো ঘটনার পেছনে আরও কেউ জড়িত আছে কি না তা খুঁজে দেখা হচ্ছে। গ্রেপ্তারদের জিজ্ঞাসাবাদ অব্যাহত রয়েছে এবং তদন্তের পরিধিও বাড়ানো হয়েছে।

বিজ্ঞাপন

https://moreshopbd.com/