রবিবার , ০১ ফেব্রুয়ারি, ২০২৬ | ১৯ মাঘ, ১৪৩২ বঙ্গাব্দ

প্রকাশিত: ১২:২০ ৯ জানুয়ারী ২০২৬
আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ে গভীর অসন্তোষ প্রকাশ করেছেন বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। তিনি বলেন, দেশের মানুষ দীর্ঘদিন ধরে একটি গ্রহণযোগ্য নির্বাচনের অপেক্ষায় রয়েছে। কিন্তু বর্তমানে যে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে, তাতে তিনি সন্তুষ্ট নন। রাজনৈতিক হত্যাকাণ্ড বেড়ে যাওয়ায় তিনি উদ্বেগ প্রকাশ করে বলেন, বিশেষ করে বিএনপির কয়েকজন নেতাকে পরিকল্পিতভাবে হত্যা করা হয়েছে, যার তীব্র নিন্দা জানানো হলেও সরকারের পক্ষ থেকে কার্যকর কোনো পদক্ষেপ দেখা যায়নি।
শুক্রবার (৯ জানুয়ারি) সকালে ঠাকুরগাঁও শহরের কালিবাড়িতে নিজ বাসভবনে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে মির্জা ফখরুল এসব কথা বলেন। তিনি আশা প্রকাশ করে বলেন, সরকার এ বিষয়ে আরও দায়িত্বশীল ভূমিকা পালন করবে এবং নির্বাচনের সময় যেন এ ধরনের সহিংস ঘটনা পুনরাবৃত্তি না ঘটে, সে জন্য আইনশৃঙ্খলা বাহিনীকে আরও সক্রিয় হতে হবে।
বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানের সফর প্রসঙ্গে মির্জা ফখরুল বলেন, এই সফর মূলত একটি ব্যক্তিগত ও মানবিক সফর। তারেক রহমান তার নিজ জেলা বগুড়ায় যাবেন, সেখান থেকে রংপুরে গিয়ে জুলাই শহীদ আবু সাঈদের কবর জিয়ারত করবেন। এরপর তিনি দিনাজপুরে তার নানীর কবর জিয়ারত করবেন এবং ঠাকুরগাঁওয়ে কয়েকজন শহিদের কবর জিয়ারত করবেন। পাশাপাশি বেগম খালেদা জিয়ার ইন্তেকালে আয়োজিত একটি গণদোয়ায় অংশ নেবেন। তিনি বলেন, এটি রাজনৈতিক কর্মসূচির চেয়ে বেশি ব্যক্তিগত শুভেচ্ছা ও শ্রদ্ধা জানানোর সফর।
মির্জা ফখরুল আরও বলেন, তারেক রহমান দেশে ফেরার সময় ঢাকায় লক্ষাধিক মানুষ তাকে সংবর্ধনা জানিয়েছিল। এখন তিনি জেলাগুলোতে যাচ্ছেন, এতে স্বাভাবিকভাবেই দলীয় নেতাকর্মীরা উজ্জীবিত হবেন। তবে তিনি জোর দিয়ে বলেন, বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর নির্বাচন কখনোই জাতীয় নির্বাচনে প্রভাব ফেলেনি এবং এবারও ফেলবে না বলে তিনি আশাবাদী।
তিনি অভিযোগ করেন, বিগত ফ্যাসিস্ট সরকারের আমলে বিএনপির ছাত্র সংগঠনগুলো বিশেষ করে ছাত্রদলকে বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতে কাজ করতে দেওয়া হয়নি। ফলে তারা দীর্ঘদিন সাংগঠনিক কার্যক্রম চালাতে পারেনি। তবুও গণতান্ত্রিক ধারায় ফেরার জন্য বিএনপি শান্তিপূর্ণ ও নিয়মতান্ত্রিক রাজনীতিতে বিশ্বাসী বলে উল্লেখ করেন তিনি।
গণভোট ও সংস্কার প্রসঙ্গে মির্জা ফখরুল বলেন, বিএনপি শুরু থেকেই একই দিনে গণভোট ও জাতীয় সংসদ নির্বাচন চেয়েছিল, যা এখন বাস্তবায়িত হচ্ছে। সংসদের যেসব সংস্কার নিয়ে গণভোট হচ্ছে, সেগুলো বহুদিন ধরেই বিএনপির দাবি। ২০১৬ ও ২০২৩ সালে ৩১ দফা প্রস্তাবের মাধ্যমে এসব সংস্কার জাতির সামনে তুলে ধরা হয়েছিল। তাই সংস্কার একটি চলমান প্রক্রিয়া উল্লেখ করে তিনি বলেন, এতে ‘না’ বলার কোনো কারণ তিনি দেখছেন না।
