আপসহীনতার সাত বছর: কারাগার, গৃহবন্দিত্ব ও গণতন্ত্রের পথে খালেদা জিয়ার অটল যাত্রা


প্রকাশিত: ১০:২০ ৩০ ডিসেম্বর ২০২৫
ভেবেছিলেন তিনি আপস করবেন? দেশ ছেড়ে চলে যাবেন? ইতিহাস সে প্রশ্নের জবাব দিয়েছে স্পষ্ট ভাষায়—না। ৮ ফেব্রুয়ারি ২০১৮। আদালতের বারান্দায় দাঁড়িয়ে দৃপ্ত কণ্ঠে বেগম খালেদা জিয়া জানিয়ে দিয়েছিলেন, গণতন্ত্রের লড়াইয়ে কারাবাসই যদি তার ভাগ্যে লেখা থাকে, তবে সেটিই তিনি মাথা পেতে নেবেন। সেদিন থেকেই শুরু হয় এক আপসহীন নেত্রীর দীর্ঘ বন্দিত্বের অধ্যায়—যা কেবল একজন রাজনীতিকের নয়, বরং একটি আদর্শের পরীক্ষাও ছিল।
সেদিন রায়ের পর তিনি বলেছিলেন, “আমি কোনো অন্যায় করিনি। আমি জনগণের জন্য রাজনীতি করি। আমার ওপর যে রায় দেওয়া হয়েছে, তা রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত। কিন্তু আমি মাথানত করবো না।” এই বক্তব্যেই ধরা পড়ে তার অবস্থান—ব্যক্তিগত স্বস্তির বিনিময়ে আদর্শ বিসর্জন নয়। আওয়ামী লীগ সরকারের সামনে দেশত্যাগ অথবা কারাবাস—এই দুইয়ের একটিকে বেছে নেওয়ার শর্ত এলে তিনি বেছে নেন কারাগার। অভিযোগ ওঠে, শেখ হাসিনার রাজনৈতিক প্রতিহিংসা বাস্তবায়নে এক-এগারোর সেনাসমর্থিত সরকারের দায়ের করা মামলাগুলোতে ফরমায়েশি রায় দেওয়া হয়।
কারাগারের ভেতর কেটেছে তার জীবনের সবচেয়ে নিঃসঙ্গ সময়। টানা তিন বছর তিনি ছিলেন নির্জন কারাবাসে। বয়স ও নানা জটিল অসুস্থতা তাকে কাবু করলেও মনোবল ভাঙতে পারেনি। পরিবারের পক্ষ থেকে বিদেশে উন্নত চিকিৎসার আবেদন বারবার জানানো হলেও তা নাকচ করে দেওয়া হয়। এই সময়ে কারাগারের চার দেয়াল শুধু তাকে বন্দি করেনি, বরং রাষ্ট্রীয় নিষ্ঠুরতার এক নীরব সাক্ষী হয়ে উঠেছিল।
২০২১ সালের ২৫ মার্চ সরকারের নির্বাহী আদেশে শর্তসাপেক্ষে মুক্তি পান বেগম খালেদা জিয়া। তবে এই মুক্তি ছিল প্রকৃত অর্থে স্বাধীনতা নয়—এটি ছিল এক ধরনের গৃহবন্দিত্ব। চিকিৎসার প্রয়োজনে বিদেশে যাওয়ার আবেদন জানালে সরকার শর্ত জুড়ে দেয়—রাজনীতি ছাড়তে হবে। কিন্তু আপসহীন এই নেত্রী আবারও প্রমাণ করেন, ক্ষমতার সঙ্গে সমঝোতা নয়, ন্যায়ের পক্ষেই তার অবস্থান। তিনি সেই শর্ত প্রত্যাখ্যান করেন।
এরপর কেটে যায় আরও তিনটি বছর—নির্যাতন, অবরোধ ও সীমাবদ্ধতার মধ্য দিয়ে। অবশেষে ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট আসে বাংলাদেশের ইতিহাসে এক নতুন সকাল। গণ-অভ্যুত্থানের মধ্য দিয়ে ফ্যাসিবাদের পতন ঘটে। দীর্ঘ বন্দিত্ব ও গৃহবন্দিত্বের অবসান হয়। মুক্তি পান নিরপরাধ বেগম খালেদা জিয়া। গণ-অভ্যুত্থানের প্রথম দিনেই জনগণ তাদের নেত্রীকে স্বাগত জানায়—ফিরে আসে ন্যায়বিচার ও গণতন্ত্রের নতুন স্বপ্ন।
সাত বছরের বন্দিত্বের এই গল্প কেবল দুঃখগাথা নয়; এটি আপসহীনতার দলিল। কারাগার, অসুস্থতা, নিঃসঙ্গতা—কিছুই তাকে নত করতে পারেনি। ইতিহাসে তিনি থেকে যাবেন সেই নেত্রী হিসেবে, যিনি ব্যক্তিগত মুক্তির চেয়ে দেশের গণতন্ত্রকে বড় করে দেখেছিলেন।
সর্বোচ্চ পঠিত - রাজনীতি
- চামড়া পাচার রোধে কঠোর নির্দেশ, জুলাইয়ে আসছে চামড়া খাতের মহাপরিকল্পনা
- ৬ নবজাতকের মৃত্যুর ঘটনায় আইনি নোটিশ, দায়ীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা ও ক্ষতিপূরণ দাবি
- যে বক্তব্যে তোলপাড়, অবশেষে তা প্রত্যাহার করলেন ববি হাজ্জাজ
- নেইমারের জন্য বিশাল ত্যাগ স্বীকার ভিনিসিয়ুস জুনিয়রের
- অমরত্বের খোঁজে পুতিন! মেয়ের নেতৃত্বে ২৬ বিলিয়ন ডলারের ‘দীর্ঘায়ু’ প্রকল্প
- ‘ডন থ্রি’ বিতর্কে সালমানের মধ্যস্থতা, মুখোমুখি রণবীর-ফারহান দ্বন্দ্ব
- কওমি শিক্ষার্থীদের বিরোধিতায় ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় ‘বনলতা এক্সপ্রেস’ প্রদর্শনী স্থগিত
- জিয়াউর রহমানের শাহাদাতবার্ষিকীতে ভারতীয় হাইকমিশনের শ্রদ্ধা
- ডিম না খেতে চাইলে ভালো হয়ে যাও-এনসিপি নেতা পাটওয়ারীকে রাশেদ খানের কড়া বার্তা
- ত্যাগের মহিমায় সারাদেশে উদযাপিত হচ্ছে ঈদুল আযহা
- আগুনে ক্ষতিগ্রস্ত ব্যবসায়ীদের পাশে খোরশেদ আলম, দিলেন আর্থিক সহায়তা
- পাকিস্তানে প্রশিক্ষণে যাচ্ছেন বিসিএসের ১২ কর্মকর্তা
- বিয়ে করছেন ডাকসু ভিপি সাদিক কায়েম, জানা গেল পাত্রীর পরিচয়
- সন্তান ও টাকা-স্বর্ণালংকার নিয়ে প্রেমিকের সঙ্গে উধাও প্রবাসীর স্ত্রী
- অনলাইন আম বিক্রেতাদের ‘আম কার্ড’ দেয়ার ঘোষণা বিএনপি
- ‘প্রজেক্ট ফ্রিডম’ ঘোষণায় হরমুজ নিয়ে ট্রাম্পকে সতর্কবার্তা দিল ইরান
- স্পিরিট এয়ারলাইনস বন্ধের ঘোষণা: ২৫ বছরে মার্কিন বিমান খাতে বড় ধাক্কা
- বায়তুল মাল নিয়ে বিতর্ক: জামায়াত এমপি মাসুদকে রাশেদের প্রশ্ন
- হরমুজে হামলা নিয়ে যুক্তরাষ্ট্র-ইরানের পাল্টাপাল্টি দাবি
- কুমিল্লায় বিএনপি নেতা রেজাউল কাইয়ুম আটক, থানা ঘেরাও ও বাস টার্মিনাল অবরোধ





