রবিবার , ০১ ফেব্রুয়ারি, ২০২৬ | ১৯ মাঘ, ১৪৩২ বঙ্গাব্দ

প্রকাশিত: ১০:১১ ৩০ ডিসেম্বর ২০২৫
ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন সামনে রেখে ভোটের মাঠে ফেরার প্রস্তুতি চলছিল বিএনপির। ২০২৬ সালের ১২ ফেব্রুয়ারি অনুষ্ঠেয় এই নির্বাচনে বিএনপি চেয়ারপারসন ও সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়ার জন্য বগুড়া, দিনাজপুর ও ফেনীর তিনটি আসনে মনোনয়নপত্র সংগ্রহ করা হয়। রাজনৈতিক অঙ্গনে ব্যাপক আলোচনা ও প্রত্যাশার জন্ম দিলেও শেষ পর্যন্ত আর নির্বাচনে অংশ নেওয়া হলো না তাঁর। ভোটের ময়দান থেকেই দেশবাসীর কাছে বিদায় নিলেন গণতন্ত্রের আপসহীন নেত্রী বেগম খালেদা জিয়া।
দীর্ঘদিন ধরে নানা শারীরিক জটিলতায় ভুগছিলেন তিনি। চিকিৎসকদের নিবিড় তত্ত্বাবধানে রাজধানীর এভারকেয়ার হাসপাতালে চিকিৎসাধীন ছিলেন বিএনপির এই শীর্ষ নেত্রী। অবশেষে আজ মঙ্গলবার (৩০ ডিসেম্বর) সকাল ৬টায় তিনি শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন। তাঁর মৃত্যুতে দেশজুড়ে নেমে এসেছে গভীর শোকের ছায়া; রাজনীতি, সামাজিক ও সাংস্কৃতিক অঙ্গনের মানুষজন শোক ও শ্রদ্ধা জানাচ্ছেন।
বাংলাদেশের রাজনৈতিক ইতিহাসে খালেদা জিয়া এক অনন্য অধ্যায়। তিনবারের প্রধানমন্ত্রী হিসেবে তিনি গণতন্ত্র, সংসদীয় রাজনীতি ও বহুদলীয় ব্যবস্থার পক্ষে আপসহীন অবস্থান নিয়েছেন। আন্দোলন-সংগ্রাম, নির্বাচন ও রাজনৈতিক সংকটে তাঁর ভূমিকা বিএনপিকে যেমন সংগঠিত করেছে, তেমনি দেশের রাজনীতিতেও রেখেছে সুদূরপ্রসারী প্রভাব। ভোটের মাঠে সক্রিয় উপস্থিতি না থাকলেও তাঁর নাম ঘিরে বরাবরই ছিল প্রবল আগ্রহ ও আলোচনার কেন্দ্রবিন্দু।
ভোটের ময়দান থেকে এই বিদায় কেবল একটি নির্বাচনী অধ্যায়ের সমাপ্তি নয়—এটি একটি সময়ের ইতি। সমর্থকদের কাছে তিনি ছিলেন প্রতিরোধের প্রতীক, আর সমালোচকদের কাছেও অস্বীকার করা যায় না তাঁর রাজনৈতিক প্রভাব। গণতন্ত্রের প্রশ্নে আপসহীন অবস্থানের কারণে তিনি যেমন প্রশংসিত হয়েছেন, তেমনি নানা বিতর্কও তাঁকে ঘিরে ছিল।
বেগম খালেদা জিয়ার মৃত্যুতে বাংলাদেশের রাজনীতিতে সৃষ্টি হলো এক শূন্যতা। ভোটের মাঠে আর তাঁকে দেখা যাবে না—এই বাস্তবতা দেশবাসীর জন্য এক বেদনাদায়ক বিদায়। ইতিহাসের পাতায় তিনি থেকে যাবেন গণতন্ত্রের আপসহীন নেত্রী হিসেবে, যাঁর রাজনৈতিক পথচলা বাংলাদেশের রাজনীতিকে দীর্ঘদিন প্রভাবিত করেছে।
