রবিবার , ০১ ফেব্রুয়ারি, ২০২৬ | ১৯ মাঘ, ১৪৩২ বঙ্গাব্দ

প্রকাশিত: ০৯:৩৫ ১৮ ডিসেম্বর ২০২৫
বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি)-এর চেয়ারপারসন ও সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়ার শারীরিক অবস্থা বর্তমানে সার্বিকভাবে স্থিতিশীল রয়েছে বলে জানিয়েছেন দলের স্থায়ী কমিটির সদস্য ডা. এ জেড এম জাহিদ হোসেন।
বৃহস্পতিবার দুপুরে খালেদা জিয়ার সর্বশেষ শারীরিক অবস্থা নিয়ে আয়োজিত এক ব্রিফিংয়ে তিনি এসব তথ্য জানান।
ডা. জাহিদ হোসেন বলেন, চিকিৎসকদের পরামর্শ অনুযায়ী বেগম খালেদা জিয়া নিয়মিত চিকিৎসা গ্রহণ করছেন এবং আগের তুলনায় তার শারীরিক অবস্থা একই পর্যায়ে বজায় রয়েছে।
তিনি জানান, গত ২৩ নভেম্বর থেকে বেগম খালেদা জিয়া রাজধানীর এভারকেয়ার হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন। অবস্থার অবনতি হওয়ায় ২৭ নভেম্বর থেকে তাকে ক্রিটিক্যাল কেয়ার ইউনিটে (সিসিইউ) রাখা হয়েছে।
ডা. জাহিদ আরও জানান, বাংলাদেশ, যুক্তরাজ্য, যুক্তরাষ্ট্র ও অস্ট্রেলিয়ার চিকিৎসকদের সমন্বয়ে গঠিত একটি আন্তর্জাতিক মেডিকেল বোর্ড প্রতিদিন তার স্বাস্থ্য পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করছে। দেশীয় চিকিৎসকদের তত্ত্বাবধানে প্রতিদিন সকালে এবং সময়ের ব্যবধান বিবেচনায় সন্ধ্যায় বিদেশি বিশেষজ্ঞদের সঙ্গে মাল্টিডিসিপ্লিনারি টিমের যৌথ বৈঠকের মাধ্যমে চিকিৎসা কার্যক্রম পরিচালিত হচ্ছে।
তিনি বলেন, বর্তমানে চিকিৎসকদের নির্দেশনা অনুযায়ী বেগম খালেদা জিয়া চিকিৎসা গ্রহণ করতে পারছেন। তবে বয়সজনিত কারণ এবং দীর্ঘদিন পর্যাপ্ত চিকিৎসা না পাওয়ায় তার শারীরিক জটিলতা বেড়েছে, যার ফলে তিনি একটি কঠিন সময় পার করছেন।
এ সময় দেশবাসীর কাছে মহান আল্লাহর দরবারে বেগম খালেদা জিয়ার সুস্থতার জন্য দোয়া কামনা করেন ডা. জাহিদ হোসেন। পাশাপাশি তিনি জানান, বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান, তার সহধর্মিণী ডা. জুবাইদা রহমানসহ পরিবারের সদস্যরা সার্বক্ষণিকভাবে তার চিকিৎসার খোঁজখবর রাখছেন।
এছাড়াও অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের উপদেষ্টা পরিষদ, আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী এবং এভারকেয়ার হাসপাতালের চিকিৎসক, নার্স ও সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের সহযোগিতার জন্য কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করা হয়।
ডা. জাহিদ হোসেন বলেন, বেগম খালেদা জিয়ার চিকিৎসার কারণে হাসপাতালে অন্য রোগীদের চিকিৎসাসেবায় কোনো ধরনের ব্যাঘাত ঘটবে না। এ বিষয়ে সবার সহযোগিতা কামনা করা হয়।
উল্লেখ্য, দীর্ঘদিন ধরে সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়া লিভার ও কিডনি জটিলতা, হৃদরোগ, উচ্চ রক্তচাপ, ডায়াবেটিস, আর্থ্রাইটিস এবং সংক্রমণজনিত বিভিন্ন স্বাস্থ্য সমস্যায় ভুগছেন।
