• শুক্রবার , ২৮ আগস্ট, ২০২৬ | ১৩ ভাদ্র, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

৬২ বিদ্যুৎকেন্দ্রে উৎপাদন ব্যাহত, লোডশেডিংয়ে নাকাল ঢাকাসহ সারাদেশ

৬২ বিদ্যুৎকেন্দ্রে উৎপাদন ব্যাহত, লোডশেডিংয়ে নাকাল ঢাকাসহ সারাদেশ

অনলাইন ডেস্ক
অনলাইন ডেস্ক

প্রকাশিত: ১১:১২ ২৮ আগস্ট ২০২৬

গ্যাস, কয়লা ও জ্বালানি তেলের সংকটের পাশাপাশি কয়েকটি বিদ্যুৎকেন্দ্রে কারিগরি ত্রুটি ও রক্ষণাবেক্ষণের কারণে দেশে বিদ্যুৎ উৎপাদন ব্যাহত হচ্ছে। পিডিবি ও পিজিসিবির তথ্য অনুযায়ী, দেশের ১৩৭টি বিদ্যুৎকেন্দ্রের মধ্যে ৬২টিতে উৎপাদন স্বাভাবিক নেই। এর মধ্যে ২০টি কেন্দ্র পুরোপুরি বন্ধ এবং ৪২টি সীমিত সক্ষমতায় চলছে। ফলে গত বৃহস্পতিবার সর্বোচ্চ লোডশেডিং ৩ হাজার ৬৬৪ মেগাওয়াটে পৌঁছায়। চাহিদার তুলনায় সরবরাহ কম থাকায় ঢাকাসহ বিভিন্ন এলাকায় দিন-রাত একাধিকবার বিদ্যুৎ চলে যাচ্ছে।

দেশের মোট বিদ্যুৎ উৎপাদন সক্ষমতা প্রায় ২৯ হাজার মেগাওয়াট হলেও গত বৃহস্পতিবার সর্বোচ্চ চাহিদার সময়ে উৎপাদন হয়েছে ১৩ হাজার ২৮২ মেগাওয়াট। বিপরীতে চাহিদা ছিল ১৬ হাজার ৯৪৬ মেগাওয়াট। বিশেষ করে গ্যাসের সংকটে গ্যাসভিত্তিক কেন্দ্রগুলোর উৎপাদন উল্লেখযোগ্যভাবে কমেছে। ১২ হাজার মেগাওয়াটের বেশি সক্ষমতার এসব কেন্দ্র থেকে বর্তমানে ৫ হাজার মেগাওয়াটের কিছু বেশি বিদ্যুৎ পাওয়া যাচ্ছে। পেট্রোবাংলার তথ্য অনুযায়ী, দৈনিক প্রায় ৩৮০ কোটি ঘনফুট গ্যাসের চাহিদার বিপরীতে সরবরাহ রয়েছে ২৩৫ কোটি ঘনফুট।

রাজধানীতেও এর প্রভাব পড়েছে। গত ১২ আগস্ট থেকে ঢাকায় লোডশেডিং শুরু হয়েছে। ডিপিডিসি ও ডেসকো প্রতিটি এলাকায় দৈনিক এক ঘণ্টা লোডশেডিংয়ের পরিকল্পনা করলেও অনেক এলাকায় এর চেয়ে বেশি সময় বিদ্যুৎ থাকছে না বলে অভিযোগ রয়েছে। কয়লাভিত্তিক কেন্দ্রগুলোর মধ্যেও পায়রা ও বড়পুকুরিয়ায় কারিগরি সমস্যায় উৎপাদন কমেছে, আর রক্ষণাবেক্ষণের জন্য মাতারবাড়ীর একটি ইউনিট বন্ধ রয়েছে। কয়লা সরবরাহের ঘাটতিতে আদানি গ্রুপের কেন্দ্র থেকেও পূর্ণ সক্ষমতায় বিদ্যুৎ পাওয়া যাচ্ছে না। পাশাপাশি ২৪টি তেলভিত্তিক কেন্দ্রেও ফার্নেস অয়েল ও ডিজেলের ঘাটতি রয়েছে।

এদিকে মহেশখালীর দুটি ভাসমান এলএনজি টার্মিনালের একটি গত জুলাইয়ে দুর্ঘটনার পর সরবরাহে সমস্যা তৈরি হয়েছিল। টার্মিনালটি সচল হলেও এলএনজি কার্গো সময়মতো না পৌঁছানোয় গ্যাস সংকট পুরোপুরি কাটেনি। এর প্রভাব পড়ছে বিদ্যুৎ উৎপাদন, বাসাবাড়ি ও শিল্পকারখানায়। জ্বালানি খাতের বিশেষজ্ঞরা বলছেন, দ্রুত গ্যাস, কয়লা ও জ্বালানি তেলের সরবরাহ নিশ্চিত করার পাশাপাশি বিদ্যুৎ ও জ্বালানি খাতের ব্যবস্থাপনায় কাঠামোগত সংস্কার প্রয়োজন। অন্যথায় লোডশেডিংয়ের এই ভোগান্তি দ্রুত কমার সম্ভাবনা কম।

বিজ্ঞাপন