• শনিবার , ২৯ আগস্ট, ২০২৬ | ১৪ ভাদ্র, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

খালেদা জিয়াকে শেষ বিদায় জানাতে লাখো মানুষের ঢল

খালেদা জিয়াকে শেষ বিদায় জানাতে লাখো মানুষের ঢল

নিজস্ব প্রতিবেদক
নিজস্ব প্রতিবেদক

প্রকাশিত: ০২:৩০ ৩১ ডিসেম্বর ২০২৫

রাজধানীর মানিক মিয়া অ্যাভিনিউ ও এর আশপাশের এলাকা যেন জনসমুদ্রে পরিণত হয়েছে। যতদূর চোখ যায়—শুধু মানুষ আর মানুষ। আপসহীন নেত্রী, সাবেক প্রধানমন্ত্রী ও বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়াকে শেষ বিদায় জানাতে লাখো মানুষ ছুটে এসেছেন রাজধানীতে। যে যাত্রা থেকে আর কখনো ফেরা হবে না, সেই অনন্ত বিদায়ে খালেদা জিয়ার সঙ্গী হয়েছেন মানুষের ভালোবাসা, শ্রদ্ধা আর অশ্রু।

জাতীয় সংসদ ভবনের দক্ষিণ প্লাজায় জানাজাস্থলে উপস্থিত দলীয় নেতাকর্মী থেকে শুরু করে বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ ঢুকরে কাঁদছেন। অনেকেই আবেগ ধরে রাখতে পারছেন না। কেউ কেউ হাউমাউ করে কেঁদে উঠছেন। কে কাকে সান্ত্বনা দেবে—সেই ভাষা যেন হারিয়ে গেছে।

সারা জীবন দেশ ও গণতন্ত্রের জন্য লড়াই করে জীবনের শেষ প্রান্তে এসে জাতীয় ঐক্যের প্রতীক হয়ে ওঠা খালেদা জিয়া যে শুধু সাবেক প্রধানমন্ত্রী বা বিএনপি চেয়ারপারসন নন—তা স্পষ্ট করে দিয়েছে এই বিশাল জনস্রোত। মানুষের উপস্থিতি যেন প্রমাণ করছে, তিনি তার রাজনৈতিক পরিচয়ের ঊর্ধ্বে উঠে ইতিহাসের অংশ হয়ে গেছেন।

দেশের বিভিন্ন জেলা থেকে মানুষ ছুটে এসেছেন তাদের প্রিয় নেত্রীকে বিদায় জানাতে। এমনকি প্রকৃতিও যেন বিদায়ের অংশীদার হয়েছে। কয়েক দিনের কনকনে শীতের পর আজ রাজধানীতে উঠেছে মিষ্টি রোদ। এতে কিছুটা স্বস্তি পাচ্ছেন জানাজায় অংশ নিতে আসা জনতা।

দুপুর দেড়টার দিকে দেখা যায়, সংসদ ভবন এলাকা, মানিক মিয়া অ্যাভিনিউ ও আশপাশের সড়কজুড়ে মানুষের ঢল। সেই স্রোত গিয়ে পৌঁছেছে ফার্মগেট পর্যন্ত।

কঠোর নিরাপত্তায় সকাল ১১টা ৪৮ মিনিটের দিকে বেগম খালেদা জিয়ার মরদেহ জাতীয় সংসদ ভবনের দক্ষিণ প্লাজায় পৌঁছায়। রাষ্ট্রীয় প্রোটোকলে লাল-সবুজ রঙের জাতীয় পতাকায় মোড়ানো ফ্রিজার ভ্যানে করে মরদেহ আনা হয়।

এর আগে, বেলা ১১টার দিকে গুলশানে ছেলে তারেক রহমানের বাসা থেকে মরদেহ বহনকারী ফ্রিজার ভ্যানটি যাত্রা শুরু করে। সকালে রাজধানীর এভারকেয়ার হাসপাতাল থেকে প্রথমে গুলশানে নেওয়া হয় খালেদা জিয়ার মরদেহ।

দীর্ঘদিন এভারকেয়ার হাসপাতালে চিকিৎসাধীন থাকার পর মঙ্গলবার ভোর ৬টায় ইহলোক ত্যাগ করেন বেগম খালেদা জিয়া। ৮০ বছর বয়সে প্রয়াণ ঘটে দেশের ইতিহাসের সবচেয়ে নির্যাতিত ও প্রভাবশালী এই রাজনীতিকের। তিনি দীর্ঘদিন ধরে হৃদরোগ, ফুসফুস, লিভার, কিডনি ও ডায়াবেটিসসহ নানা জটিল রোগে ভুগছিলেন।

বিজ্ঞাপন