• শনিবার , ২৯ আগস্ট, ২০২৬ | ১৪ ভাদ্র, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

বায়তুল মোকাররমে ঝড় তুললেন উলামারা, গানের শিক্ষক বাতিলের দাবি

বায়তুল মোকাররমে ঝড় তুললেন উলামারা, গানের শিক্ষক বাতিলের দাবি

অনলাইন ডেস্ক
অনলাইন ডেস্ক

প্রকাশিত: ০৬:৫৪ ১৯ সেপ্টেম্বর ২০২৫

ঢাকায় সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে গানের শিক্ষক নিয়োগের সিদ্ধান্তের প্রতিবাদে শুক্রবার (১৯ সেপ্টেম্বর) জাতীয় মসজিদ বায়তুল মোকাররমে বিক্ষোভ করেছেন দেশের বিশিষ্ট ওলামা-মাশায়েখরা। তারা শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে গানের শিক্ষক নয়, বরং ধর্মীয় শিক্ষক নিয়োগ নিশ্চিত করার দাবি জানিয়েছেন।

জাতীয় ওলামা-মাশায়েখ আইম্মা পরিষদের ব্যানারে অনুষ্ঠিত বিক্ষোভ মিছিলে উপস্থিত ছিলেন কেন্দ্রীয় সাধারণ সম্পাদক মুফতি রেজাউল করিম আবরার, প্রচার সম্পাদক হামিম আব্দুল আজিজ, কলরবের প্রশাসনিক পরিচালক মুফতি সাঈদ আহমদসহ বিভিন্ন পর্যায়ের নেতাকর্মীরা।

মিছিলপূর্ব সমাবেশে বক্তারা বলেন, “সন্তানদের ইসলামি আদর্শে গড়ে তুলতে হলে প্রয়োজন ধর্মীয় শিক্ষক। গানের মাধ্যমে নৈতিকতা আসে না, বরং সন্তান নষ্ট হয়ে যেতে পারে। কুরআন-হাদিসের আলোকে শিক্ষা দিলে তারা প্রকৃত মানুষ হিসেবে গড়ে উঠবে।”

ওলামা-মাশায়েখরা দাবি করেন, দেশের শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে গানের শিক্ষক নিয়োগের উদ্যোগ শিক্ষার্থীদের নৈতিক মূল্যবোধ গঠনের পরিপন্থি। এ ক্ষেত্রে কোরআন-হাদিসের আলোকে ধর্মীয় শিক্ষক নিয়োগ করলে শিক্ষার্থীরা সঠিক শিক্ষা ও নৈতিকতা অর্জন করতে পারবে।

ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের সিনিয়র নায়েবে আমির ও চরমোনাই মুফতি সৈয়দ মুহাম্মদ ফয়জুল করীম বলেন, “গানের শিক্ষক নয়, ধর্মীয় শিক্ষক নিয়োগ আজকের সময়ের দাবি। প্রতিটি মুসলমানের জন্য দ্বীনি ইলম শিক্ষা করা ফরজ। দেশের ৯২ শতাংশ মুসলমান হলেও শিক্ষাব্যবস্থায় এই ফরজ শিক্ষা নিশ্চিত করা হয়নি। সরকারের দায়িত্ব এটি বাস্তবায়ন করা, কিন্তু তা করা হচ্ছে না।”

তিনি আরও বলেন, “আমরা স্পষ্টভাবে সরকারের প্রতি জানাচ্ছি—শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে গানের শিক্ষক নিয়োগ বন্ধ করতে হবে। ইসলামি শিক্ষা ছাড়া কোনো জাতির নৈতিক উন্নতি সম্ভব নয়। যদি সরকার ধর্মীয় শিক্ষক নিয়োগে গড়িমসি করে, আমরা দেশের সর্বস্তরের আলেম-ওলামা ও সাধারণ মুসলিম জনতাকে সঙ্গে নিয়ে আন্দোলনে নামব। প্রয়োজনে সরকারকেও বাধ্য করা হবে।”

বিক্ষোভ সমাবেশের পর বায়তুল মোকাররম প্রাঙ্গণ থেকে একটি মিছিল বের হয়ে বিভিন্ন সড়ক প্রদক্ষিণ করে। অংশগ্রহণকারীরা স্লোগান দিয়েছেন—“গানের শিক্ষক নয়, ধর্মীয় শিক্ষক নিয়োগ নিশ্চিত করো” এবং “শিক্ষাব্যবস্থায় ইসলামি শিক্ষার প্রসার ঘটাও।”

এটি দেশের শিক্ষাব্যবস্থায় ধর্মীয় শিক্ষার গুরুত্ব পুনঃপ্রতিষ্ঠার লক্ষ্যে ওলামা-মাশায়েখদের পক্ষ থেকে পরিচালিত একটি সংগঠিত প্রতিবাদ।

বিজ্ঞাপন