শুক্রবার , ০৪ এপ্রিল, ২০২৫ | ২১ চৈত্র, ১৪৩১ বঙ্গাব্দ
ছবি: সংগৃহীত
প্রকাশিত: ০৪:৪২ ৯ ফেব্রুয়ারী ২০২৫
গাজীপুরে ছাত্র-জনতার ওপর হামলার ঘটনায় সারাদেশে যৌথ বাহিনী অভিযান শুরু করেছে। স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের নির্দেশে, গাজীপুরসহ দেশের বিভিন্ন এলাকায় অভিযানের অংশ হিসেবে গ্রেপ্তার অভিযান চলছে। গাজীপুর মহানগর পুলিশ (জিএমপি) জানিয়েছে, এখন পর্যন্ত গাজীপুর থেকে আওয়ামী লীগের ৪০ নেতাকর্মী গ্রেপ্তার করা হয়েছে।
শুক্রবার (৭ ফেব্রুয়ারি) রাতে গাজীপুরে আ ক ম মোজাম্মেল হকের বাড়িতে শিক্ষার্থীদের ওপর সন্ত্রাসী হামলা চালানোর পর স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় দ্রুত পদক্ষেপ নেয় এবং ‘অপারেশন ডেভিল হান্ট’ অভিযান শুরু করে। এরপর শনিবার (৮ ফেব্রুয়ারি) রাতেই সাড়াশি অভিযান শুরু হয়। গাজীপুরের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ মোড়ে যৌথ বাহিনী টহল জোরদার করেছে এবং গাজীপুর জেলা প্রশাসকের অফিসের সামনে চেকপোস্ট বসিয়ে সেনা সদস্যরা মোটরসাইকেলসহ অন্যান্য গাড়ি তল্লাশি করছেন।
গাজীপুরের পুলিশ সুপার চৌধুরী যাবের সাদেক জানিয়েছেন, ছাত্র-জনতার ওপর হামলার ঘটনায় এখন পর্যন্ত ৪০ জন আওয়ামী লীগ নেতাকর্মী গ্রেপ্তার করা হয়েছে।
এদিকে, গাজীপুরের ধীরাশ্রমের দক্ষিণখানে পতিত স্বৈরাচারের মন্ত্রী আ ক ম মোজাম্মেল হকের বাড়িতে শুক্রবার রাতে ভাঙচুর চালানো হয়। স্থানীয় আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীদের বিরুদ্ধে অভিযোগ রয়েছে যে, তারা ২৫-৩০ জন ছাত্র-জনতাকে মোজাম্মেল হকের বাড়িতে ডেকে নিয়ে গিয়ে হামলা চালিয়েছে। আহতরা জানান, তাদের বাড়ির ভেতরে প্রবেশ করে মসজিদের মাইকে ‘ডাকাতি হচ্ছে’ ঘোষণা দিয়ে হামলা করা হয়। মুখে মাস্ক পরে, ধারালো অস্ত্র হাতে হামলাকারীরা মারধর করে পালিয়ে যায়। এতে অন্তত ২০ জন আহত হন।
সেনাবাহিনী ঘটনাস্থলে পৌঁছে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে। আহতদের গাজীপুর শহীদ তাজউদ্দীন আহমদ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়, যেখানে পাঁচজনের অবস্থা গুরুতর হওয়ায় তাদের ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে স্থানান্তর করা হয়।
এই ঘটনায় ক্ষুব্ধ ছাত্র-জনতা, জড়িতদের দ্রুত বিচার দাবিতে শনিবার সড়কে বিক্ষোভ করে বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের নেতাকর্মীরা। তারা আওয়ামী লীগকে দ্রুত নিষিদ্ধ করার এবং হামলাকারীদের ধরার আলটিমেটাম দিয়েছে।
বিজ্ঞাপন