চীন বানাচ্ছে ‘কৃত্রিম সূর্য’! ৫৮২ টনের ম্যাগনেটে বদলে যেতে পারে বিশ্বের শক্তির ভবিষ্যৎ


প্রকাশিত: ০২:২৩ ১৫ আগস্ট ২০২৬
বিশ্বের অন্যতম বড় প্রযুক্তিগত প্রকল্পের দিকে এগিয়ে যাচ্ছে চীন। দেশটি ‘কৃত্রিম সূর্য’ নামে পরিচিত নিউক্লিয়ার ফিউশন প্রকল্পের জন্য ৫৮২ টন ওজনের একটি বিশাল সুপারকন্ডাক্টিং ম্যাগনেট তৈরি করেছে। এই প্রযুক্তির লক্ষ্য হলো সূর্যের মতো ফিউশন প্রক্রিয়া ব্যবহার করে ভবিষ্যতে পরিষ্কার ও বিপুল পরিমাণ শক্তি উৎপাদন করা।
বিজ্ঞানীদের মতে, নিউক্লিয়ার ফিউশন হলো সেই প্রক্রিয়া, যার মাধ্যমে সূর্যের ভেতরে শক্তি তৈরি হয়। এই প্রযুক্তিকে নিয়ন্ত্রণে আনতে পারলে কম কার্বন নিঃসরণে বিপুল শক্তি উৎপাদনের সম্ভাবনা তৈরি হবে।
৫৮২ টনের বিশাল ম্যাগনেট কেন তৈরি করছে চীন?
চীনের তৈরি এই বিশাল সুপারকন্ডাক্টিং ম্যাগনেট ফিউশন রিঅ্যাক্টরের ভেতরে অত্যন্ত গরম প্লাজমাকে নিয়ন্ত্রণে রাখতে সাহায্য করবে। ফিউশন প্রক্রিয়ার জন্য প্রয়োজন হয় কোটি কোটি ডিগ্রি তাপমাত্রার প্লাজমা, যা সাধারণ কোনো বস্তু দিয়ে আটকে রাখা সম্ভব নয়।
শক্তিশালী চৌম্বক ক্ষেত্র ব্যবহার করে এই প্লাজমাকে নিয়ন্ত্রণ করা হয়। চীনের এই ম্যাগনেট সেই লক্ষ্য পূরণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।
‘কৃত্রিম সূর্য’ কী?
‘কৃত্রিম সূর্য’ বলতে মূলত নিউক্লিয়ার ফিউশন গবেষণাকে বোঝানো হয়। এখানে হাইড্রোজেনের মতো হালকা পরমাণুকে একত্রিত করে শক্তি উৎপন্ন করার চেষ্টা করা হয়।
বর্তমান পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্রে সাধারণত ফিশন প্রযুক্তি ব্যবহার করা হয়, যেখানে ভারী পরমাণু ভাঙা হয়। কিন্তু ফিউশনে পরমাণু যুক্ত হয়ে শক্তি তৈরি করে, যা ভবিষ্যতের নিরাপদ ও পরিচ্ছন্ন শক্তির উৎস হতে পারে।
চীনের লক্ষ্য ২০৩০ সালের মধ্যে ফিউশন শক্তি
চীন জানিয়েছে, তাদের ফিউশন শক্তি কর্মসূচির অন্যতম লক্ষ্য হলো আগামী দশকের শুরুতে এই প্রযুক্তিকে আরও উন্নত করা এবং বিদ্যুৎ উৎপাদনের পথে এগিয়ে যাওয়া।
বিশেষজ্ঞদের মতে, সফলভাবে ফিউশন শক্তি ব্যবহার করা গেলে জ্বালানি সংকট, কার্বন নিঃসরণ এবং দীর্ঘমেয়াদি শক্তির চাহিদা মোকাবিলায় বড় পরিবর্তন আসতে পারে।
বিশ্বজুড়ে চলছে ফিউশন প্রযুক্তির প্রতিযোগিতা
শুধু চীন নয়, বিশ্বের বিভিন্ন দেশ ও গবেষণা প্রতিষ্ঠান নিউক্লিয়ার ফিউশন প্রযুক্তি নিয়ে কাজ করছে। কারণ এই প্রযুক্তি সফল হলে এটি ভবিষ্যতের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ শক্তির উৎসগুলোর একটি হতে পারে।
তবে বিজ্ঞানীরা বলছেন, বাণিজ্যিকভাবে ফিউশন শক্তি উৎপাদনের ক্ষেত্রে এখনো বড় ধরনের প্রযুক্তিগত চ্যালেঞ্জ রয়েছে। দীর্ঘ সময় ধরে স্থিতিশীল ফিউশন বিক্রিয়া বজায় রাখা অন্যতম কঠিন বিষয়।
বিজ্ঞাপন
সর্বোচ্চ পঠিত - আন্তর্জাতিক
- যুক্তরাষ্ট্রের নিষেধাজ্ঞা ও নৌ অবরোধে তীব্র ওষুধ সংকটে ইরান
- হাটহাজারীতে সেনাবাহিনীর ফায়ারিং অনুশীলনে দুর্ঘটনা, নিহত ২
- সংসদে অগ্নিঝরা কণ্ঠস্বর আশরাফ উদ্দিন নিজান
- খাটের বক্সে ৯০ হাজার ইয়াবা, ৩৫ লাখ টাকা উদ্ধার
- প্রথম দিনে টাকা ফেরত পেলেন সম্মিলিত ইসলামী ব্যাংকের ৬ হাজার গ্রাহক
- বিগ ব্যাশে খেলতে নিউজিল্যান্ডের কেন্দ্রীয় চুক্তি ছাড়লেন চ্যাপম্যান
- নোরা ফাতেহির বিরুদ্ধে ৩ কোটি টাকার মানহানির মামলা
- মক্কা প্রতিরক্ষা চুক্তিতে ইরানকে অন্তর্ভুক্তির প্রস্তাব রাশিয়ার
- জাতিসংঘ অধিবেশনে আজ সভাপতির দায়িত্ব নেবেন খলিলুর রহমান
- প্রধানমন্ত্রীকে কটূক্তির অভিযোগে গ্রেপ্তার সিফাতের জামিন নামঞ্জুর
- রুহুল কবীর রিজভী কে? শিক্ষা, রাজনৈতিক জীবন ও বর্তমান দায়িত্ব
- মক্কা প্যাক্টে যোগদান বাংলাদেশের নিজস্ব বিষয়: জামায়াত আমির
- নাসিরুদ্দিন শাহকে ‘শিয়াল’ বলে কঙ্গনা রানাওয়াতের কটাক্ষ
- রাজ্জাক দেওয়ান স্মরণে গাইবেন বগা তালেবসহ ১৫ শিল্পী
- কলম্বিয়ায় শক্তিশালী ভূমিকম্পে নিহত ১৩২, জরুরি অবস্থা জারি
- প্রতিপক্ষের বাড়িতে অস্ত্র রেখে পুলিশকে ফোন, নিজেই ফাঁসলেন যুবক
- গণভোটের রায় প্রতিষ্ঠিত হলে অলি আহমেদ রাষ্ট্রপতি হতেন: জামায়াত
- সৌদিতে অগ্নিকাণ্ডে নিহত ১৬ বাংলাদেশির পরিবার পাবে বিশেষ অনুদান
- রোনালদো এখন আর্জেন্টিনার জামাই!
- টেস্টোস্টেরন পরীক্ষায় কি লিঙ্গ নির্ধারণ সম্ভব? জানুন বিজ্ঞান কী বলে




