• শুক্রবার , ০৭ আগস্ট, ২০২৬ | ২৩ শ্রাবণ, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

পশ্চিমবঙ্গে মসজিদের মাইক অপসারণ নিয়ে বিতর্ক, পুলিশের বিরুদ্ধে চাপের অভিযোগ

পশ্চিমবঙ্গে মসজিদের মাইক অপসারণ নিয়ে বিতর্ক, পুলিশের বিরুদ্ধে চাপের অভিযোগ

অনলাইন ডেস্ক
অনলাইন ডেস্ক

প্রকাশিত: ১১:৩০ ৭ আগস্ট ২০২৬

পশ্চিমবঙ্গের বিভিন্ন এলাকায় মসজিদের লাউডস্পিকার অপসারণ নিয়ে নতুন করে রাজনৈতিক ও ধর্মীয় বিতর্ক শুরু হয়েছে। স্থানীয় কিছু মসজিদ কমিটির অভিযোগ, পুলিশ মৌখিকভাবে আজানের মাইক খুলে ফেলার জন্য চাপ দিচ্ছে।

তবে প্রশাসনের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, কোনো নির্দিষ্ট ধর্মীয় প্রতিষ্ঠানকে লক্ষ্য করে নয়, বরং আদালতের নির্দেশ অনুযায়ী শব্দদূষণ নিয়ন্ত্রণের নিয়ম কার্যকর করা হচ্ছে।

কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর কাছে স্মারকলিপি

ঘটনার প্রতিবাদ জানিয়ে তৃণমূল থেকে বেরিয়ে গঠিত এনসিপিআইয়ের তিন সংসদ সদস্য—সাবেক ক্রিকেটার ইউসুফ পাঠান, খলিলুর রহমান ও আবু তাহের খান কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহের সঙ্গে দেখা করে স্মারকলিপি দিয়েছেন।

স্মারকলিপিতে তারা বলেন, শব্দদূষণ নিয়ন্ত্রণের আইন প্রয়োগ করা যেতে পারে, তবে তা যেন কোনো ধর্মীয় সম্প্রদায়ের অধিকার বা অনুভূতিতে আঘাত না করে।

আদালতের নির্দেশ বাস্তবায়নের দাবি প্রশাসনের

বিতর্কের সূত্রপাত হয় রাজ্য সরকারের পক্ষ থেকে সব ধর্মীয় প্রতিষ্ঠানে শব্দ নিয়ন্ত্রণের নিয়ম কার্যকরের সিদ্ধান্ত নেওয়ার পর।

নিয়ম অনুযায়ী, দিনের বেলায় সর্বোচ্চ ৫৫ ডেসিবেল এবং রাতের সময়ে ৪৫ ডেসিবেলের বেশি শব্দ করা যাবে না।

মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী দাবি করেছেন, সরকার শুধুমাত্র আদালতের নির্দেশ বাস্তবায়ন করছে।

তার দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, রাজ্যে মোট ৫ হাজার ২৯৯টি লাউডস্পিকার সরানো হয়েছে। এর মধ্যে ৪ হাজার ২০৩টি মসজিদ এবং ১ হাজার ৯৬টি মন্দিরের লাউডস্পিকার রয়েছে বলে তিনি জানান।

আন্দোলনের হুঁশিয়ারি

এ বিষয়ে জমিয়তে উলামায়ে হিন্দের পশ্চিমবঙ্গ শাখার সভাপতি সিদ্দিকুল্লাহ চৌধুরী বলেন, দ্রুত সমস্যার সমাধান না হলে বৃহত্তর আন্দোলনের পথে যাওয়া হতে পারে।

অন্যদিকে, ইন্ডিয়ান সেক্যুলার ফ্রন্টের বিধায়ক নওশাদ সিদ্দিকী জানিয়েছেন, প্রয়োজনে বিষয়টি নিয়ে কলকাতা হাইকোর্টে যাওয়ার প্রস্তুতি রয়েছে।

তিনি পুলিশের কাছে এ বিষয়ে কোনো লিখিত সরকারি নির্দেশ রয়েছে কি না, তা জানতে চেয়েছেন।

রাজনৈতিক উত্তেজনা বাড়ছে

বিজেপির পশ্চিমবঙ্গ সভাপতি শমিক ভট্টাচার্য বলেন, গণতান্ত্রিক ব্যবস্থায় প্রতিবাদের অধিকার সবার রয়েছে। তবে রাজনৈতিক দলগুলোর অবস্থানে দ্বৈততা থাকা উচিত নয় বলেও মন্তব্য করেন তিনি।

এদিকে, পরিস্থিতি নিয়ে আলোচনা করতে তৃণমূল কংগ্রেসের একটি প্রতিনিধি দল মুখ্যমন্ত্রীর সঙ্গে বৈঠক করার কথা জানিয়েছে।

বিজ্ঞাপন