• শুক্রবার , ৩০ অক্টোবর, ২০২৬ | ১৫ কার্তিক, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

সৌদি আরবের হয়ে হুথিদের বিরুদ্ধে যুদ্ধে নামবে পাকিস্তান? যা জানা যাচ্ছে

সৌদি আরবের হয়ে হুথিদের বিরুদ্ধে যুদ্ধে নামবে পাকিস্তান? যা জানা যাচ্ছে

অনলাইন ডেস্ক
অনলাইন ডেস্ক

প্রকাশিত: ১০:১০ ৩০ অক্টোবর ২০২৬

সৌদি আরবের নিরাপত্তা রক্ষায় পাকিস্তানের সামরিক ভূমিকা নিয়ে নতুন করে আলোচনা শুরু হয়েছে। ইয়েমেনের হুথি বিদ্রোহীদের বিরুদ্ধে সৌদি আরবের অবস্থান শক্তিশালী করতে ইসলামাবাদ সহায়তা দিলেও সরাসরি যুদ্ধে অংশ নেবে কি না, তা এখনো নিশ্চিত নয়। আন্তর্জাতিক সাময়িকী দ্য ডিপ্লোম্যাটের এক বিশ্লেষণে বলা হয়েছে, সরাসরি সংঘাতে না জড়িয়ে সৌদি বাহিনীকে সামরিক ও গোয়েন্দা সহায়তা দেওয়ার কৌশলেই এগোচ্ছে পাকিস্তান।

সৌদি আরব ও পাকিস্তানের সামরিক সম্পর্ক কয়েক দশকের পুরোনো। ১৯৬০-এর দশক থেকেই সৌদি সেনাবাহিনীকে প্রশিক্ষণ ও পরামর্শ দিয়ে আসছেন পাকিস্তানি সামরিক কর্মকর্তারা। ১৯৮২ সালে দুই দেশের নিরাপত্তা সহযোগিতা আনুষ্ঠানিক রূপ পায়। তবে ২০১৫ সালে ইয়েমেনে সৌদি নেতৃত্বাধীন সামরিক অভিযানে যোগ দেওয়ার প্রস্তাবে পাকিস্তানের পার্লামেন্ট সরাসরি অংশগ্রহণ না করার পক্ষে অবস্থান নিয়েছিল।

২০২৫ সালের সেপ্টেম্বরে দুই দেশের মধ্যে কৌশলগত পারস্পরিক প্রতিরক্ষা চুক্তি স্বাক্ষরের পর সামরিক সহযোগিতা আরও গুরুত্ব পায়। দ্য ডিপ্লোম্যাটের বিশ্লেষণ অনুযায়ী, ২০২৬ সালের আগস্টে তুরস্ক, সৌদি আরব ও পাকিস্তানের মধ্যে মক্কা চুক্তিও আঞ্চলিক নিরাপত্তা সমীকরণে নতুন মাত্রা যোগ করেছে। পাকিস্তানের প্রতিরক্ষামন্ত্রী খাজা আসিফের বক্তব্য অনুযায়ী, পাকিস্তান ও তুরস্ক সহায়ক ভূমিকা পালন করছে; সরাসরি সামরিক অভিযান পরিচালনা করছে সৌদি বাহিনী।

তবে সৌদি আরবের হয়ে সরাসরি যুদ্ধে জড়ানোর ক্ষেত্রে পাকিস্তানের সামনে বেশ কিছু বাধা রয়েছে। বিশেষ করে ইরানের সঙ্গে প্রায় ৯০০ কিলোমিটার সীমান্ত এবং তেহরানের সঙ্গে সম্পর্কের বিষয়টি ইসলামাবাদের জন্য গুরুত্বপূর্ণ। হুথিদের সঙ্গে ইরানের ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক থাকায় সরাসরি সামরিক সংঘাতে অংশ নিলে দুই দেশের সম্পর্ক আরও জটিল হতে পারে। এ ছাড়া আফগানিস্তান ও ভারতের সঙ্গে সীমান্ত নিরাপত্তার চ্যালেঞ্জ এবং পাকিস্তানের অভ্যন্তরীণ রাজনৈতিক পরিস্থিতিও সিদ্ধান্ত গ্রহণে প্রভাব ফেলতে পারে।

অন্যদিকে, সৌদি আরবের আর্থিক সহায়তা ও বিনিয়োগ পাকিস্তানের অর্থনীতির জন্য গুরুত্বপূর্ণ। ফলে রিয়াদের নিরাপত্তার বিষয়টিও ইসলামাবাদের কাছে উপেক্ষা করার সুযোগ নেই। সব মিলিয়ে, সৌদি আরবের সঙ্গে প্রতিরক্ষা সহযোগিতা বাড়লেও হুথিদের বিরুদ্ধে সরাসরি যুদ্ধে পাকিস্তান অংশ নেবে কি না, তা এখনো অনিশ্চিত। দেশটির সিদ্ধান্ত নির্ভর করবে আঞ্চলিক নিরাপত্তা, অর্থনৈতিক স্বার্থ ও প্রতিরক্ষা চুক্তির বাস্তবায়নের ওপর।

বিজ্ঞাপন