• সোমবার , ২১ সেপ্টেম্বর, ২০২৬ | ৬ আশ্বিন, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

সমুদ্রপথে গাজার দিকে এগিয়ে চলেছে মানবতার বহর — ‘গ্লোবাল সুমুদ ফ্লোটিলা’।

সমুদ্রপথে গাজার দিকে এগিয়ে চলেছে মানবতার বহর — ‘গ্লোবাল সুমুদ ফ্লোটিলা’।

অনলাইন ডেস্ক
অনলাইন ডেস্ক

প্রকাশিত: ০৫:০৫ ২ অক্টোবর ২০২৫

৩১ আগস্ট ২০২৫, স্পেনের বার্সেলোনা বন্দর থেকে যাত্রা করে 'গ্লোবাল সুমুদ ফ্লোটিলা' নামের একটি আন্তর্জাতিক নৌবহর। এ বহরে ৪০টিরও বেশি বেসামরিক নৌযান এবং ৪৪টি দেশের প্রায় ৫০০ অধিকারকর্মী, চিকিৎসক, সাংবাদিক ও আইনজীবী ছিলেন। তাদের লক্ষ্য ছিল, ইসরায়েলের অবরোধ ভেঙে সরাসরি সমুদ্রপথে গাজা উপত্যকায় মানবিক ত্রাণ পৌঁছানো।

ইসরায়েলি বাধা ও ধরপাকড়:
বুধবার রাতে ভূমধ্যসাগরে, গাজা উপকূল থেকে প্রায় ১৩০ কিলোমিটার দূরে আন্তর্জাতিক জলসীমায় ইসরায়েলি নৌবাহিনী অন্তত ৮টি নৌযান থামিয়ে দেয়। এরপর তারা ২০০ জনের বেশি অধিকারকর্মীকে আটক করে। আটককৃতদের মধ্যে বিশ্বখ্যাত সুইডিশ জলবায়ু আন্দোলনকর্মী গ্রেটা থুনবার্গও আছেন।

ফ্লোটিলার আয়োজকদের দাবি, ইসরায়েল ইচ্ছাকৃতভাবে নৌবহরের যোগাযোগব্যবস্থা বিচ্ছিন্ন করে এবং জাহাজগুলোতে প্রবেশ করে। আটক নৌযানগুলোর মধ্যে ‘আলমা’, ‘সুরিয়াস’ ও ‘আদারা’ অন্যতম।

ইসরায়েলের অবস্থান:
ইসরায়েল আগেই জানিয়ে রেখেছিল, গাজামুখী কোনো নৌযানকেই তারা গন্তব্যে পৌঁছাতে দেবে না। তারা এই ত্রাণবহরের পদক্ষেপকে ‘অবৈধ নৌ অবরোধ ভঙ্গের চেষ্টা’ বলে আখ্যা দেয় এবং আন্তর্জাতিক আইনের দোহাই দিয়ে অভিযান পরিচালনা করে।

ইসরায়েলের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের একটি ভিডিওতে দেখা যায়, একজন নারী নৌসেনা ফ্লোটিলাকে সতর্ক করে বলছেন যে তারা একটি অবরুদ্ধ এলাকায় প্রবেশ করতে যাচ্ছে, যা আন্তর্জাতিকভাবে স্বীকৃত নয়।

আটক কর্মীদের ভবিষ্যৎ অনিশ্চিত:
বর্তমানে ইসরায়েলে ‘ইয়ম কিপুর’ উৎসব চলার কারণে সব ধরনের সরকারি কার্যক্রম বন্ধ। এতে করে আটক অধিকারকর্মীদের আইনি প্রক্রিয়াও স্থগিত রয়েছে। ইসরায়েলি দূত ড্যানি ড্যানন জানিয়েছেন, উৎসব শেষ হলে তাঁদের বহিষ্কারের প্রক্রিয়া শুরু হবে।

ইসরায়েলি বাধা সত্ত্বেও ফ্লোটিলার ত্রাণবাহী অন্তত ৩০টি নৌযান গাজার দিকে অগ্রসর হচ্ছে। আয়োজকদের পক্ষ থেকে সাইফ আবুকেশেক জানান, তাঁরা গাজা উপত্যকা থেকে মাত্র ৮৫ কিলোমিটার দূরে এবং যাত্রা পূর্ণ করার ব্যাপারে দৃঢ় প্রতিজ্ঞ।

অধিকারকর্মীদের আটকের প্রতিবাদে ইতোমধ্যে রোম, ইস্তাম্বুল, বুয়েনস এইরেসসহ বিভিন্ন শহরে বিক্ষোভ হয়েছে।

বাংলাদেশের অংশগ্রহণ:
নৌবহরটিতে বাংলাদেশের জাতীয় পতাকা হাতে অংশ নিয়েছেন দৃকের ব্যবস্থাপনা পরিচালক ও বিশিষ্ট আলোকচিত্রী শহিদুল আলম। তাঁর ছবি ইতোমধ্যেই সামাজিক মাধ্যমে ভাইরাল হয়েছে, যা বাংলাদেশের অংশগ্রহণকে আন্তর্জাতিক মহলে তুলে ধরেছে।

২০০৭ সাল থেকে গাজা ইসরায়েলের অবরোধের মুখে রয়েছে। ২০২৩ সালের ৭ অক্টোবর থেকে ইসরায়েলের অব্যাহত হামলায় প্রাণ গেছে ৬৬ হাজারের বেশি ফিলিস্তিনির। তীব্র খাদ্য ও চিকিৎসাসংকটে ভুগছে গাজার জনগণ।

গ্লোবাল সুমুদ ফ্লোটিলা শুধু একটি ত্রাণ মিশন নয়, এটি একটি মানবিক ও রাজনৈতিক বার্তা—গাজা যেন বিশ্ব থেকে বিচ্ছিন্ন না হয়। ইসরায়েলের বাধা ও আন্তর্জাতিক প্রতিক্রিয়া নতুন করে প্রশ্ন তোলে: আন্তর্জাতিক আইন, মানবিক সহায়তা ও রাজনৈতিক অবস্থানের মধ্যে ভারসাম্য কোথায়?

বিজ্ঞাপন