রবিবার , ৩১ আগস্ট, ২০২৫ | ১৬ ভাদ্র, ১৪৩২ বঙ্গাব্দ
প্রকাশিত: ০৮:১৪ ৩১ আগস্ট ২০২৫
ইয়েমেনের হুথি বিদ্রোহীরা নিশ্চিত করেছে যে তাদের ঘোষিত প্রধানমন্ত্রী আহমেদ গালেব নাসের আল-রাহাভি ইসরায়েলি বিমান হামলায় নিহত হয়েছেন। গত বৃহস্পতিবার রাজধানী সানায় অনুষ্ঠিত এক বৈঠকে ইসরায়েলি প্রতিরক্ষা বাহিনী (আইডিএফ) এই হামলা চালায়।
হুথিদের দাবি, রাহাভির পাশাপাশি তাদের বেশ কয়েকজন মন্ত্রীও এ হামলায় নিহত হয়েছেন। সৌদি আরবের সংবাদমাধ্যম "আল-হাদাত" জানিয়েছে, নিহতদের মধ্যে হুথিদের পররাষ্ট্রমন্ত্রীসহ বিচার, যুব ও ক্রীড়া, সামাজিক কল্যাণ ও শ্রম মন্ত্রী রয়েছেন। এছাড়া আরও কয়েকজন মন্ত্রী গুরুতর আহত হয়েছেন।
হুথিদের প্রেসিডেন্ট মাহদি আল-মাশাতের কার্যালয় জানিয়েছে, উপ-প্রধানমন্ত্রী মুহাম্মদ আহমেদ মিফতাহ অস্থায়ীভাবে রাহাভির স্থলাভিষিক্ত হবেন। তবে পর্যবেক্ষকদের মতে, রাহাভি মূলত প্রতীকী প্রধানমন্ত্রী ছিলেন এবং সামরিক ও কৌশলগত সিদ্ধান্ত গ্রহণ প্রক্রিয়ায় সরাসরি ভূমিকা রাখতেন না।
আইডিএফ এক বিবৃতিতে জানায়, বৈঠকের তথ্য পাওয়ার কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই হামলা চালানো হয়। তবে হামলার পূর্ণ প্রভাব এখনও মূল্যায়নাধীন। উল্লেখযোগ্য বিষয় হলো, নিহতদের তালিকায় হুথি আন্দোলনের সর্বোচ্চ নেতা আব্দুল-মালিক আল-হুথি কিংবা তাদের প্রতিরক্ষামন্ত্রী ও সামরিক বাহিনীর প্রধানের নাম নেই।
হুথিরা ইয়েমেনের সংখ্যালঘু শিয়া মুসলিম জায়েদিদের প্রতিনিধিত্বকারী একটি সশস্ত্র রাজনৈতিক ও ধর্মীয় গোষ্ঠী। নিজেদের তারা ইরান-সমর্থিত “প্রতিরোধ অক্ষ”-এর অংশ বলে দাবি করে। এ অক্ষের অন্তর্ভুক্ত রয়েছে লেবাননের হিজবুল্লাহ ও ফিলিস্তিনের হামাসও।
২০১৪ সালে হুথিরা রাজধানী সানা দখল করার পর দেশটিতে গৃহযুদ্ধ শুরু হয়। ২০১৫ সালে সৌদি আরবের নেতৃত্বাধীন জোট হস্তক্ষেপ করলেও হুথিদের প্রভাবশালী অবস্থান দুর্বল হয়নি। বর্তমানে জাতিসংঘের মধ্যস্থতায় অস্ত্রবিরতি কার্যকর থাকলেও হুথি-ইসরায়েল সংঘাত পরিস্থিতিকে জটিল করছে।
গাজায় ইসরায়েল-হামাস যুদ্ধ শুরুর পর থেকেই হুথিরা ইসরায়েলের দিকে ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলা চালাচ্ছে এবং লোহিত সাগরে বাণিজ্যিক জাহাজে হামলা করছে। নিজেদের কর্মকাণ্ডকে তারা ফিলিস্তিনিদের প্রতি সংহতির বহিঃপ্রকাশ বলে দাবি করছে।
এর জবাবে ইসরায়েল ইয়েমেনের হুথি নিয়ন্ত্রিত অঞ্চলে একের পর এক বিমান হামলা চালিয়ে যাচ্ছে। সাম্প্রতিক এই হামলা সেই সংঘাতের অংশ হিসেবেই দেখা হচ্ছে।
আন্তর্জাতিক সংস্থা "আর্মড কনফ্লিক্ট লোকেশন অ্যান্ড ইভেন্ট ডাটা প্রজেক্ট (ACLED)" অনুযায়ী, এ পর্যন্ত ইয়েমেনের গৃহযুদ্ধে ১ লাখ ৬০ হাজারেরও বেশি মানুষ নিহত এবং ৪০ লক্ষাধিক মানুষ বাস্তুচ্যুত হয়েছেন।
বিজ্ঞাপন