রবিবার , ৩১ আগস্ট, ২০২৫ | ১৬ ভাদ্র, ১৪৩২ বঙ্গাব্দ
প্রকাশিত: ০৮:৪৭ ৩১ আগস্ট ২০২৫
এশিয়া-প্রশান্ত মহাসাগরীয় অঞ্চলের শীর্ষ ১০০ স্টার্টআপের তালিকায় স্থান করে নিয়েছে বাংলাদেশের দুটি প্রতিষ্ঠান—রাইড শেয়ারিং প্ল্যাটফর্ম পাঠাও এবং চাকরি খোঁজার সহায়ক ডিজিটাল প্ল্যাটফর্ম সম্ভব। এই তালিকাটি প্রকাশ করেছে বিশ্বখ্যাত সাময়িকী ফোর্বস।
ফোর্বসের তালিকায় পাঠাও স্থান পেয়েছে কনজ্যুমার টেকনোলজি ক্যাটাগরিতে। ২০১৫ সালে যাত্রা শুরু করা প্রতিষ্ঠানটির প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা ফাহিম আহমেদ। রাইড শেয়ারিংয়ের পাশাপাশি খাদ্য সরবরাহ, ই-কমার্স, লজিস্টিকস ও ফিনটেক সেবা দিয়ে পাঠাও বর্তমানে একটি বহুমুখী প্রযুক্তি কোম্পানিতে পরিণত হয়েছে।
প্রতিষ্ঠানটির তথ্যমতে, এখন পর্যন্ত পাঠাও অ্যাপ ৬০ লাখেরও বেশি বার ডাউনলোড হয়েছে এবং বাংলাদেশ ও নেপালে ৭ কোটিরও বেশি যাত্রা ও কার্যাদেশ সম্পন্ন হয়েছে। গত বছর ভেঞ্চারসুকের নেতৃত্বে প্রি-সিরিজ বি রাউন্ডে ১ কোটি ২০ লাখ ডলার তহবিল সংগ্রহ করে পাঠাও, যার মাধ্যমে মোট বিনিয়োগের পরিমাণ পৌঁছেছে ৫০ মিলিয়ন ডলার। এই তহবিলের মাধ্যমে পাঠাও সম্প্রসারণ করছে ফিনটেক সেবা, যেমন পাঠাও পে (ডিজিটাল ওয়ালেট) এবং পে লেটার (এখন কিনুন, পরে পরিশোধ করুন)।
আরেকটি বাংলাদেশি স্টার্টআপ সম্ভব তালিকায় স্থান পেয়েছে ভোক্তাপ্রযুক্তি খাতের ক্যাটাগরিতে। সম্ভব মূলত চাকরিপ্রার্থীদের দক্ষতা ও লক্ষ্য অনুযায়ী উপযুক্ত চাকরি খুঁজে পেতে সহায়তা করে। প্রার্থীরা ডিজিটাল প্রোফাইল তৈরি, চাকরির আবেদন এবং অনলাইন প্রশিক্ষণে অংশ নিতে পারেন। অন্যদিকে প্রতিষ্ঠানগুলো ‘সম্ভব’ ব্যবহার করে প্রার্থী বাছাই, নিয়োগ প্রক্রিয়া আউটসোর্সিং এবং বেতন-ভাতা ব্যবস্থাপনা করতে পারে।
সম্ভব মূলত নিম্ন আয়ের নারীদের চাকরি খুঁজে দেওয়ার জন্য যাত্রা শুরু করেছিল। ২০২৩ সালে গেটস ফাউন্ডেশন থেকে প্রতিষ্ঠানটি পেয়েছে ৩ লাখ ডলার অনুদান। চলতি বছরের মে মাসে সিঙ্গাপুরভিত্তিক কুকুন ক্যাপিটালের নেতৃত্বে প্রি-সিড ফান্ডিংয়ে ১০ লাখ ডলার তহবিল সংগ্রহ করেছে প্রতিষ্ঠানটি।
ফোর্বসের তালিকায় সবচেয়ে বেশি স্থান পেয়েছে ভারতীয় স্টার্টআপগুলো, মোট ১৮টি। এরপর রয়েছে সিঙ্গাপুর ও জাপানের ১৪টি করে। চীনের রয়েছে ৯টি, ইন্দোনেশিয়া ও দক্ষিণ কোরিয়ার ৮টি করে এবং অস্ট্রেলিয়ার ৭টি।
স্টার্টআপ হলো এমন একটি ব্যবসায়িক উদ্যোগ যা নির্দিষ্ট কোনো সমস্যার নতুন ও সহজ সমাধান দেয়। সাধারণত প্রযুক্তিনির্ভর এই প্রতিষ্ঠানগুলো সফটওয়্যার, অ্যাপ, ই-কমার্স, কৃষি প্রযুক্তি বা সামাজিক উদ্যোগভিত্তিক হতে পারে। প্রচলিত ব্যবসার তুলনায় স্টার্টআপ দ্রুত প্রসারিত হওয়ার সক্ষমতা রাখে।
বিজ্ঞাপন