• রবিবার , ১৬ আগস্ট, ২০২৬ | ১ ভাদ্র, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

আইনজীবী আলিফ হত্যা মামলায় বড় অগ্রগতি: চিন্ময় দাসসহ ৩৯ জনের বিরুদ্ধে চার্জ গঠন, সাক্ষ্য শুরু ২ ফেব্রুয়ারি

আইনজীবী আলিফ হত্যা মামলায় বড় অগ্রগতি: চিন্ময় দাসসহ ৩৯ জনের বিরুদ্ধে চার্জ গঠন, সাক্ষ্য শুরু ২ ফেব্রুয়ারি

অনলাইন ডেস্ক
অনলাইন ডেস্ক

প্রকাশিত: ০৪:৪৯ ১৯ জানুয়ারী ২০২৬

চট্টগ্রামে আইনজীবী সাইফুল ইসলাম আলিফ হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় সনাতনী জাগরণ জোটের মুখপাত্র চিন্ময় কৃষ্ণ দাসসহ মোট ৩৯ জন আসামির বিরুদ্ধে আনুষ্ঠানিকভাবে চার্জ গঠন করেছেন আদালত। সোমবার (২০ জানুয়ারি) সকালে চট্টগ্রাম দ্রুত বিচার ট্রাইব্যুনালের বিচারক মো. জাহিদুল হক মামলার এজাহার, চার্জশিট, সিসিটিভি ফুটেজ এবং আসামিদের স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি পর্যালোচনা শেষে এ আদেশ দেন। একই সঙ্গে আগামী ২ ফেব্রুয়ারি মামলার সাক্ষ্যগ্রহণের দিন ধার্য করা হয়।

মামলার ৩৯ জন আসামির মধ্যে বর্তমানে ২৩ জন কারাগারে রয়েছেন। সোমবার চিন্ময় কৃষ্ণ দাসসহ এই ২৩ জন হাজতি আসামিকে কঠোর নিরাপত্তার মধ্যে আদালতে হাজির করা হয়। বাকি ১৬ জন আসামি এখনও পলাতক রয়েছে বলে আদালত সূত্রে জানা গেছে।

আদালত চিন্ময় কৃষ্ণ দাসের বিরুদ্ধে দণ্ডবিধির ৩০২/১০৯ ধারায় এবং অন্যান্য আসামিদের বিরুদ্ধে ১৪৭/৪৪৮/৪৪৯/৩০২/৩৪ ধারায় অভিযোগ গঠন করেন। চার্জ গঠনের শুনানিতে চিন্ময় দাস নিজেই প্রায় ২৫ মিনিট ধরে আদালতে বক্তব্য উপস্থাপন করেন। এ ছাড়া পলাতক আসামিদের পক্ষে অ্যাডভোকেট দুলাল চন্দ্রনাথ এবং চিন্ময় দাসের পক্ষে আইনজীবী অপূর্ব কুমার ভট্টাচার্য তাদের যুক্তি তুলে ধরেন।

বিচারিক কার্যক্রম শেষে চিন্ময় কৃষ্ণ দাসকে আদালত কক্ষ থেকে বের করে আনার সময় আদালত প্রাঙ্গণে উত্তেজনাকর পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়। উপস্থিত আইনজীবীদের একটি বড় অংশ তাকে লক্ষ্য করে ‘খুনি খুনি’ স্লোগান দিতে থাকেন। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে পুলিশ দ্রুত ব্যবস্থা নেয় এবং কড়া নিরাপত্তার মধ্যে আসামিদের আদালত এলাকা থেকে সরিয়ে নেওয়া হয়।

রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী ও সহকারী পাবলিক প্রসিকিউটর মো. রায়হানুল ওয়াজেদ চৌধুরী বলেন, এটি একটি সংবেদনশীল, আলোচিত ও চাঞ্চল্যকর হত্যা মামলা। এই মামলার সঙ্গে দেশের আইনজীবী সমাজ, বিচারপ্রার্থী মানুষ, সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি এবং রাষ্ট্রের নিরাপত্তা সরাসরি জড়িত। তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করে বলেন, উপস্থাপিত প্রমাণের ভিত্তিতে আসামিদের বিরুদ্ধে আনা অভিযোগ সন্দেহাতীতভাবে প্রমাণিত হবে এবং ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠিত হবে।

শুনানিকালে আদালত প্রাঙ্গণে উপস্থিত ছিলেন নিহত আইনজীবী সাইফুল ইসলাম আলিফের বাবা। তিনি সাংবাদিকদের বলেন, “আমরা সরকারের কাছে এই নৃশংস হত্যাকাণ্ডের সঠিক বিচার চাই। আমাদের একমাত্র প্রত্যাশা ন্যায়বিচার।”

মামলার শুনানিকে কেন্দ্র করে আদালত এলাকায় নজিরবিহীন নিরাপত্তা ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়। আইনশৃঙ্খলা রক্ষায় এক হাজার পুলিশ সদস্যের পাশাপাশি সেনাবাহিনী, বিজিবি ও র‌্যাব মোতায়েন ছিল। কোতোয়ালি মোড় থেকে আদালতের প্রধান ফটক এবং সিনেমা প্যালেস মোড় পর্যন্ত সাধারণ যান চলাচল বন্ধ রাখা হয়। কেবল পরিচয়পত্র যাচাই সাপেক্ষে আইনজীবী ও সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের আদালত চত্বরে প্রবেশের অনুমতি দেওয়া হয়।

উল্লেখ্য, ২০২৪ সালের ২৬ নভেম্বর চিন্ময় দাসের জামিন আবেদন নামঞ্জুর হওয়ার পর চট্টগ্রাম আদালত এলাকায় উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে। প্রিজনভ্যান ঘিরে তার অনুসারীরা বিক্ষোভ শুরু করলে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে পুলিশ ও বিজিবি লাঠিচার্জ ও সাউন্ড গ্রেনেড ব্যবহার করে। সেই উত্তপ্ত পরিস্থিতিতেই আইনজীবী সাইফুল ইসলাম আলিফকে কুপিয়ে ও পিটিয়ে হত্যা করা হয়, যা দেশজুড়ে ব্যাপক আলোড়ন সৃষ্টি করে।

বিজ্ঞাপন