• বৃহস্পতিবার , ০৭ মে, ২০২৬ | ২৪ বৈশাখ, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

শান্তি ও সম্প্রীতির বার্তায় তেতুলিয়ায় উদযাপিত খ্রিস্টানদের মহোৎসব বড়দিন

শান্তি ও সম্প্রীতির বার্তায় তেতুলিয়ায় উদযাপিত খ্রিস্টানদের মহোৎসব বড়দিন

খাদেমুল ইসলাম: পঞ্চগড় প্রতিনিধি
খাদেমুল ইসলাম: পঞ্চগড় প্রতিনিধি

প্রকাশিত: ০৭:০২ ২৬ ডিসেম্বর ২০২৫

পঞ্চগড়ের তেতুলিয়ায় ব্যাপক উৎসাহ-উদ্দীপনা ও ধর্মীয় ভাবগাম্ভীর্যের মধ্য দিয়ে খ্রিস্টান ধর্মাবলম্বীদের সবচেয়ে বড় ধর্মীয় উৎসব বড়দিন উদযাপন করা হয়েছে। দিনব্যাপী নানা কর্মসূচির মধ্য দিয়ে যিশু খ্রিস্টের জন্মতিথি স্মরণ করে প্রার্থনা, আনন্দ ও সম্প্রীতির আবহে উৎসবটি পালন করেন স্থানীয় খ্রিস্টান সম্প্রদায়ের মানুষ।

বৃহস্পতিবার (২৫ ডিসেম্বর) সকালে তেতুলিয়া উপজেলার বিভিন্ন গির্জা ও উপাসনালয়ে বড়দিন উপলক্ষে বিশেষ প্রার্থনার আয়োজন করা হয়। প্রার্থনার শুরুতে যিশু খ্রিস্টের মহাকীর্তন করা হয় এবং পরে বিশ্বশান্তি, মানবকল্যাণ ও মানুষে মানুষে সৌহার্দ্য কামনা করা হয়। প্রার্থনায় অংশ নেন খ্রিস্টান ধর্মাবলম্বীদের সব বয়সী নারী-পুরুষ।

এবার তেতুলিয়ায় সাদ্ধী সিসিলিয়া গির্জা, ময়নাগুড়ি কামাতপাড়া গির্জা, কালদাসপাড়া বালাবাড়ি গির্জা, সংকরপাড়া গির্জা, দর্জিপাড়া গির্জাসহ বিভিন্ন ক্যাথলিক গির্জায় একযোগে বড়দিনের বিশেষ প্রার্থনা অনুষ্ঠিত হয়। বড়দিন উপলক্ষে গির্জাগুলোকে বর্ণিল আলোকসজ্জা ও ফুল দিয়ে সুসজ্জিত করা হয়। পাশাপাশি উপজেলার বিভিন্ন গ্রামেও ক্যাথলিক খ্রিস্টানদের গির্জাগুলোতে ধর্মীয় আনুষ্ঠানিকতা পালন করা হয়।

সকালে তেতুলিয়ার বুড়াবুড়ি কালদাসপাড়া বালাবাড়ি গির্জা এলাকার উত্তম মেষপালক ক্যাথিড্রালে অনুষ্ঠিত হয় বিশেষ প্রার্থনা। এতে যিশু খ্রিস্টের জীবনাদর্শ, ক্ষমা ও ভালোবাসার মহিমা তুলে ধরে বক্তব্য দেন তেতুলিয়া ধর্মপ্রদেশের বিশপ জের্ভাস রোজারিও। তিনি হিংসা-বিদ্বেষ পরিহার করে সুন্দর মনের মানুষ হিসেবে জীবন গড়ে তোলার আহ্বান জানান।

বিশেষ প্রার্থনা শেষে উত্তম মেষপালক ক্যাথিড্রালে যিশু খ্রিস্টের জন্মদিন উপলক্ষে কেক কাটা হয়। এ সময় উপস্থিত ধর্মপ্রাণ খ্রিস্টানদের মধ্যে আনন্দ ও উচ্ছ্বাস ছড়িয়ে পড়ে।

এর আগে বুধবার রাত থেকেই খ্রিস্টান ধর্মাবলম্বীদের বাড়িতে বাড়িতে শুরু হয় বড়দিনের আনুষ্ঠানিকতা। ঘর সাজানো, আলোকসজ্জা, প্রার্থনা ও পারিবারিক মিলনমেলায় উৎসবের আমেজ তৈরি হয় পুরো এলাকায়।

বৃহস্পতিবার বড়দিনের বিশেষ প্রার্থনার পাশাপাশি দিনব্যাপী অন্যান্য আয়োজনের মধ্যে ছিল শুভেচ্ছা বিনিময়, প্রীতিভোজ, খেলাধুলা এবং সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান। এসব আয়োজনে অংশগ্রহণের মাধ্যমে খ্রিস্টান সম্প্রদায়ের মানুষ বড়দিনের আনন্দ একে অপরের সঙ্গে ভাগ করে নেন, আর পুরো তেতুলিয়া জুড়ে সৃষ্টি হয় শান্তি ও সম্প্রীতির এক অনন্য পরিবেশ।

বিজ্ঞাপন

https://moreshopbd.com/