বাসচালক আবু জাফর কর্মস্থলে যাওয়ার পথে গুলিতে নিহত হন

নিহত আবু জাফর

প্রকাশিত: ১১:৩৪ ২৯ জুলাই ২০২৪
‘আমার ছোট ভাই বাসের চালক ছিল। কর্মস্থলে হেঁটে যাওয়ার পথে গুলিতে নিহত হলো। তার তো কোনো অপরাধ ছিল না।’ কোটা সংস্কার আন্দোলনকে কেন্দ্র করে সংঘর্ষে রাজধানীর গোলাপবাগ এলাকায় গুলিতে নিহত বাসচালক আবু জাফর ওরফে বাদশার (৪৯) বিষয়ে এভাবে বলছিলেন তাঁর ভাই বেলায়েত হাওলাদার।
জাফরের গ্রামের বাড়ি পিরোজপুরের মঠবাড়িয়া উপজেলার ছোট মাছুয়া গ্রামে। গতকাল রোববার তাঁর বাড়িতে গিয়ে পরিবারের সদস্য ও স্বজনদের সঙ্গে কথা বলেন এই প্রতিবেদক। পরিবারের ছোট ছেলে আবু জাফর বাবার বাড়িতে স্ত্রী ও তিন ছেলেকে নিয়ে বসবাস করতেন। শ্যামলী পরিবহনের চালক ছিলেন তিনি। ১৮ জুলাই সন্ধ্যায় রাজধানীর গোলাপবাগে আন্দোলনের সময় গুলিতে নিহত হন। ১৯ জুলাই রাতে গ্রামের বাড়িতে তাঁর লাশ দাফন করা হয়।
গতকাল দুপুরে জাফরের বাড়িতে গিয়ে দেখা যায়, ঘরের ভেতরে বৃদ্ধা মা সেতারা বেগম ছেলে হারানোর শোকে কান্নাকাটি করছেন। আর স্বামীর মৃত্যুর খবর পাওয়ার পর থেকে শোকে পাথর হয়ে আছেন হাসিনা বেগম। স্বজনেরা জানান, আবু জাফরের আয়েই সংসার চলত। পৈতৃক সূত্রে পাওয়া বসতবাড়িটি ছাড়া তাঁদের আর কোনো সম্পদও নেই।
জাফরের পরিবারের সদস্যদের দাবি, ১৭ জুলাই সন্ধ্যায় শ্যামলী পরিবহনের একটি যাত্রীবাহী বাস নিয়ে মঠবাড়িয়া থেকে ঢাকার উদ্দেশে রওনা হন তিনি। পরদিন বিকেলে তাঁকে ফোন করে বাস কাউন্টারে যেতে বলেন পরিবহনটির কর্মকর্তারা। ফোন পেয়ে ওই দিন সন্ধ্যা সাতটার দিকে ঢাকার বাসা থেকে বের হয়ে হেঁটে কর্মস্থলের দিকে যাচ্ছিলেন। পরে রাজধানীর গোলাপবাগ এলাকায় পৌঁছার পর পুলিশের ছোড়া গুলি এসে তাঁর গলা ও বুকে বিদ্ধ হয়। এতে তিনি ঘটনাস্থলে সড়কের ওপর লুটিয়ে পড়েন। আশপাশের পথচারীরা উদ্ধার করে মুগদা হাসপাতালে নিয়ে গেলে তাঁকে মৃত ঘোষণা করেন চিকিৎসক। পথচারী এক নারীর কাছ থেকে মুঠোফোনে জাফরের মৃত্যুর খবর পান তাঁরা।
‘আমার স্বামীর অপরাধ কী? কেন পুলিশের গুলিতে তাঁর মরতে হলো?’ ক্ষোভ নিয়েই কথাগুলো বলছিলেন জাফরের স্ত্রী হাসিনা বেগম। তিনি বলেন, ‘আমার স্বামী ছিলেন সংসারের একমাত্র উপার্জনক্ষম ব্যক্তি। তিন ছেলের মধ্যে বড় ছেলে পড়াশোনা শেষ করে বেকার। মেজ ছেলে কেরানীগঞ্জের একটি মাদ্রাসায় এবং ছোট ছেলে স্থানীয় বিদ্যালয়ে পঞ্চম শ্রেণিতে পড়াশোনা করে। তাঁর মৃত্যুতে আমরা নিঃস্ব হয়ে গেছি। আমাদের বসতবাড়ি ছাড়া আর কোনো সম্পদও নেই।’
‘এখন লিখে কী করবেন, আমার বাবারে তো আর ফিরাইয়া দিতে পারবেন না’
জাফরের বড় ছেলে শাওন হাওলাদার বলেন, ‘আমার বাবা প্রথম জীবনে রিকশা চালাতেন। এরপর বাসের চালকের সহকারী এবং পরে বাসচালক হয়েছেন। বাবার আয়েই সংসার চলত। তাঁর মৃত্যুর পর পরিবারের আয়রোজগার বন্ধ। চাচাদের দেওয়া খাবার খেয়ে দিন কাটাচ্ছি। উপজেলা প্রশাসনের কাছ থেকে দাফন–কাফনের জন্য ১০ হাজার টাকা সহায়তা পেয়েছি।’
বাবার স্মৃতি হাতড়ে ছোট ছেলে নাঈম হাওলাদার বলেন, ‘আব্বা ঢাকা থেকে বাড়ি এলে আম নিয়ে আসতেন। আমার জন্য চিপস আর দাদির জন্য পানও নিয়ে আসতেন। আমরা প্রতিদিন আম–দুধ খেতাম। আব্বার মৃত্যুর পর আর আম খাওয়া হয়নি।’
সর্বোচ্চ পঠিত - দেশজুড়ে
- চট্টগ্রামে ‘শীর্ষ সন্ত্রাসী’ মনা গ্রেপ্তার, বিপুল অস্ত্র উদ্ধার
- জঙ্গি হামলার আশঙ্কা: শাহজালালসহ ৮ বিমানবন্দরে কড়া নিরাপত্তা জোরদার
- তেহরানের ‘অব্যবহৃত কার্ড’ ইস্যুতে নতুন আলোচনা: অর্থনৈতিক শক্তির লড়াইয়ে ইঙ্গিত ইরানের
- ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় বিকাশ লেনদেন নিয়ে ত্রিমুখী সংঘর্ষ, টর্চ জ্বালিয়ে রাতভর হামলা, আহত ৩০
- দক্ষিণ লেবাননে সংঘর্ষে ইসরায়েলি সেনা নিহত, উত্তেজনা আরও বাড়ল
- হোয়াইট হাউসে হামলাকারী ‘অসুস্থ মানসিকতার’ লোক: ট্রাম্প
- নেতানিয়াহুর দুর্নীতি মামলার শুনানি শুরু, বাড়ছে রাজনৈতিক চাপ
- দক্ষিণ লেবাননে ইসরায়েলি সেনাবহরে হিজবুল্লাহর হামলা
- সাভারে ভূমিদস্যুদের হামলায় পিতা-পুত্রসহ তিনজন আহত
- যুদ্ধবিরতিতে পরমাণু প্রকল্পসহ ইরানের নতুন তিন প্রস্তাব
- পোপ লিওকে আক্রমণ ট্রাম্পের, “আমি এই পোপের একদমই ভক্ত নই”
- জ্বালানি সাশ্রয়ে সরকারি অফিসে নতুন সূচি: তিন দিন অফিস, দুই দিন বাসা থেকে কাজ
- নদীতে টাকার বস্তা ভাসার ছবি ভাইরাল, শেষে জানা গেল আসল সত্য
- শোবিজ ছাড়ার পর নতুন জীবন,এবার বিয়ের পিঁড়িতে সিমরিন লুবাবা
- যুক্তরাষ্ট্রে হাতুড়ির আঘাতে বাংলাদেশি নারী হত্যা, ট্রাম্পের প্রতিক্রিয়া
- আমির হামজার বিরুদ্ধে শত কোটি টাকার মানহানির মামলা
- শিমুলতলা পল্লী বিদ্যুৎ অফিসে দালাল চক্রের দৌরাত্ম্য, হয়রানির অভিযোগে ক্ষোভ
- নড়াইলে জেলা পরিষদের প্রশাসক হলেন বীর মুক্তিযোদ্ধা মোস্তাফিজুর রহমান আলেক
- জ্বালানি সংকটে ফিলিপাইনে বন্ধ ৩ শতাধিক পেট্রোল পাম্প
- জ্বালানি সংকটে দোকানপাট ও শপিংমল বন্ধ রাত ৮টায়





