• শনিবার , ২৭ জুন, ২০২৬ | ১৩ আষাঢ়, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

ডা. শফিকুর রহমান: জীবন, চিকিৎসা পেশা ও রাজনৈতিক পথচলা

ডা. শফিকুর রহমান: জীবন, চিকিৎসা পেশা ও রাজনৈতিক পথচলা

ডা. শফিকুর রহমান: জীবন, চিকিৎসা পেশা ও রাজনৈতিক পথচলা

মোরনিউজ ডেস্ক
মোরনিউজ ডেস্ক

প্রকাশিত: ০৩:৪৯ ২৭ জুন ২০২৬

ডা. শফিকুর রহমান বাংলাদেশের একজন পরিচিত রাজনীতিবিদ, চিকিৎসক ও বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর আমীর। তিনি ছাত্রজীবন থেকেই রাজনীতি ও সামাজিক কাজের সঙ্গে যুক্ত ছিলেন। চিকিৎসা পেশা, সাংগঠনিক দক্ষতা এবং দীর্ঘ রাজনৈতিক অভিজ্ঞতার মাধ্যমে তিনি দেশের রাজনীতিতে একটি গুরুত্বপূর্ণ অবস্থান তৈরি করেছেন।

১. জন্ম ও পারিবারিক পরিচয়

ডা. শফিকুর রহমান ১৯৫৮ সালের ৩১ অক্টোবর মৌলভীবাজার জেলার কুলাউড়া উপজেলার ভাটেরা ইউনিয়নে জন্মগ্রহণ করেন। তার পিতার নাম মোহাম্মদ আবরু মিয়া এবং মাতার নাম খাতিরুন নেছা। তিনি একটি সম্ভ্রান্ত মুসলিম পরিবারে জন্মগ্রহণ করেন এবং ভাই-বোনদের মধ্যে তিনি তৃতীয়।

২. ছোটকাল ও বেড়ে ওঠা

ডা. শফিকুর রহমান ছোটবেলা থেকেই শিক্ষার প্রতি মনোযোগী ছিলেন। গ্রামের পরিবেশে বেড়ে উঠলেও তিনি ধীরে ধীরে নিজেকে শিক্ষা, নৈতিকতা ও নেতৃত্বের পথে গড়ে তোলেন। তার শৈশব ও পারিবারিক শিক্ষা পরবর্তী জীবনে তাকে সমাজসেবা ও রাজনীতির দিকে এগিয়ে যেতে সাহায্য করে।

৩. শিক্ষাজীবন

তিনি ১৯৭৪ সালে বরমচাল উচ্চ বিদ্যালয় থেকে এসএসসি পাস করেন। এরপর ১৯৭৬ সালে সিলেট এমসি কলেজ থেকে এইচএসসি পাস করেন। পরবর্তীতে তিনি সিলেট মেডিকেল কলেজ, বর্তমান এম এ জি ওসমানী মেডিকেল কলেজ, থেকে ১৯৮৩ সালে এমবিবিএস ডিগ্রি অর্জন করেন। চিকিৎসা শিক্ষা তার জীবনকে মানবসেবা ও সমাজসেবার সঙ্গে আরও গভীরভাবে যুক্ত করে।

৪. পেশাগত পরিচয়

পেশাগতভাবে তিনি একজন চিকিৎসক। এমবিবিএস ডিগ্রি অর্জনের পর তিনি চিকিৎসা সেবার মাধ্যমে মানুষের পাশে দাঁড়ান। রাজনীতির পাশাপাশি সমাজসেবা, শিক্ষা প্রতিষ্ঠান, হাসপাতাল ও মানবিক কার্যক্রমের সঙ্গে তার সম্পৃক্ততা রয়েছে।

৫. ছাত্ররাজনীতিতে প্রবেশ

ডা. শফিকুর রহমানের রাজনৈতিক জীবনের শুরু ছাত্রজীবনে। ১৯৭৩ সালে তিনি জাসদ ছাত্রলীগের মাধ্যমে ছাত্ররাজনীতিতে যুক্ত হন। পরে ১৯৭৭ সালে তিনি বাংলাদেশ ইসলামী ছাত্রশিবিরে যোগ দেন। মেডিকেল কলেজে পড়ার সময় তিনি ইসলামী ছাত্রশিবিরের বিভিন্ন দায়িত্ব পালন করেন।

৬. জামায়াতে ইসলামীর রাজনীতিতে প্রবেশ

১৯৮৪ সালে ডা. শফিকুর রহমান বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীতে যোগ দেন। এরপর তিনি ধাপে ধাপে সিলেট জেলা, সিলেট মহানগর এবং কেন্দ্রীয় পর্যায়ে বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব পালন করেন। তার সাংগঠনিক দক্ষতা ও নেতৃত্বের কারণে তিনি দলের গুরুত্বপূর্ণ নেতাদের একজন হয়ে ওঠেন।

৭. গুরুত্বপূর্ণ রাজনৈতিক দায়িত্ব

তিনি ১৯৮৫ সালে জামায়াতের কেন্দ্রীয় মজলিসে শুরার সদস্য হন। পরে সিলেট জেলা সেক্রেটারি, সিলেট জেলা নায়েবে আমীর, সিলেট জেলা আমীর এবং সিলেট মহানগর আমীর হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। ২০১০ সালে তিনি কেন্দ্রীয় সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল হন। ২০১৬ সালে তিনি জামায়াতে ইসলামীর সেক্রেটারি জেনারেল হিসেবে দায়িত্ব পান।

৮. আমীরে জামায়াত হওয়া

ডা. শফিকুর রহমান ২০১৯ সালে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর আমীর নির্বাচিত হন। এরপর তিনি দলের সর্বোচ্চ নেতৃত্বে দায়িত্ব পালন করেন। তার নেতৃত্বে জামায়াতে ইসলামী সাংগঠনিক কার্যক্রম, রাজনৈতিক অবস্থান ও সামাজিক কর্মকাণ্ড চালিয়ে যায়।

৯. পারিবারিক জীবন

ডা. শফিকুর রহমান ১৯৮৫ সালে ডা. আমিনা বেগমের সঙ্গে বিবাহবন্ধনে আবদ্ধ হন। ডা. আমিনা বেগম অষ্টম জাতীয় সংসদের সদস্য ছিলেন। তাদের দুই মেয়ে ও এক ছেলে রয়েছে। তার পরিবারের সদস্যরাও চিকিৎসা ও শিক্ষা পেশার সঙ্গে যুক্ত।

১০. সমাজসেবা ও জনকল্যাণমূলক কাজ

রাজনীতির পাশাপাশি ডা. শফিকুর রহমান সমাজসেবামূলক কাজেও যুক্ত। তিনি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান, চিকিৎসা প্রতিষ্ঠান, ইয়াতিমখানা, দাতব্য হাসপাতাল, মসজিদ, পাঠাগারসহ বিভিন্ন সামাজিক কার্যক্রমের সঙ্গে সম্পৃক্ত ছিলেন। ছাত্রজীবনে মেডিকেল কলেজে স্বেচ্ছায় রক্তদানকারী ক্লাবের সঙ্গেও তিনি যুক্ত ছিলেন।

সারাংশ

ডা. শফিকুর রহমান একজন চিকিৎসক, রাজনীতিবিদ, সংগঠক ও সমাজসেবক। মৌলভীবাজারের কুলাউড়া থেকে উঠে এসে তিনি শিক্ষা, চিকিৎসা, ছাত্ররাজনীতি এবং জাতীয় রাজনীতির বিভিন্ন ধাপ অতিক্রম করেছেন। দীর্ঘ রাজনৈতিক অভিজ্ঞতা, নেতৃত্বগুণ এবং সামাজিক কর্মকাণ্ডের কারণে তিনি বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর অন্যতম প্রধান নেতা হিসেবে পরিচিত।

বিজ্ঞাপন

https://moreshopbd.com/