• শনিবার , ৩০ মে, ২০২৬ | ১৬ জ্যৈষ্ঠ, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

যে বক্তব্যে তোলপাড়, অবশেষে তা প্রত্যাহার করলেন ববি হাজ্জাজ

যে বক্তব্যে তোলপাড়, অবশেষে তা প্রত্যাহার করলেন ববি হাজ্জাজ

অনলাইন ডেস্ক
অনলাইন ডেস্ক

প্রকাশিত: ০৪:১৮ ৩০ মে ২০২৬

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় নিয়ে দেওয়া বিতর্কিত বক্তব্য সম্পূর্ণভাবে প্রত্যাহার করেছেন প্রাথমিক ও গণশিক্ষা প্রতিমন্ত্রী ববি হাজ্জাজ। শুক্রবার (২৯ মে) নিজের ভেরিফায়েড ফেসবুক পেজে দেওয়া এক পোস্টে তিনি এ ঘোষণা দেন। একই সঙ্গে তিনি আশা প্রকাশ করেন, এ বিষয়ে আর কোনো ভুল বোঝাবুঝি বা বিতর্ক থাকবে না।

সম্প্রতি একটি পডকাস্টে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়কে কোচিং সেন্টারের সঙ্গে তুলনা করে দেওয়া তার বক্তব্য গণমাধ্যম ও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ব্যাপক আলোচনার জন্ম দেয়। বক্তব্যটি নিয়ে শিক্ষার্থী, শিক্ষক, সাবেক শিক্ষার্থী এবং বিভিন্ন মহলে সমালোচনার ঝড় ওঠে। এর পরিপ্রেক্ষিতে নিজের অবস্থান ব্যাখ্যা করে বক্তব্য প্রত্যাহারের সিদ্ধান্ত জানান প্রতিমন্ত্রী।

‘ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় নিয়ে সাম্প্রতিক আলোচনা ও বক্তব্যের ভুল উপস্থাপন প্রসঙ্গে’ শিরোনামে দেওয়া পোস্টে ববি হাজ্জাজ বলেন, পডকাস্টে দেওয়া মন্তব্যগুলো ছিল সম্পূর্ণ ব্যক্তিগত মতামত এবং তা কোনোভাবেই সরকারের আনুষ্ঠানিক অবস্থান বা নীতির প্রতিফলন নয়। তিনি দাবি করেন, তার বক্তব্যের কিছু অংশ ভুলভাবে বোঝা হয়েছে এবং কিছু ক্ষেত্রে ভুল ব্যাখ্যা করা হয়েছে। মূলত তিনি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়কে আরও গবেষণাভিত্তিক ও বিশ্বমানের বিশ্ববিদ্যালয় হিসেবে গড়ে তোলার প্রয়োজনীয়তার কথা বলতে চেয়েছিলেন।

তিনি আরও বলেন, গত ১৭ বছরে দেশের উচ্চশিক্ষা খাত নানা চ্যালেঞ্জের মুখোমুখি হয়েছে। গবেষণার প্রতি পর্যাপ্ত গুরুত্ব দেওয়া হয়নি, রাজনৈতিক বিবেচনায় বিভিন্ন সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে এবং শিক্ষক নিয়োগ ও পদোন্নতিতে স্বচ্ছতা ও মেধাভিত্তিক মূল্যায়ন নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। পাশাপাশি প্লেজারিজম বা চৌর্যবৃত্তির মতো অনৈতিক একাডেমিক চর্চার অভিযোগও বিভিন্ন সময়ে সামনে এসেছে। এসব প্রবণতার তিনি সমালোচনা করেন এবং মনে করেন, একটি মর্যাদাপূর্ণ বিশ্ববিদ্যালয়ে এসবের কোনো স্থান থাকা উচিত নয়।

ববি হাজ্জাজ বলেন, পডকাস্টের আলোচনাটি ছিল অনানুষ্ঠানিক ও স্বতঃস্ফূর্ত কথোপকথন। এটি কোনো গবেষণাভিত্তিক বা নীতিগত আলোচনা ছিল না। যদি এটি আনুষ্ঠানিক একাডেমিক আলোচনা হতো, তাহলে বক্তব্যের ভাষা ও উপস্থাপনাও আরও সুসংগঠিত ও নির্দিষ্ট হতো।

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রতি নিজের শ্রদ্ধার কথা উল্লেখ করে তিনি বলেন, বিশ্ববিদ্যালয়টির ইতিহাস, ঐতিহ্য এবং জাতি গঠনে অবদান অনস্বীকার্য। তিনি চান, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় শুধু দেশের উচ্চশিক্ষার প্রাণকেন্দ্র হিসেবেই নয়, বরং আন্তর্জাতিক মানের গবেষণা, উদ্ভাবন ও জ্ঞানচর্চার কেন্দ্র হিসেবেও আরও শক্তিশালী অবস্থান তৈরি করুক।

পোস্টের শেষাংশে প্রতিমন্ত্রী বলেন, তার বক্তব্যের কারণে অনেকেই কষ্ট পেয়েছেন, অসন্তুষ্ট হয়েছেন এবং ভুল বোঝাবুঝির সৃষ্টি হয়েছে। সে কারণেই তিনি সম্পূর্ণভাবে বক্তব্য প্রত্যাহার করে নিচ্ছেন। একই সঙ্গে তিনি আশা করেন, এর মাধ্যমে এ বিষয়ে চলমান বিতর্কের অবসান ঘটবে।

বিজ্ঞাপন

https://moreshopbd.com/