মৌলভীবাজার-৪ আসনে ৫৫ বছর পর বিএনপির ঐতিহাসিক জয়


প্রকাশিত: ১১:৪৮ ১৩ ফেব্রুয়ারী ২০২৬
মৌলভীবাজার-৪ (শ্রীমঙ্গল-কমলগঞ্জ) আসনটি দুটি উপজেলা নিয়ে গঠিত। স্বাধীনতার পর থেকে দীর্ঘদিন ধরে এ আসনটি আওয়ামী লীগের দখলে ছিল এবং জাতীয় নির্বাচনে বিএনপির কোনো প্রার্থী এখানে জয়লাভ করতে পারেননি। তবে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ৫৫ বছর পর এ আসনে বিএনপির প্রার্থী বিপুল ভোটের ব্যবধানে বিজয় অর্জন করেছেন। স্থানীয়দের মতে, এটি একটি ঐতিহাসিক ও ভূমিধস জয়।
নির্বাচন সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা যায়, ধানের শীষ প্রতীকের বিএনপি প্রার্থী মুজিবুর রহমান চৌধুরী (হাজী মুজিব) পোস্টাল ভোটসহ মোট ১ লাখ ৭০ হাজার ৮৭৭ ভোট পেয়েছেন। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের প্রার্থী মাওলানা নূরে আলম হামিদী পেয়েছেন ৫০ হাজার ২০৪ ভোট। ১ লাখ ২০ হাজার ৬৭৩ ভোটের ব্যবধানে বিএনপি প্রার্থী বিজয়ী হন।
এটি সিলেট বিভাগের ১৯টি আসনের মধ্যে সর্বোচ্চ ভোটের ব্যবধানে বিএনপি প্রার্থীর বিজয়ের রেকর্ড।
রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, অতীতে এ আসনে আওয়ামী লীগের ধারাবাহিক সাফল্যের পেছনে সংখ্যালঘু ও চা শ্রমিকদের ভোট গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখত। তবে এবারের নির্বাচনে বিএনপি প্রার্থী ও তার দলীয় নেতাকর্মীরা তৃণমূল পর্যায়ে ব্যাপক প্রচার-প্রচারণা চালান।
দীর্ঘ ২৬ বছর ধরে রাজনীতিতে সক্রিয় হাজী মুজিব চা-বাগান শ্রমিক, ২৬টি ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠী এবং সংখ্যালঘু হিন্দু ভোটারদের মধ্যে জনপ্রিয়তা অর্জন করেন। পাশাপাশি গ্রামীণ মুসলিম ভোটারদের মধ্যেও তার ব্যাপক সমর্থন লক্ষ্য করা যায়।
২০০১ সালে তিনি প্রথমবার এ আসনে নির্বাচনে অংশ নেন। তার প্রতিদ্বন্দ্বী ছিলেন আওয়ামী লীগের সাবেক কৃষিমন্ত্রী ও সাতবারের সংসদ সদস্য উপাধ্যক্ষ আব্দুস শহীদ। পরবর্তী সময়ে তার বিরুদ্ধে একাধিক মামলা ও হয়রানির অভিযোগ ওঠে। ২০০৯ সালের পর বিভিন্ন মামলায় তিনি প্রায় চার বছর কারাভোগ করেন বলেও জানা যায়।
২০১৮ সালের নির্বাচন নিয়েও তিনি অনিয়মের অভিযোগ তুলেছিলেন। দীর্ঘ রাজনৈতিক উত্থান-পতনের মধ্য দিয়ে এলাকায় তার জনপ্রিয়তা বৃদ্ধি পায় বলে স্থানীয়রা মনে করেন।
মৌলভীবাজার-৪ আসনে মোট ১৮টি ইউনিয়ন ও ২টি পৌরসভা রয়েছে। এবারের নির্বাচনে প্রায় ২ হাজার ৫০০ পোস্টাল ভোটারসহ মোট ভোটার ছিলেন ৪ লাখ ৮৫ হাজার ৫৫৮ জন। ছয়জন প্রার্থী প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেন। এর মধ্যে বিএনপির বহিষ্কৃত নেতা ও স্বতন্ত্র প্রার্থী মহসিন মিয়া মধু উল্লেখযোগ্য ভোট পাননি।
দুই উপজেলায় মোট ভোট পড়েছে (বাতিলসহ) ২ লাখ ৭২ হাজার ২৯৪টি, যা প্রায় ৫৫ শতাংশ ভোটার উপস্থিতির সমান।
ভোটারদের মতে, প্রার্থীর ব্যক্তিগত জনপ্রিয়তা, বিএনপির সক্রিয় সাংগঠনিক তৎপরতা এবং ঘোষিত বিভিন্ন নাগরিক সুবিধার প্রতিশ্রুতি—বিশেষ করে কৃষি ও ফ্যামিলি কার্ড কর্মসূচি—এই বিজয়ে ভূমিকা রেখেছে।
বিজ্ঞাপন
সর্বোচ্চ পঠিত - রাজনীতি
- দেশে সারের সংকট নেই, বিশৃঙ্খলা পরিকল্পিত: কৃষিমন্ত্রী
- ইমাম-উলামাদের আপত্তিতে কিশোরগঞ্জে অ্যাশেজের কনসার্ট স্থগিত
- দীপু মনির প্যারোলের সিদ্ধান্তের পর স্বামীর জানাজা ও দাফন
- রবার্তো কার্লোস কি ইসলাম গ্রহণ করেছেন? যা জানা গেছে
- হরমুজ প্রণালিতে নিজেদের নিয়ন্ত্রণ হারাচ্ছে ইরান
- স্মার্টফোনের দাম ৫০–৬০ ডলারে নামানোর উদ্যোগ নিচ্ছে সরকার
- আখ চাষে বদলাচ্ছে কৃষকের ভাগ্য, খুলছে বাড়তি আয়ের পথ
- মালিক বা দোকানদার নেই, টাকা রেখে নিজেই চা বানিয়ে খেতে হয় যে দোকানে
- এনবিআর ভেঙে দুটি স্বতন্ত্র প্রতিষ্ঠান হচ্ছে: অর্থমন্ত্রী
- সরকারের ৬ মাসের মূল্যায়ন নিয়ে আজ জামায়াতের সংবাদ সম্মেলন
- ১৫০০ কোটি টাকার ‘সুফল’ প্রকল্পে দুর্নীতি: বন অধিদপ্তরে দুদকের অভিযান ও নথি তলব
- লামিনে ইয়ামালের সাফল্যের পেছনে দাদির ত্যাগের গল্প, যেভাবে বদলে গেল জীবন
- জামায়াত ফেরেশতাদের দল নয়, আমাদেরও ভুলত্রুটি হতে পারে: বিরোধীদলীয় নেতা
- ম্যাজিক চুলায় ভাত রাঁধতে গিয়ে বিদ্যুৎস্পৃষ্টে গৃহবধূর মৃত্যু
- এক বছরের মধ্যে জুলাই গণহত্যার সব তদন্ত শেষ করার আশা চিফ প্রসিকিউটরের
- অধিনায়কত্ব হারানোর পথে মিরাজ, নতুন দায়িত্ব পাচ্ছেন কে?
- গভীর নিম্নচাপে উত্তাল বঙ্গোপসাগর, দেশজুড়ে ভারী বৃষ্টির পূর্বাভাস
- 'মুখে হাড় থাকলে কুকুর ঘেউ ঘেউ করতে পারে না': বলিউডের নীরবতা নিয়ে নাসিরুদ্দিন শাহ্র কটাক্ষ
- দিল্লিতে বিক্ষোভ ঘিরে পুলিশ-জনতা সংঘর্ষ, ইন্টারনেট স্থগিত ও মেট্রো পরিষেবা বন্ধ
- ‘দ্য ওডিসি’র পর চলচ্চিত্র নির্মাণে তিন বছরের বিরতি নেবেন নোলান




