• বৃহস্পতিবার , ২০ আগস্ট, ২০২৬ | ৫ ভাদ্র, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

‘ধর্ম-বর্ণ নির্বিশেষে ঐক্যই রাষ্ট্র পুনর্গঠনের পথ’—নারায়ণগঞ্জে তারেক রহমানের আহ্বান

‘ধর্ম-বর্ণ নির্বিশেষে ঐক্যই রাষ্ট্র পুনর্গঠনের পথ’—নারায়ণগঞ্জে তারেক রহমানের আহ্বান

অনলাইন ডেস্ক
অনলাইন ডেস্ক

প্রকাশিত: ১১:৫৩ ২৩ জানুয়ারী ২০২৬

রাষ্ট্রকে পুনর্গঠন ও মেরামত করতে হলে সব ধর্মের মানুষকে সঙ্গে নিয়ে ঐক্যবদ্ধভাবে এগিয়ে যাওয়ার বিকল্প নেই—এমন মন্তব্য করেছেন বিএনপির চেয়ারম্যান তারেক রহমান। তিনি বলেন, মুসলমান, হিন্দু, খ্রিস্টান ও বৌদ্ধ—সব ধর্মের মানুষ হাজার বছর ধরে এ দেশে শান্তিপূর্ণভাবে বসবাস করে আসছে এবং ভবিষ্যতেও এই সম্প্রীতির ধারাবাহিকতা বজায় রাখতে হবে।

শুক্রবার (২১ জানুয়ারি) ভোরে নারায়ণগঞ্জের আড়াইহাজার উপজেলার পাঁচরুখী বেগম আনোয়ারা ডিগ্রি কলেজ মাঠে অনুষ্ঠিত এক বিশাল নির্বাচনী জনসভায় তিনি এসব কথা বলেন। সিলেট জেলা থেকে শুরু হওয়া তার নির্বাচনী সমাবেশের শেষ কর্মসূচি ছিল এই জনসভা, যেখানে বিপুলসংখ্যক নেতাকর্মী ও সাধারণ মানুষের উপস্থিতি ছিল চোখে পড়ার মতো।

জনসভায় তারেক রহমান বলেন, দেশের মানুষ এখন একটি ইতিবাচক পরিবর্তনের অপেক্ষায়। তারা এমন একটি নিরাপদ রাষ্ট্র চায়, যেখানে সবাই নির্বিঘ্নে বসবাস করতে পারবে, ব্যবসা-বাণিজ্য করতে পারবে এবং স্বাধীনভাবে চলাফেরা করতে পারবে। আসন্ন জাতীয় নির্বাচন প্রসঙ্গে তিনি বলেন, গত ১৫ বছরে জনগণ প্রকৃত অর্থে ভোট দেওয়ার সুযোগ পায়নি। আন্দোলন-সংগ্রাম ও শহীদদের আত্মত্যাগের মাধ্যমে যে ভোটাধিকার ফিরে এসেছে, তা আগামী ১২ ফেব্রুয়ারি দায়িত্বশীলভাবে প্রয়োগ করতে হবে।

ভোটের আগে ষড়যন্ত্রের অভিযোগ তুলে বিএনপির চেয়ারম্যান বলেন, একটি বিশেষ বাহিনী ও গোষ্ঠী পরিকল্পিতভাবে অপতৎপরতায় লিপ্ত রয়েছে। নিরীহ মা-বোনদের কাছ থেকে জাতীয় পরিচয়পত্র ও মোবাইল নম্বর সংগ্রহ করা হচ্ছে এবং প্রবাসীদের ব্যালট দখলের অভিযোগও উঠছে। এসব বিষয়ে সবাইকে সতর্ক ও সচেতন থাকার আহ্বান জানান তিনি।

তারেক রহমান বলেন, গত ১৫ বছরের নিশিরাতের নির্বাচন ও ভোট ডাকাতির সঙ্গে বর্তমান ষড়যন্ত্রকারীদের কোনো মৌলিক পার্থক্য নেই। উভয় পক্ষই একই মানসিকতার বহিঃপ্রকাশ—একটি পক্ষ কৌশলে ভোট নিতে চায়, আর অন্যটি জোর করে ভোট নিয়েছে। তিনি বিশেষ করে নারী ভোটারদের বিভ্রান্ত করার চেষ্টা থেকে সতর্ক থাকার পরামর্শ দেন।

ক্ষমতায় এলে কর্মসংস্থান সৃষ্টিকে সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দেওয়া হবে বলে আশ্বাস দেন বিএনপির এই শীর্ষ নেতা। তিনি বলেন, লক্ষাধিক বেকার তরুণ ও যুবকের জন্য নতুন নতুন শিল্প স্থাপন করে কাজের সুযোগ তৈরি করা হবে। শুধু গার্মেন্টস শিল্পের ওপর নির্ভর না করে বহুমুখী শিল্পায়নের মাধ্যমে অর্থনীতিকে শক্তিশালী করা হবে। পাশাপাশি দক্ষতা উন্নয়নমূলক প্রশিক্ষণ এবং বিদেশগামী কর্মীদের জন্য বিশেষ প্রশিক্ষণের মাধ্যমে উচ্চ আয়ের কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টি করা হবে।

নারী ও কৃষকদের জন্যও বিশেষ কর্মসূচির ঘোষণা দেন তারেক রহমান। তিনি জানান, দরিদ্র ও অভাবী পরিবারগুলোর জন্য ‘ফ্যামিলি কার্ড’ চালু করা হবে, যাতে তারা রাষ্ট্রীয় সহায়তা পেয়ে স্বাবলম্বী হতে পারেন। একই সঙ্গে কৃষকদের জন্য ‘কৃষক কার্ড’ চালুর মাধ্যমে সার, বীজ, কীটনাশক, ঋণ ও বীমা সুবিধা দেওয়ার পরিকল্পনার কথাও তুলে ধরেন তিনি।

জলাবদ্ধতা নিরসন ও কৃষি উৎপাদন বাড়াতে খাল খনন কর্মসূচি পুনরায় চালুর কথাও বলেন তারেক রহমান। তার মতে, খাল খনন হলে একদিকে কৃষক উপকৃত হবে, অন্যদিকে জলাবদ্ধতার সমস্যাও অনেকাংশে কমবে। বক্তব্যের শেষ পর্যায়ে তিনি ধানের শীষ ও খেজুর গাছ প্রতীকের প্রার্থীদের পক্ষে সবাইকে ঐক্যবদ্ধ থাকার আহ্বান জানান।

জনসভায় জেলা বিএনপির আহ্বায়ক মামুন মাহমুদের সভাপতিত্বে আরও বক্তব্য দেন নারায়ণগঞ্জ-১ আসনের প্রার্থী মোস্তাফিজুর রহমান ভুঁইয়া দিপু, নারায়ণগঞ্জ-২ আসনের প্রার্থী নজরুল ইসলাম আজাদ, নারায়ণগঞ্জ-৩ আসনের প্রার্থী আজহারুল ইসলাম মান্নান, নারায়ণগঞ্জ-৪ আসনের জোট প্রার্থী মনির হোসেন কাসেমীসহ বিএনপি ও অঙ্গসংগঠনের কেন্দ্রীয় ও স্থানীয় নেতারা।

বিজ্ঞাপন