• রবিবার , ০১ ফেব্রুয়ারি, ২০২৬ | ১৯ মাঘ, ১৪৩২ বঙ্গাব্দ

‘দাদুর পাশে থাকতে চাই’—খালেদা জিয়াকে নিয়ে আবেগঘন পোষ্ট জাইমা রহমানের

‘দাদুর পাশে থাকতে চাই’—খালেদা জিয়াকে নিয়ে আবেগঘন পোষ্ট জাইমা রহমানের

অনলাইন ডেস্ক
অনলাইন ডেস্ক

প্রকাশিত: ১০:১৬ ২৩ ডিসেম্বর ২০২৫

বিএনপির চেয়ারপারসন খালেদা জিয়াকে নিয়ে আবেগঘন স্মৃতিচারণ করেছেন তার বড় ছেলে ও দলের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানের মেয়ে জাইমা রহমান। ‘দাদু’ সম্বোধনে খালেদা জিয়ার সঙ্গে নিজের শৈশবের একটি ছবি প্রকাশ করে মঙ্গলবার (২৩ ডিসেম্বর) নিজের ফেসবুক পোস্টে জাইমা রহমান লেখেন, তিনি দাদুর পাশে থাকতে চান এবং এই সময়ে বাবাকে সর্বাত্মক সহায়তা করতে চান।

পোস্টে জাইমা রহমান লিখেছেন, দাদুকে নিয়ে তার সবচেয়ে প্রিয় স্মৃতিগুলোর একটি হলো—পরিবারের অভিভাবক হিসেবে খালেদা জিয়ার মমতাময়ী ভূমিকা। তিনি উল্লেখ করেন, ১১ বছর বয়সে স্কুল ফুটবল টুর্নামেন্টে জয়ী হয়ে পাওয়া মেডেলটি নিজ হাতে দাদুকে দেখানোর স্মৃতি আজও তার মনে গভীরভাবে গেঁথে আছে। গোলকিপার হিসেবে নিজের অভিজ্ঞতা দাদুকে শোনানোর সময় তিনি গভীর মনোযোগ দিয়ে শুনেছিলেন এবং গর্ববোধ করেছিলেন—যা পরবর্তীতে অন্যদের সঙ্গেও তিনি ভাগ করে নিতেন।

জাইমা রহমান বলেন, তিনি সব সময়ই জানতেন যে তার দাদুর কাঁধে একটি দেশের দায়িত্ব। লাখো মানুষের কাছে তিনি ছিলেন দেশের প্রধানমন্ত্রী, কিন্তু তাদের কাছে তিনি ছিলেন স্নেহশীল ‘দাদু’। পরিবারের খোঁজখবর নেওয়া, সময় দেওয়া এবং গুরুত্বপূর্ণ মুহূর্তে সাহস জোগানো—এসবের মধ্য দিয়েই তিনি নেতৃত্বের প্রথম শিক্ষা পেয়েছেন বলে উল্লেখ করেন জাইমা।

তিনি আরও লেখেন, বাংলাদেশের বাইরে কাটানো ১৭ বছরের প্রবাসজীবন তাকে বাস্তববাদী ও বৈশ্বিক দৃষ্টিভঙ্গিসম্পন্ন করেছে। তবে কখনোই নিজের শিকড়, সংস্কৃতি ও মূল্যবোধ ভুলে যাননি। লন্ডনে কাটানো সময় তার চিন্তাভাবনায় পরিণতিবোধ এনেছে, যদিও হৃদয়-মন সবসময় বাংলাদেশেই ছিল বলে উল্লেখ করেন তিনি।

আইন পেশায় কাজ করার অভিজ্ঞতা তুলে ধরে জাইমা রহমান লেখেন, মানুষের সঙ্গে কাজ করতে গিয়ে দায়িত্ববোধ, ন্যায়বিচার ও বিপদগ্রস্ত মানুষের পাশে দাঁড়ানোর শিক্ষা পেয়েছেন। প্রতিটি মামলা ও মানুষের গল্প তার চিন্তা-চেতনায় গভীর প্রভাব ফেলেছে এবং মানুষ হিসেবে কেমন হতে চান—সেই ভাবনাকে আরও দৃঢ় করেছে।

পোস্টে তিনি আরও উল্লেখ করেন, নিজের ‘দাদা’কে কখনো না দেখলেও তার সততা ও দেশপ্রেমের গল্প শুনে বড় হয়েছেন। সেই আদর্শই তার দাদু ও আব্বুর মাধ্যমে বহন করে চলেছেন বলে জানান। চব্বিশের গণঅভ্যুত্থান ও ৫ আগস্টের আগে-পরে নেপথ্যে থেকে সাধ্যমতো ভূমিকা রাখার কথাও উল্লেখ করেন তিনি।

অনেক বছর পর দেশে ফেরার অনুভূতিকে আবেগঘন উল্লেখ করে জাইমা রহমান লেখেন, দেশে ফিরে তিনি দাদুর পাশে থাকতে চান এবং বাবাকে সর্বাত্মক সহায়তা করতে চান। একজন দায়িত্বশীল নাগরিক হিসেবে দেশের জন্য সর্বোচ্চ ভূমিকা রাখার অঙ্গীকারও ব্যক্ত করেন তিনি। পাশাপাশি, সরাসরি মানুষের সঙ্গে কথা বলে বাংলাদেশকে নতুন করে জানার ইচ্ছার কথাও জানান।

তিনি বলেন, তার পরিবারকে ঘিরে জনগণের কৌতূহল ও প্রত্যাশা রয়েছে—কখনো আশার, কখনো প্রশ্নের। সেই প্রত্যাশা পূরণের দায়ভার তারা অনুভব করেন বলেও লেখেন জাইমা রহমান। নিজের ভাষায় তিনি বলেন, এটিই তার গল্প, আর প্রত্যেকের নিজস্ব গল্প ধারণ করেই একসঙ্গে এগিয়ে যাওয়ার আহ্বান জানান।

উল্লেখ্য, দীর্ঘ ১৮ বছরের নির্বাসিত জীবন শেষে আগামী ২৫ ডিসেম্বর মেয়ে জাইমা রহমানকে সঙ্গে নিয়ে দেশে ফিরছেন বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান। ওইদিন বেলা ১১টা ৫৫ মিনিটে তাদের বহনকারী বাংলাদেশ বিমানের নিয়মিত ফ্লাইট ঢাকায় অবতরণের কথা রয়েছে।

বিজ্ঞাপন

https://moreshopbd.com/