রবিবার , ০১ ফেব্রুয়ারি, ২০২৬ | ১৯ মাঘ, ১৪৩২ বঙ্গাব্দ

প্রকাশিত: ০৩:২৯ ৩০ অক্টোবর ২০২৫
জাতীয় নির্বাচনের আগে গণভোট আয়োজনকে “অপ্রয়োজনীয়, অযৌক্তিক ও অবিবেচনাপ্রসূত” বলে অভিহিত করেছেন বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। তিনি বলেছেন, সংবিধান অনুযায়ী জুলাই জাতীয় সনদ বাস্তবায়নের আদেশ জারির এখতিয়ার অন্তর্বর্তী সরকারের নেই।
আজ বৃহস্পতিবার (৩০ অক্টোবর) দুপুরে রাজধানীর গুলশানে বিএনপির চেয়ারপারসনের রাজনৈতিক কার্যালয়ে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে তিনি এ মন্তব্য করেন। স্থায়ী কমিটির বৈঠকের সিদ্ধান্ত জানাতেই এ সংবাদ সম্মেলনের আয়োজন করা হয়।
সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্য পাঠ করে মির্জা ফখরুল বলেন,
“জুলাই জাতীয় সনদ (সংবিধান সংস্কার) বাস্তবায়ন আদেশ ২০২৫” নামে সরকার যে আদেশ জারি করার উদ্যোগ নিয়েছে, তা সংবিধানের ১৫২ অনুচ্ছেদ অনুযায়ী রাষ্ট্রপতির এখতিয়ারভুক্ত। সুতরাং অন্তর্বর্তী সরকারের এ ধরনের আদেশ জারি করার কোনো সাংবিধানিক ক্ষমতা নেই।
তিনি আরও বলেন, “ঐকমত্য কমিশনের প্রস্তাব ও সুপারিশ একপেশে, যা জাতির ওপর চাপিয়ে দেওয়ার প্রচেষ্টা। রাজনৈতিক দলগুলোর ভিন্নমত বা নোট অব ডিসেন্টের বিষয়টি উপেক্ষা করা হয়েছে। ফলে দীর্ঘ প্রায় এক বছরব্যাপী কমিশনের আলোচনাগুলো অর্থহীন হয়ে পড়েছে—এটি একপ্রকার সময় ও অর্থের অপচয়।”
বিএনপি মহাসচিব বলেন, গণতান্ত্রিক ব্যবস্থায় ভিন্নমত থাকা স্বাভাবিক, কিন্তু ঐকমত্য কমিশন রাজনৈতিক দলগুলোর মতপার্থক্যকে গুরুত্ব দেয়নি। কমিশনের প্রস্তাব অনুযায়ী, জাতীয় সংসদ গঠনের পাশাপাশি একই সদস্যদের নিয়ে একটি “সংবিধান সংস্কার পরিষদ” গঠন করা হবে—যা সংবিধানগতভাবে গ্রহণযোগ্য নয়। কারণ, নির্বাচন কমিশনের এখতিয়ার শুধু জাতীয় সংসদ ও রাষ্ট্রপতি নির্বাচনের মধ্যেই সীমাবদ্ধ।
তিনি প্রশ্ন তোলেন, “সংবিধান সংস্কার পরিষদ গঠনের বিষয়টি রাজনৈতিক দলগুলোর আলোচনার এজেন্ডায়ই ছিল না। এই প্রস্তাব অন্তর্ভুক্ত করে ঐকমত্য কমিশন নিজের এখতিয়ার অতিক্রম করেছে।”
গণভোটের বিষয়ে মির্জা ফখরুল বলেন,
“২০২৬ সালের ফেব্রুয়ারির প্রথমার্ধে জাতীয় নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে। এর আগে গণভোট আয়োজন সময় ও ব্যয়ের দিক থেকে অবাস্তব। নির্বাচন অনুষ্ঠানের বিশাল প্রস্তুতি, নিরাপত্তা ব্যবস্থাপনা ও বিপুল অর্থব্যয়ের কারণে একই সময়ে উভয় আয়োজন করা সম্ভব নয়। তাই জাতীয় নির্বাচনের দিনই গণভোট আয়োজন করা যেতে পারে।”
বিএনপি মহাসচিব বলেন, জুলাই জাতীয় সনদের যেসব সিদ্ধান্ত আইন বা বিধি পরিবর্তন ছাড়া নির্বাহী আদেশে বাস্তবায়ন সম্ভব, সেগুলো সরকার তাৎক্ষণিকভাবে করতে পারে। আর যেসব বিষয়ে গণভোটের প্রয়োজন, সেগুলো নিয়েও বিএনপি ঐকমত্য প্রকাশ করেছে।
তিনি অভিযোগ করেন, “জুলাই জাতীয় সনদ প্রণয়নে ভিন্নমত বা নোট অব ডিসেন্ট উপেক্ষা করা হয়েছে। আবার অনেক নতুন প্রস্তাব অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে, যা কখনোই আলোচনার অংশ ছিল না। এসব কারণে ঐকমত্য কমিশনের অধিকাংশ সুপারিশ অগ্রহণযোগ্য।”
শেষে মির্জা ফখরুল বলেন, “জাতীয় ঐকমত্য কমিশনের দীর্ঘ আলোচনায় যে সীমিত কিছু বিষয়ে দলগুলোর মধ্যে ঐকমত্য হয়েছে, তা-ও বিকৃতভাবে উপস্থাপন করা হয়েছে। ভিন্নমত বা নোট অব ডিসেন্টকে বাদ দিয়ে তৈরি করা এই সনদ প্রকৃত ঐকমত্যের প্রতিফলন নয়, বরং এটি জাতির ওপর চাপিয়ে দেওয়া একতরফা প্রস্তাব।”
