• রবিবার , ১৯ এপ্রিল, ২০২৬ | ৫ বৈশাখ, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

শেষ ঠিকানা সংগঠন মানবতার সেবায় একটি অনন্য দৃষ্টান্ত

শেষ ঠিকানা সংগঠন মানবতার সেবায় একটি অনন্য দৃষ্টান্ত

নাদিম শরীফ: ঝালকাঠি প্রতিনিধি
নাদিম শরীফ: ঝালকাঠি প্রতিনিধি

প্রকাশিত: ১২:৫৩ ৫ অক্টোবর ২০২৫

ঝালকাঠির পূর্ব পরমহল, নুরানী মাদরাসা সংলগ্ন এলাকায় গড়ে উঠেছে এক ব্যতিক্রমধর্মী স্বেচ্ছাসেবী প্রতিষ্ঠান— ‘শেষ ঠিকানা সংগঠন’। ২০২২ সালে প্রতিষ্ঠিত এই সংগঠনটি সম্পূর্ণ অরাজনৈতিক ও অলাভজনক। প্রতিষ্ঠার পর থেকেই সংগঠনটি মানবতার কল্যাণে কাজ করে আসছে। তাদের মূল উদ্দেশ্য হলো— মানুষের জীবনের শেষ মুহূর্তে পাশে থেকে মানবিক সহযোগিতা প্রদান।

সংগঠনের কার্যক্রম শুধুমাত্র জানাজা বা কবর খোঁড়া পর্যন্ত সীমাবদ্ধ নয়। কেউ মারা গেলে সেই বাড়িতে যা যা প্রয়োজন হয়— যেমন চেয়ার, বৈদ্যুতিক তার, খাটিয়া, কাফনের কাপড়, আগরবাতি, সুগন্ধি, বালতি ইত্যাদি— সব কিছু তারা নিজেরা সরবরাহ করে থাকে। পাশাপাশি কবর খোঁড়া, লাশ বহন, দাফন কার্যক্রমসহ প্রতিটি ধাপে সহযোগিতা করে থাকে সংগঠনের সদস্যরা। সবচেয়ে উল্লেখযোগ্য বিষয় হলো, তারা এসব কাজ করে থাকে সম্পূর্ণ মানবিক ও ধর্মীয় প্রেরণায়— কোনো আর্থিক লাভের আশায় নয়; বরং আখিরাতের সওয়াব অর্জনের উদ্দেশ্যে।

সংগঠনের তথ্য অনুযায়ী, ২০২২ সালের সেপ্টেম্বর থেকে ২০২৫ সালের জুলাই পর্যন্ত ৫৮ জন মৃত ব্যক্তির পরিবারকে বিনামূল্যে সহযোগিতা করেছে ‘শেষ ঠিকানা’। পরমহল, গরংগা, মানপাশা, শোলাখিরা ও আশপাশের বিভিন্ন এলাকার প্রয়াত ব্যক্তিদের জন্য তারা জানাজা, কবর খোঁড়া ও দাফনের সমস্ত ব্যবস্থা করেছে। এই দীর্ঘ তালিকায় আছেন স্থানীয় সমাজের বহু পরিচিত মুখ, যা প্রমাণ করে— সংগঠনটি এখন এলাকাবাসীর কাছে এক নির্ভরতার নাম হয়ে উঠেছে।

২০২৫ সালের ১ অক্টোবর অনুষ্ঠিত সংগঠনের বার্ষিক সভায় এক বছরের জন্য ২৬ সদস্যবিশিষ্ট নতুন কমিটি ঘোষণা করা হয়। নবনির্বাচিত কমিটির সভাপতি নির্বাচিত হন মো. আরিফুল ইসলাম আরিফ এবং সাধারণ সম্পাদক হন মো. ফেরদৌস খান পনির। সিনিয়র সহ-সভাপতির দায়িত্বে আছেন মো. আব্দুল্লাহ আল ফাহাদ, সহ-সভাপতি মো. রাকিব হোসেন মৃধা। এছাড়াও সহ-সম্পাদক, কোষাধ্যক্ষ, সাংগঠনিক সম্পাদকসহ বিভিন্ন পদে দায়িত্ব পালন করছেন এলাকার তরুণ চাকরিজীবী ও শিক্ষিত যুবসমাজ।

সংগঠনের সদস্যরা জানান, তারা নিজেদের কর্মজীবনের পাশাপাশি পকেট থেকে অর্থ ব্যয় করে এই মানবিক কার্যক্রম চালিয়ে যাচ্ছেন। ধীরে ধীরে এলাকাবাসীর সহযোগিতা ও উৎসাহ তাদের কাজকে আরও এগিয়ে নিচ্ছে।

সাধারণ সম্পাদক মো. ফেরদৌস খান পনির বলেন,
“আমরা গত চার বছর ধরে নিরলসভাবে মানুষের শেষ বিদায়ের সময় পাশে থেকেছি। ইনশাআল্লাহ ভবিষ্যতেও থাকব। আমাদের স্বপ্ন, দেশের প্রতিটি জেলায় এ ধরনের মানবিক সংগঠন গড়ে উঠুক, যাতে তরুণ সমাজ সমাজসেবায় আরও উদ্বুদ্ধ হয়।”

তিনি আরও জানান, সংগঠনটি ইতোমধ্যেই ঝালকাঠি সমাজকল্যাণ অফিসে রেজিস্ট্রেশনের জন্য আবেদন করেছে। সরকারি অনুমোদন পেলে কাজের পরিধি আরও বাড়ানো হবে এবং অন্যান্য এলাকায় শাখা গঠনের উদ্যোগ নেওয়া হবে।

স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, ‘শেষ ঠিকানা’ এখন সমাজে আস্থার প্রতীক। কেউ মারা গেলে প্রথমেই খবর দেওয়া হয় সংগঠনের সদস্যদের। তারা দ্রুত উপস্থিত হয়ে জানাজা, দাফন ও অন্যান্য আনুষ্ঠানিকতা সম্পন্ন করেন।

সব মিলিয়ে বলা যায়— ‘শেষ ঠিকানা’ শুধুমাত্র একটি সংগঠন নয়, এটি সমাজে মানবতার এক উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত।

বিজ্ঞাপন

https://moreshopbd.com/