• রবিবার , ১১ অক্টোবর, ২০২৬ | ২৬ আশ্বিন, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

নেপালে ফের ভয়াবহ আকস্মিক বন্যা, ভেসে গেল ঘরবাড়ি ও সেতু

নেপালে ফের ভয়াবহ আকস্মিক বন্যা, ভেসে গেল ঘরবাড়ি ও সেতু

অনলাইন ডেস্ক
অনলাইন ডেস্ক

প্রকাশিত: ০৩:৩১ ১১ অক্টোবর ২০২৬

নেপালের উত্তর-মধ্যাঞ্চলে বুধিগণ্ডী নদীতে আকস্মিক বন্যায় একাধিক ঘরবাড়ি, সেতু ও স্থাপনা ভেসে গেছে। রোববার (১১ অক্টোবর) গোরখা জেলায় এ বন্যা দেখা দিলে নদীতীরবর্তী বিভিন্ন গ্রামের বাসিন্দাদের নিরাপদ স্থানে সরিয়ে নেওয়া হয়। পরিস্থিতি মোকাবিলায় সতর্কতা জারি করেছে দেশটির দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা কর্তৃপক্ষ।

বার্তা সংস্থা রয়টার্স ও এপির প্রতিবেদন অনুযায়ী, বন্যার পানির প্রবল স্রোতে পাহাড়ি এলাকার বেশ কয়েকটি বসতবাড়ি ও গুরুত্বপূর্ণ অবকাঠামো ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। তবে তাৎক্ষণিকভাবে কোনো প্রাণহানির খবর পাওয়া যায়নি।
নেপালের জাতীয় দুর্যোগ ঝুঁকি হ্রাস ও ব্যবস্থাপনা কর্তৃপক্ষ (এনডিআরআরএমএ) ঝুঁকিপূর্ণ এলাকার মানুষকে দ্রুত নিরাপদ আশ্রয়ে যাওয়ার নির্দেশ দিয়েছে। একই সঙ্গে রোববার গভীর রাত পর্যন্ত নদীর আশপাশের বাসিন্দাদের সর্বোচ্চ সতর্ক অবস্থানে থাকতে বলা হয়েছে।

সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া ভিডিওতে দেখা যায়, পাহাড়ঘেরা এলাকায় প্রবল বেগে ছুটে চলা নদীর পানিতে ঘরবাড়ি ও বিভিন্ন স্থাপনা ভেসে যাচ্ছে। কয়েকটি গ্রামের যোগাযোগব্যবস্থাও ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।
বিশেষ করে কাঠমান্ডুর সঙ্গে দেশের অন্যান্য অঞ্চলের সড়ক যোগাযোগের গুরুত্বপূর্ণ এলাকা আরুঘাটে বন্যার প্রভাব পড়েছে। সরকারি সতর্কবার্তা পাওয়ার পর সেখানকার বাসিন্দারা নিরাপদ স্থানে সরে যান।
এদিকে নেপালের স্থানীয় সংবাদমাধ্যম জানিয়েছে, বন্যার স্রোতে গোরখা ও ধাদিং জেলার মধ্যে যোগাযোগকারী আরুঘাট সেতুটিও ভেসে গেছে। এতে ক্ষতিগ্রস্ত এলাকার যোগাযোগব্যবস্থা আরও বিপর্যস্ত হয়েছে।

কী কারণে হঠাৎ বন্যা?
প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে, গোরখা জেলার চুমনুব্রি এলাকায় ভূমিধসের কারণে নদীর একটি উপনদীর প্রবাহ বাধাগ্রস্ত হয়েছিল। পরে জমে থাকা পানি হঠাৎ নেমে আসায় বুধিগণ্ডী নদীতে বন্যা সৃষ্টি হতে পারে।
তবে বন্যার প্রকৃত কারণ নিশ্চিত করতে পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করছেন দেশটির সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা। নদীর পানি ওঠানামা করায় ভাটির দিকের বাসিন্দাদেরও সতর্ক থাকতে বলা হয়েছে।

এর আগে গত আগস্টে নেপাল-চীন সীমান্তবর্তী পাহাড়ি এলাকায় ভয়াবহ বন্যায় ১ হাজার ৪০০ জনের বেশি মানুষের মৃত্যু হয়। ওই দুর্যোগে আরও কয়েক হাজার মানুষ নিখোঁজ হন।
সেই বিপর্যয়ের ক্ষয়ক্ষতি কাটিয়ে ওঠার আগেই নতুন করে বন্যার মুখে পড়েছে হিমালয়ের দেশটি।
নেপাল সরকারের হিসাব অনুযায়ী, আগস্টের বন্যায় ক্ষতিগ্রস্ত অবকাঠামো পুনর্নির্মাণে প্রায় ৪৭৭ কোটি মার্কিন ডলার প্রয়োজন হতে পারে। ওই দুর্যোগে প্রায় ৩৩ হাজার মানুষ ক্ষতিগ্রস্ত হন এবং প্রায় সাড়ে ৭ হাজার ঘরবাড়ি ক্ষতিগ্রস্ত বা ধ্বংস হয়।

বিজ্ঞাপন