• মঙ্গলবার , ১২ মে, ২০২৬ | ২৯ বৈশাখ, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

কিউবাকে ঘিরে নতুন উত্তেজনা, ট্রাম্পের বক্তব্যে সামরিক হামলার শঙ্কা

কিউবাকে ঘিরে নতুন উত্তেজনা, ট্রাম্পের বক্তব্যে সামরিক হামলার শঙ্কা

অনলাইন ডেস্ক
অনলাইন ডেস্ক

প্রকাশিত: ১২:৩৩ ১২ মে ২০২৬

মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প এবং পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিও-এর সাম্প্রতিক বক্তব্যকে কেন্দ্র করে নতুন করে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে ক্যারিবীয় দ্বীপ রাষ্ট্র কিউবাকে ঘিরে। আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যমগুলোর বিশ্লেষণে আশঙ্কা করা হচ্ছে, ওয়াশিংটন যেকোনো সময় হাভানার বিরুদ্ধে সামরিক পদক্ষেপ নিতে পারে।

মঙ্গলবার প্রকাশিত এক প্রতিবেদনে মার্কিন সংবাদমাধ্যম এক্সিওস জানিয়েছে, ট্রাম্প প্রশাসন কিউবার ওপর ক্রমাগত চাপ বাড়িয়ে যাচ্ছে। সামরিক প্রস্তুতির ইঙ্গিত এবং নতুন অর্থনৈতিক নিষেধাজ্ঞা— দুই দিক থেকেই দেশটিকে চাপে রাখা হচ্ছে।

প্রতিবেদন অনুযায়ী, গত শুক্রবার ট্রাম্প ঘনিষ্ঠ মহলে বলেছেন, মধ্যপ্রাচ্য থেকে ফিরে আসা একটি মার্কিন রণতরী কিউবার কাছাকাছি মোতায়েন করা হতে পারে। তার দাবি, যুদ্ধজাহাজটি কিউবার উপকূলের কাছে অবস্থান নিলে দেশটি “আত্মসমর্পণ করতে বাধ্য হবে”।

এর আগে সংবাদমাধ্যম সিএনএন জানায়, চলতি বছরের ফেব্রুয়ারি থেকেই কিউবার আকাশসীমার আশপাশে মার্কিন নজরদারি বিমানের তৎপরতা উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়েছে। বিশ্লেষকদের মতে, ইরানকে ঘিরে মধ্যপ্রাচ্যে যুদ্ধ পরিস্থিতি তৈরি হওয়ার আগেই কিউবায় সম্ভাব্য সামরিক অভিযানের প্রস্তুতির ইঙ্গিত পাওয়া যাচ্ছিল। তবে পরবর্তীতে ওয়াশিংটনের মনোযোগ মধ্যপ্রাচ্যের দিকে চলে যাওয়ায় সেই পরিকল্পনা থেমে যায়।

তবে এক্সিওসের প্রতিবেদনে আরও বলা হয়েছে, ব্রাজিলের প্রেসিডেন্ট লুলা দা সিলভাকে ব্যক্তিগতভাবে ট্রাম্প জানিয়েছেন, কিউবায় হামলার কোনো পরিকল্পনা বর্তমানে তার নেই।

সামরিক উত্তেজনার পাশাপাশি কিউবার ওপর অর্থনৈতিক চাপও বাড়িয়েছে যুক্তরাষ্ট্র। সম্প্রতি দেশটির বিরুদ্ধে নতুন নিষেধাজ্ঞা আরোপ করা হয়েছে। কিউবার পররাষ্ট্রমন্ত্রী এসব পদক্ষেপকে “সাধারণ মানুষের বিরুদ্ধে গণশাস্তি” হিসেবে বর্ণনা করেছেন।

জ্বালানি সংকটের কারণে কয়েক মাস ধরেই কঠিন পরিস্থিতির মধ্যে রয়েছে কিউবা। দেশটির প্রধান তেল সরবরাহকারী ভেনেজুয়েলা থেকেও সরবরাহে অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছে। বিশেষ করে ভেনেজুয়েলার প্রেসিডেন্ট নিকোলাস মাদুরোকে ঘিরে সাম্প্রতিক উত্তেজনার পর পরিস্থিতি আরও জটিল হয়েছে বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।

বিশ্লেষকরা বলছেন, ট্রাম্প প্রশাসন যদি সত্যিই কিউবায় সামরিক অভিযান চালায়, তবে তা হবে ১৯৬২ সালের কিউবান ক্ষেপণাস্ত্র সংকটের পর দুই দেশের মধ্যে সবচেয়ে বড় সংঘাত। ওই সময় সাবেক সোভিয়েত ইউনিয়ন কিউবায় পারমাণবিক ক্ষেপণাস্ত্র মোতায়েন করলে বিশ্ব পারমাণবিক যুদ্ধের মুখোমুখি হয়েছিল।

বিজ্ঞাপন

https://moreshopbd.com/