• সোমবার , ১১ মে, ২০২৬ | ২৮ বৈশাখ, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

ভ্রূণের লিঙ্গ প্রকাশে কঠোর অবস্থান হাইকোর্টের, ৬ মাসে কেন্দ্রীয় ডাটাবেজ তৈরির নির্দেশ

ভ্রূণের লিঙ্গ প্রকাশে কঠোর অবস্থান হাইকোর্টের, ৬ মাসে কেন্দ্রীয় ডাটাবেজ তৈরির নির্দেশ

অনলাইন ডেস্ক
অনলাইন ডেস্ক

প্রকাশিত: ০৬:২৪ ১১ মে ২০২৬

অনাগত শিশুর লিঙ্গ নির্ধারণ ও তা প্রকাশের অনৈতিক চর্চা বন্ধে গুরুত্বপূর্ণ রায় দিয়েছেন হাইকোর্ট। আদালত বলেছেন, ভ্রূণের লিঙ্গ প্রকাশ নারীর প্রতি বৈষম্য বাড়ায়, কন্যাশিশু হত্যার ঝুঁকি তৈরি করে এবং সংবিধান স্বীকৃত মৌলিক অধিকারের পরিপন্থি।

বিচারপতি নাইমা হায়দার এবং কাজী জিনাত হক-এর সমন্বয়ে গঠিত হাইকোর্ট বেঞ্চ ২০২৪ সালের ২৫ ফেব্রুয়ারি এই রায় দেন। সোমবার রায়ের পূর্ণাঙ্গ অনুলিপি প্রকাশিত হয়েছে।

রায়ে আদালত পর্যবেক্ষণ করেন, অনাগত শিশুর লিঙ্গ নির্ধারণ ও প্রকাশ সমাজে লিঙ্গ বৈষম্যকে উৎসাহিত করে এবং নারীর মর্যাদা, সমতা ও জীবনের অধিকারের বিরুদ্ধে যায়। একই সঙ্গে এটি আন্তর্জাতিক মানবাধিকার নীতিমালারও লঙ্ঘন বলে উল্লেখ করা হয়।

আদালত বলেন, শুধু নির্দেশিকা তৈরি করলেই দায়িত্ব শেষ হয় না; কার্যকর বাস্তবায়ন, ডিজিটাল মনিটরিং এবং জবাবদিহিমূলক ব্যবস্থার মাধ্যমে এই অনৈতিক কার্যক্রম নিয়ন্ত্রণ করতে হবে। এ জন্য নিবন্ধিত হাসপাতাল, ক্লিনিক ও ডায়াগনস্টিক সেন্টারগুলোর অনাগত শিশুর ডায়াগনস্টিক রিপোর্ট সংরক্ষণ ও তদারকির জন্য একটি কেন্দ্রীয় ডিজিটাল ডাটাবেজ তৈরির প্রয়োজনীয়তার কথাও উল্লেখ করেন বিচারপতিরা।

হাইকোর্ট স্বাস্থ্য অধিদফতরকে আগামী ৬ মাসের মধ্যে একটি কেন্দ্রীয় ডিজিটাল ডাটাবেজ তৈরি ও তা নিয়মিত হালনাগাদের নির্দেশ দিয়েছেন। আদালত মনে করেন, ভ্রূণের লিঙ্গ নির্ধারণের মাধ্যমে কন্যাশিশুর বিরুদ্ধে বৈষম্য এবং সম্ভাব্য নারী ভ্রূণ হত্যার ঝুঁকি তৈরি হয়, যা সংবিধানের ১৮, ২৭, ২৮, ৩১ ও ৩২ অনুচ্ছেদের সঙ্গে সাংঘর্ষিক।

রায়ে আরও বলা হয়, ভারতসহ বিশ্বের বিভিন্ন দেশে এ ধরনের কার্যক্রম কঠোর আইনের আওতায় নিয়ন্ত্রিত হচ্ছে। বাংলাদেশেও কার্যকর নিয়ন্ত্রণ ব্যবস্থা গড়ে তোলার ওপর গুরুত্বারোপ করেন আদালত।

এই নির্দেশনাকে আদালত ‘continuous mandamus’ হিসেবে ঘোষণা করেছেন। অর্থাৎ ভবিষ্যতেও নির্দেশনার বাস্তবায়ন আদালতের তদারকির আওতায় থাকবে।

উল্লেখ্য, ২০২০ সালের ২৬ জানুয়ারি সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী ইশরাত হাসান গর্ভের শিশুর লিঙ্গ পরিচয় প্রকাশ বন্ধে রিট আবেদন দায়ের করেন। আদালতে তাকে সহযোগিতা করেন তানজিলা রহমান। রাষ্ট্রপক্ষে শুনানিতে ছিলেন ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল অমিত দাশ গুপ্ত।

বিজ্ঞাপন

https://moreshopbd.com/