• সোমবার , ১৬ মার্চ, ২০২৬ | ২ চৈত্র, ১৪৩২ বঙ্গাব্দ

আল জাজিরার প্রতিবেদন: কাশ্মীর ইস্যুতে ‘ইসরাইলি মডেল’ অনুসরণ করবে ভারত?

আল জাজিরার প্রতিবেদন: কাশ্মীর ইস্যুতে ‘ইসরাইলি মডেল’ অনুসরণ করবে ভারত?

অনলাইন ডেস্ক
অনলাইন ডেস্ক

প্রকাশিত: ০৩:১০ ২৪ ফেব্রুয়ারী ২০২৬

ভারতের বর্তমান সরকারের সঙ্গে ইসরাইলের ক্রমবর্ধমান কূটনৈতিক ও কৌশলগত ঘনিষ্ঠতা এখন আর কেবল প্রতিরক্ষা সহযোগিতা বা অস্ত্র আমদানির মধ্যেই সীমাবদ্ধ নেই—এমনটাই মনে করছেন বিভিন্ন বিশ্লেষক। তাদের মতে, এই সম্পর্কের প্রভাব ভারতের অভ্যন্তরীণ নীতি ও শাসনব্যবস্থার বিভিন্ন ক্ষেত্রে দৃশ্যমান হয়ে উঠছে। বিশেষ করে জম্মু-কাশ্মীর ইস্যু, নজরদারি প্রযুক্তির ব্যবহার এবং কথিত ‘বুলডোজার নীতি’—এই তিনটি ক্ষেত্রকে ঘিরে তুলনা টানা হচ্ছে ইসরাইলের ফিলিস্তিন নীতির সঙ্গে।

২০১৯ সালে Sandeep Chakravorty, যিনি তখন নিউইয়র্কে ভারতের কনসাল জেনারেল ছিলেন, কাশ্মীর প্রসঙ্গে ‘ইসরাইলি মডেল’ অনুসরণের কথা বলেছিলেন। সাম্প্রতিক ঘটনাপ্রবাহের আলোকে সেই মন্তব্য নতুন করে আলোচনায় এসেছে। সমালোচকদের মতে, ফিলিস্তিনের অধিকৃত অঞ্চলে ইসরাইলি বসতি স্থাপনের যে নীতি, তার সঙ্গে কাশ্মীরে জনসংখ্যাগত পরিবর্তনসংক্রান্ত বিতর্কের কিছু মিল খুঁজে পাওয়া যায়। এই প্রেক্ষাপটে ‘সেটলার কলোনিয়ালিজম’ ধারণাটিও আলোচনায় এসেছে।

আদর্শিক ক্ষেত্রেও তুলনা করা হচ্ছে। পর্যবেক্ষকদের একাংশের মতে, ভারতের ক্ষমতাসীন দল Bharatiya Janata Party (বিজেপি)-এর ‘হিন্দুত্ব’ দর্শনের সঙ্গে ইসরাইলের ‘জায়নবাদ’-এর একটি আদর্শিক সাদৃশ্য রয়েছে, যেখানে রাষ্ট্রকে একটি নির্দিষ্ট ধর্মীয় জনগোষ্ঠীর ঐতিহাসিক ও স্বাভাবিক আবাসভূমি হিসেবে চিহ্নিত করার প্রবণতা দেখা যায়।

ভারতের অভ্যন্তরীণ রাজনীতিতে সাম্প্রতিক সময়ে আলোচিত একটি বিষয় হলো ‘বুলডোজার নীতি’—অপরাধের অভিযোগে অভিযুক্ত ব্যক্তিদের বাড়ি বা স্থাপনা ভেঙে ফেলার প্রশাসনিক পদক্ষেপ। সমালোচকরা বলছেন, এই ধরনের ব্যবস্থা অধিকৃত পশ্চিম তীরে ফিলিস্তিনিদের বিরুদ্ধে ইসরাইল যে শাস্তিমূলক উচ্ছেদ কার্যক্রম চালায়, তার সঙ্গে তুলনীয়। যদিও Supreme Court of India আইনি প্রক্রিয়া ছাড়া উচ্ছেদ কার্যক্রমে নিষেধাজ্ঞা দিয়েছে, তথাপি উত্তরপ্রদেশসহ কয়েকটি রাজ্যে এ ধরনের পদক্ষেপের অভিযোগ উঠেছে।

নজরদারি প্রযুক্তির ক্ষেত্রেও বিতর্ক রয়েছে। ইসরাইলি নির্মাতা NSO Group-এর তৈরি স্পাইওয়্যার Pegasus ব্যবহার করে সাংবাদিক, মানবাধিকারকর্মী ও বিরোধী রাজনৈতিক নেতাদের ওপর নজরদারির অভিযোগ ভারতের রাজনৈতিক অঙ্গনে তীব্র আলোচনা সৃষ্টি করে। যদিও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ সরাসরি এসব অভিযোগ স্বীকার করেনি, তবুও বিষয়টি গণতান্ত্রিক কাঠামো ও নাগরিক স্বাধীনতা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছে।

প্রতিরক্ষা সহযোগিতার ক্ষেত্রেও দুই দেশের সম্পর্ক ঘনিষ্ঠ। ভারত দীর্ঘদিন ধরে ইসরাইলের অন্যতম বৃহৎ অস্ত্র ক্রেতা হিসেবে পরিচিত। পাশাপাশি গাজা সংঘাতের সময় ভারত থেকে ইসরাইলে সামরিক সরঞ্জাম সরবরাহের খবরও আন্তর্জাতিক গণমাধ্যমে উঠে এসেছে।

সমালোচকদের মতে, এই ঘনিষ্ঠতা ভারতের ঐতিহাসিক ফিলিস্তিনপন্থী অবস্থান থেকে একধরনের কৌশলগত সরে আসার ইঙ্গিত দেয়। অন্যদিকে সমর্থকরা বলছেন, এটি সম্পূর্ণভাবে নিরাপত্তা ও কৌশলগত স্বার্থকেন্দ্রিক বাস্তববাদী পররাষ্ট্রনীতি।

সব মিলিয়ে, ভারতের বর্তমান নীতি ও ইসরাইলের সঙ্গে তার সম্পর্ক দক্ষিণ এশিয়ার ভূরাজনীতি এবং দেশের অভ্যন্তরীণ শাসনব্যবস্থা—উভয় ক্ষেত্রেই নতুন বিতর্ক ও বিশ্লেষণের জন্ম দিচ্ছে।

সূত্র: Al Jazeera

বিজ্ঞাপন

https://moreshopbd.com/