• মঙ্গলবার , ০৫ মে, ২০২৬ | ২১ বৈশাখ, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

রাষ্ট্রক্ষমতায় ফিরছে বিএনপি, ১২ মন্ত্রী ও ১৮ প্রতিমন্ত্রী নিয়ে নতুন মন্ত্রিসভা

রাষ্ট্রক্ষমতায় ফিরছে বিএনপি, ১২ মন্ত্রী ও ১৮ প্রতিমন্ত্রী নিয়ে নতুন মন্ত্রিসভা

নিজস্ব প্রতিবেদক
নিজস্ব প্রতিবেদক

প্রকাশিত: ১০:১৪ ১৭ ফেব্রুয়ারী ২০২৬

দীর্ঘ প্রায় দুই দশক পর আবারও রাষ্ট্রক্ষমতায় ফিরছে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি)। ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে নিরঙ্কুশ বিজয়ের পর দলটির চেয়ারম্যান তারেক রহমান-এর নেতৃত্বে নতুন সরকার গঠনের প্রস্তুতি প্রায় চূড়ান্ত পর্যায়ে। প্রাথমিকভাবে ৩০ সদস্যের একটি মন্ত্রিসভা গঠনের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে, যার মধ্যে থাকছেন ১২ জন পূর্ণমন্ত্রী এবং ১৮ জন প্রতিমন্ত্রী। তবে দলীয় সূত্র বলছে, প্রয়োজন হলে মন্ত্রিসভার পরিধি আরও বাড়তে পারে।

মঙ্গলবার (১৭ ফেব্রুয়ারি) নবনির্বাচিত সংসদ সদস্যদের শপথ গ্রহণের পর মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ থেকে সম্ভাব্য মন্ত্রীদের আনুষ্ঠানিকভাবে অবহিত করা হবে। রাজনৈতিক অঙ্গনে নানা জল্পনা-কল্পনা থাকলেও চূড়ান্ত তালিকা এখনো গোপন রাখা হয়েছে। দলের অভ্যন্তরীণ আলোচনায় জানা গেছে, এবারের মন্ত্রিসভা গঠনে অভিজ্ঞতা ও তারুণ্যের সমন্বয়কে বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে। দীর্ঘদিনের পরীক্ষিত নেতাদের পাশাপাশি নতুন প্রজন্মের প্রতিনিধিদেরও দায়িত্ব দেওয়ার পরিকল্পনা রয়েছে, যাতে প্রশাসনে গতিশীলতা আসে এবং সিদ্ধান্ত গ্রহণে নতুন চিন্তার প্রতিফলন ঘটে।

মন্ত্রিসভায় নির্বাচিত সংসদ সদস্যদের পাশাপাশি টেকনোক্র্যাট কোটায় অন্তত চারজন বিশেষজ্ঞ অন্তর্ভুক্ত হতে পারেন। একই সঙ্গে যুগপৎ আন্দোলনে সক্রিয় শরিক দলগুলোর কয়েকজন নেতাকেও দায়িত্ব দেওয়ার আলোচনা রয়েছে। ইতোমধ্যে সম্ভাব্য মন্ত্রীদের জন্য সরকারি পরিবহন ও বাসভবন প্রস্তুত রাখার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে, যা ইঙ্গিত দিচ্ছে—প্রাথমিক তালিকার বাইরেও মন্ত্রিসভার আকার বিস্তৃত হতে পারে।

সম্ভাব্য সদস্যদের তালিকায় অভিজ্ঞ নেতাদের মধ্যে রয়েছেন দলের মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর, খন্দকার মোশাররফ হোসেন, আব্দুল মঈন খান এবং মির্জা আব্বাস। তবে দলীয় মহলে আলোচনা রয়েছে যে, মির্জা ফখরুল সরাসরি মন্ত্রিত্বের পরিবর্তে সংসদীয় দায়িত্ব পালনেই আগ্রহী হতে পারেন। গুরুত্বপূর্ণ মন্ত্রণালয়—অর্থ, পররাষ্ট্র ও স্বরাষ্ট্র—পেতে পারেন আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরী, সালাহউদ্দিন আহমদ এবং আলতাফ হোসেন চৌধুরী-এর মতো অভিজ্ঞ নেতারা।

নতুন সরকারের অন্যতম অঙ্গীকার হচ্ছে সংসদকেন্দ্রিক জবাবদিহিতা নিশ্চিত করা। দলীয় সূত্র জানিয়েছে, মন্ত্রীরা সরাসরি সংসদের কাছে দায়বদ্ধ থাকবেন এবং সংসদীয় কার্যক্রমকে আরও কার্যকর ও প্রাণবন্ত করার উদ্যোগ নেওয়া হবে। বিকেল ৪টায় জাতীয় সংসদ ভবন-এর দক্ষিণ প্লাজায় রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিন-এর শপথ বাক্য পাঠের মধ্য দিয়ে নতুন প্রধানমন্ত্রী ও মন্ত্রিসভার আনুষ্ঠানিক যাত্রা শুরু হবে। দীর্ঘ বিরতির পর ক্ষমতায় ফেরা এই সরকারের সামনে যেমন উচ্চ প্রত্যাশা, তেমনি রয়েছে অর্থনৈতিক পুনরুদ্ধার, রাজনৈতিক স্থিতিশীলতা ও আন্তর্জাতিক সম্পর্কের মতো গুরুত্বপূর্ণ চ্যালেঞ্জ।

বিজ্ঞাপন

https://moreshopbd.com/