• রবিবার , ১৫ মার্চ, ২০২৬ | ১ চৈত্র, ১৪৩২ বঙ্গাব্দ

হরমুজ ইস্যুতে মিত্রদের নীরবতা: ‘হতাশ’ ট্রাম্প, সাড়া দিচ্ছে না বড় শক্তিগুলো

হরমুজ ইস্যুতে মিত্রদের নীরবতা: ‘হতাশ’ ট্রাম্প, সাড়া দিচ্ছে না বড় শক্তিগুলো

অনলাইন ডেস্ক
অনলাইন ডেস্ক

প্রকাশিত: ১২:২১ ১৫ মার্চ ২০২৬

মধ্যপ্রাচ্যে চলমান সংঘাতের মধ্যে Donald Trump মিত্র দেশগুলোর সহযোগিতা না পাওয়ায় চাপে পড়েছেন বলে আন্তর্জাতিক বিশ্লেষকদের ধারণা। Iran-এর বিরুদ্ধে Israel ও United States-এর সামরিক হামলা টানা ১৬ দিনে গড়ানোর পর বিশ্বজুড়ে জ্বালানি বাজারে অস্থিরতা তৈরি হয়েছে। একই সঙ্গে গুরুত্বপূর্ণ জলপথ Strait of Hormuz ঘিরে নতুন করে উত্তেজনা তৈরি হয়েছে।

ইরান ঘোষণা দিয়েছে, তারা হরমুজ প্রণালি দিয়ে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের জাহাজ চলাচল করতে দেবে না। বিশ্বের মোট অপরিশোধিত তেলের প্রায় ২০ শতাংশ এই প্রণালি দিয়ে পরিবাহিত হওয়ায় যুদ্ধ পরিস্থিতি জ্বালানি সরবরাহে বড় ধরনের ঝুঁকি তৈরি করেছে। ইতোমধ্যে বিভিন্ন দেশে জ্বালানি তেলের দামও বাড়তে শুরু করেছে।

এই পরিস্থিতিতে ট্রাম্প তার নিজস্ব সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম Truth Social-এ দেওয়া এক বার্তায় বিশ্বশক্তিগুলোর কাছে হরমুজ প্রণালিতে যুদ্ধজাহাজ মোতায়েনের আহ্বান জানিয়েছেন। তিনি আশা প্রকাশ করেন যে China, France, Japan, South Korea এবং United Kingdom এই গুরুত্বপূর্ণ বাণিজ্যপথের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে সামরিক সহায়তা দেবে।

তবে এখন পর্যন্ত শক্তিশালী এসব দেশের কাছ থেকে স্পষ্ট কোনো ইতিবাচক সাড়া পাওয়া যায়নি। যুক্তরাজ্যের প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ের এক মুখপাত্র জানিয়েছেন, অঞ্চলটির জাহাজ চলাচলের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে তারা মিত্র ও অংশীদারদের সঙ্গে আলোচনা চালিয়ে যাচ্ছে, তবে যুদ্ধজাহাজ পাঠানোর বিষয়ে এখনো কোনো সিদ্ধান্ত হয়নি।

ওয়াশিংটনে অবস্থিত চীনা দূতাবাসের একজন মুখপাত্র আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যমকে বলেছেন, বেইজিং দ্রুত এই সংঘাতের অবসান চায়। তবে ট্রাম্পের আহ্বানে সাড়া দেওয়া হবে কি না—সে বিষয়ে তারা সরাসরি কোনো মন্তব্য করেননি।

এদিকে যুক্তরাষ্ট্রের ঘনিষ্ঠ মিত্র হিসেবে পরিচিত জাপানও এখন পর্যন্ত আনুষ্ঠানিক কোনো প্রতিক্রিয়া জানায়নি। দেশটির কর্মকর্তারা স্থানীয় সংবাদমাধ্যমকে জানিয়েছেন, জাপানের প্রধানমন্ত্রীর আসন্ন যুক্তরাষ্ট্র সফরে এই ইস্যুটি আলোচনায় আসতে পারে।

অন্যদিকে ফ্রান্সও ট্রাম্পের আহ্বানে তাৎক্ষণিকভাবে সাড়া দেয়নি। দেশটির পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, আপাতত তারা হরমুজ প্রণালিতে কোনো যুদ্ধজাহাজ পাঠানোর পরিকল্পনা করছে না। একইভাবে দক্ষিণ কোরিয়াও এ বিষয়ে এখনো কোনো আনুষ্ঠানিক অবস্থান প্রকাশ করেনি।

বিশ্লেষকদের মতে, মধ্যপ্রাচ্যে যুদ্ধের বিস্তার ঠেকাতে এবং বৈশ্বিক জ্বালানি বাজার স্থিতিশীল রাখতে বড় শক্তিগুলো সরাসরি সামরিক সম্পৃক্ততা এড়িয়ে কূটনৈতিক সমাধানের পথ খুঁজছে। তবে পরিস্থিতি দীর্ঘস্থায়ী হলে আন্তর্জাতিক রাজনীতি ও জ্বালানি অর্থনীতিতে এর প্রভাব আরও গভীর হতে পারে।

বিজ্ঞাপন

https://moreshopbd.com/