• রবিবার , ১৫ মার্চ, ২০২৬ | ১ চৈত্র, ১৪৩২ বঙ্গাব্দ

ইরানের ‘শাহেদ’ ড্রোনের জবাবে মার্কিন ‘লুকাস’: নতুন ড্রোন যুদ্ধে জড়াল ট্রাম্প পরিবার

ইরানের ‘শাহেদ’ ড্রোনের জবাবে মার্কিন ‘লুকাস’: নতুন ড্রোন যুদ্ধে জড়াল ট্রাম্প পরিবার

অনলাইন ডেস্ক
অনলাইন ডেস্ক

প্রকাশিত: ০৫:৫৭ ১৫ মার্চ ২০২৬

আধুনিক যুদ্ধের কৌশলে বড় পরিবর্তন এসেছে। ব্যয়বহুল যুদ্ধবিমান বা ক্ষেপণাস্ত্রের পাশাপাশি এখন স্বল্পমূল্যের ড্রোনই হয়ে উঠছে যুদ্ধক্ষেত্রের অন্যতম প্রধান অস্ত্র। মধ্যপ্রাচ্যের চলমান উত্তেজনার মধ্যেই নতুন করে আলোচনায় এসেছে ইরানের তৈরি কামিকাজে ড্রোন HESA Shahed 136। এই ড্রোন তুলনামূলকভাবে কম খরচে তৈরি হলেও যুদ্ধক্ষেত্রে এর কার্যকারিতা অনেক বেশি বলে মনে করেন সামরিক বিশ্লেষকরা।

ইরানের তৈরি এই ড্রোনের নির্মাণ খরচ সাধারণত ২০ থেকে ৫০ হাজার ডলারের মধ্যে। অথচ এটি প্রতিহত করতে অনেক সময় যুক্তরাষ্ট্রকে ব্যবহার করতে হয় অত্যাধুনিক MIM-104 Patriot ক্ষেপণাস্ত্র, যার প্রতিটির দাম প্রায় ৪০ লাখ ডলার। এই ব্যয় বৈষম্যই ইরানের তথাকথিত “অপ্রতিসম যুদ্ধ” কৌশলের বড় শক্তি হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।

এই প্রেক্ষাপটে যুক্তরাষ্ট্রও কম খরচে কার্যকর নতুন ড্রোন তৈরি করেছে, যার নাম LUCAS FLM-136। পূর্ণ নাম “ফ্লোরিডা লো-কস্ট আনক্রুড কমব্যাট অ্যাটাক সিস্টেম”। প্রতিটি লুকাস ড্রোনের আনুমানিক দাম প্রায় ৩৫ হাজার ডলার, যা খরচ ও কার্যকারিতার দিক থেকে ইরানের শাহেদ ড্রোনের সঙ্গে প্রতিযোগিতা করতে সক্ষম বলে মনে করা হচ্ছে।

ড্রোনটি তৈরি করেছে অ্যারিজোনাভিত্তিক প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠান SpearWorks। এর ওজন প্রায় ৮১.৫ কেজি, যা শাহেদ ড্রোনের তুলনায় অনেক হালকা। লুকাস ড্রোন প্রায় ১৫ হাজার ফুট উচ্চতায় উড়তে পারে এবং ঘণ্টায় প্রায় ১৯৪ কিলোমিটার গতিতে ছয় ঘণ্টা পর্যন্ত আকাশে অবস্থান করতে সক্ষম।

ইরানের সামরিক বাহিনীর দাবি, যুক্তরাষ্ট্র ও Israel এই ধরনের ড্রোন ব্যবহার করে মধ্যপ্রাচ্যের বিভিন্ন স্থানে হামলা চালাচ্ছে। তাদের অভিযোগ, দেখতে অনেকটা শাহেদ ড্রোনের মতো হওয়ায় এসব হামলার দায় ইরানের ওপর চাপানোর চেষ্টা করা হচ্ছে।

এদিকে মার্কিন প্রেসিডেন্ট Donald Trump ড্রোন শিল্পকে শক্তিশালী করতে সম্প্রতি “Unleashing American Drone Dominance” নামে একটি নির্বাহী আদেশে স্বাক্ষর করেছেন। এর লক্ষ্য যুক্তরাষ্ট্রকে বৈশ্বিক ড্রোন প্রযুক্তিতে শীর্ষ অবস্থানে নিয়ে যাওয়া।

এই উদ্যোগের অংশ হিসেবে ট্রাম্পের ছেলে Eric Trump এবং Donald Trump Jr. ড্রোন নির্মাতা প্রতিষ্ঠান Powersaeros-এর সঙ্গে বড় ধরনের ব্যবসায়িক উদ্যোগে যুক্ত হয়েছেন। পরিকল্পনা অনুযায়ী যুক্তরাষ্ট্রে ড্রোন উৎপাদন কয়েকগুণ বাড়ানো হবে।

মার্কিন প্রতিরক্ষা মন্ত্রী Pete Hegseth দাবি করেছেন, ড্রোন প্রযুক্তিতে ইরান ধীরে ধীরে তাদের আধিপত্য হারাচ্ছে এবং আকাশপথে যুক্তরাষ্ট্রের নিয়ন্ত্রণ ক্রমেই শক্তিশালী হচ্ছে। ইতোমধ্যে United States Department of Defense দেশটির বিভিন্ন কোম্পানির কাছে দ্রুত প্রায় তিন লাখ স্বল্পমূল্যের ড্রোন সরবরাহের অনুরোধ জানিয়েছে।

বিশ্লেষকদের মতে, কম খরচের এই ড্রোন প্রতিযোগিতা ভবিষ্যতের যুদ্ধের ধরন বদলে দিতে পারে এবং মধ্যপ্রাচ্যের চলমান সংঘাতে নতুন মাত্রা যোগ করতে পারে।

বিজ্ঞাপন

https://moreshopbd.com/