• শনিবার , ২৯ আগস্ট, ২০২৬ | ১৪ ভাদ্র, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

ইরানে হামলা মানেই আগুনে জ্বলবে মধ্যপ্রাচ্য—মার্কিন ঘাঁটিতে পাল্টা আঘাতের হুঁশিয়ারি তেহরানের

ইরানে হামলা মানেই আগুনে জ্বলবে মধ্যপ্রাচ্য—মার্কিন ঘাঁটিতে পাল্টা আঘাতের হুঁশিয়ারি তেহরানের

অনলাইন ডেস্ক
অনলাইন ডেস্ক

প্রকাশিত: ০৬:৩৮ ১৪ জানুয়ারী ২০২৬

ইরানের ওপর যুক্তরাষ্ট্র কোনো ধরনের সামরিক হামলা চালালে মধ্যপ্রাচ্যের বিভিন্ন দেশে অবস্থিত মার্কিন ঘাঁটিগুলোতে সরাসরি পাল্টা হামলা চালানো হবে—এমন কঠোর হুঁশিয়ারি দিয়েছে তেহরান। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ইরানের চলমান বিক্ষোভকারীদের প্রকাশ্য সমর্থন জানিয়ে হস্তক্ষেপের ইঙ্গিত দেওয়ার পর এই হুমকি এলো। বুধবার রয়টার্সকে দেওয়া বক্তব্যে ইরানের একজন ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা জানান, যুক্তরাষ্ট্র যদি ইরানের সার্বভৌমত্বে আঘাত হানে, তবে তার জবাব আঞ্চলিক পর্যায়ে দেওয়া হবে।

ইরানে চলমান বিক্ষোভ পরিস্থিতি ক্রমেই ভয়াবহ রূপ নিচ্ছে। একটি আন্তর্জাতিক মানবাধিকার সংস্থার তথ্যমতে, এসব বিক্ষোভে এখন পর্যন্ত নিহতের সংখ্যা প্রায় ২ হাজার ৬০০ জনে পৌঁছেছে। ১৯৭৯ সালের ইসলামি বিপ্লবের পর দেশটির ধর্মীয় নেতৃত্বের জন্য এটিকে সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জগুলোর একটি হিসেবে দেখা হচ্ছে। এই পরিস্থিতিকে কেন্দ্র করেই যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে উত্তেজনা নতুন মাত্রা পেয়েছে।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক ইরানি ওই কর্মকর্তা বলেন, তেহরানের কাছে এমন ইঙ্গিত রয়েছে যে প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প ইরানে সরাসরি হস্তক্ষেপের সিদ্ধান্ত নিয়ে ফেলেছেন, যদিও সেই হস্তক্ষেপের সময় ও মাত্রা এখনো স্পষ্ট নয়। সম্ভাব্য হামলা ঠেকাতে ইরান ইতোমধ্যে আঞ্চলিক মিত্র দেশগুলোর সঙ্গে যোগাযোগ করেছে এবং সতর্কবার্তা পাঠিয়েছে।

ওই কর্মকর্তা আরও জানান, সৌদি আরব, সংযুক্ত আরব আমিরাত, কাতার ও তুরস্কসহ মধ্যপ্রাচ্যের সব দেশকে জানিয়ে দেওয়া হয়েছে—যুক্তরাষ্ট্র যদি ইরানকে লক্ষ্য করে হামলা চালায়, তাহলে তাদের ভূখণ্ডে অবস্থিত মার্কিন ঘাঁটিগুলো ইরানের পাল্টা আঘাতের লক্ষ্যবস্তু হবে। এতে গোটা অঞ্চলে বড় ধরনের সামরিক সংঘাত ছড়িয়ে পড়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে।

উত্তেজনা বৃদ্ধির প্রেক্ষাপটে ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাগচি ও মার্কিন বিশেষ দূত স্টিভ উইটকফের মধ্যে চলমান সরাসরি যোগাযোগও স্থগিত করা হয়েছে বলে জানিয়েছেন ওই কর্মকর্তা। কূটনৈতিক যোগাযোগ বন্ধ হয়ে যাওয়ায় সংকট সমাধানের পথ আরও জটিল হয়ে উঠছে।

এদিকে ইসরায়েলের একটি সূত্র জানিয়েছে, মঙ্গলবার রাতে দেশটির প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু নিরাপত্তা মন্ত্রিসভাকে ইরানের শাসনব্যবস্থার পতন অথবা যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক হস্তক্ষেপের সম্ভাব্য পরিণতি সম্পর্কে অবহিত করেছেন। উল্লেখ্য, গত বছর ইরান ও ইসরায়েলের মধ্যে টানা ১২ দিনের সংঘাত হয়েছিল, যা পুরো অঞ্চলকে যুদ্ধের দ্বারপ্রান্তে নিয়ে গিয়েছিল।

অন্যদিকে, সিবিএস নিউজকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে ডোনাল্ড ট্রাম্প হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেন, ইরান যদি বিক্ষোভকারীদের মৃত্যুদণ্ড কার্যকর করা শুরু করে, তবে যুক্তরাষ্ট্র ‘অত্যন্ত কঠোর ব্যবস্থা’ নেবে। তিনি বলেন, “তারা যদি লোকজনকে ফাঁসিতে ঝোলায়, তাহলে আপনারা বড় কিছু দেখতে পাবেন।” একই সঙ্গে তিনি ইরানিদের আন্দোলন চালিয়ে যাওয়ার এবং সরকারি প্রতিষ্ঠান দখলের আহ্বান জানিয়ে বলেন, “সহায়তা আসছে,” যদিও এর বিস্তারিত ব্যাখ্যা দেননি।

মধ্যপ্রাচ্যে বর্তমানে যুক্তরাষ্ট্রের গুরুত্বপূর্ণ সামরিক উপস্থিতি রয়েছে। বাহরাইনে মার্কিন নৌবাহিনীর পঞ্চম ফ্লিটের সদর দপ্তর এবং কাতারের আল-উদেইদ বিমান ঘাঁটিসহ বিভিন্ন স্থানে মার্কিন সেনা মোতায়েন আছে। গত বছর ইরানের পারমাণবিক স্থাপনায় মার্কিন হামলার জবাবে আল-উদেইদ ঘাঁটিতে ক্ষেপণাস্ত্র নিক্ষেপ করেছিল তেহরান, যা এখনো স্মরণে তাজা।

ইরানের রাষ্ট্রীয় সংবাদমাধ্যম জানিয়েছে, দেশটির শীর্ষ নিরাপত্তা সংস্থার প্রধান আলী লারিজানি কাতারের পররাষ্ট্রমন্ত্রীর সঙ্গে এবং পররাষ্ট্রমন্ত্রী আরাগচি তুরস্ক ও সংযুক্ত আরব আমিরাতের পররাষ্ট্রমন্ত্রীদের সঙ্গে আলাদা করে কথা বলেছেন। এসব দেশ যুক্তরাষ্ট্রের ঘনিষ্ঠ মিত্র হওয়ায় ইরান তাদের সতর্ক অবস্থান নিয়েছে।

আরাগচি আমিরাতের পররাষ্ট্রমন্ত্রীকে বলেছেন, বর্তমানে পরিস্থিতিতে ‘শান্তি বিরাজ করছে’, তবে ইরান যেকোনো ধরনের বিদেশি হস্তক্ষেপের বিরুদ্ধে নিজের সার্বভৌমত্ব রক্ষায় দৃঢ় প্রতিজ্ঞ। এদিকে ইরানে ইন্টারনেট সংযোগ বিচ্ছিন্ন থাকায় সেখানকার প্রকৃত পরিস্থিতি জানা কঠিন হয়ে পড়েছে। এইচআরএএনএ নামের মানবাধিকার সংস্থার তথ্য অনুযায়ী, এখন পর্যন্ত ২ হাজার ৪০৩ জন বিক্ষোভকারী ও ১৪৭ জন সরকারি কর্মীর মৃত্যুর তথ্য তারা নিশ্চিত করতে পেরেছে। তবে ইরানি কর্তৃপক্ষ এই অস্থিরতার জন্য সরাসরি যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলকে দায়ী করছে।

বিজ্ঞাপন