• শুক্রবার , ৩০ অক্টোবর, ২০২৬ | ১৫ কার্তিক, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

ভেনেজুয়েলার পর ট্রাম্পের নজরে যে দেশগুলো থাকতে পারে

ভেনেজুয়েলার পর ট্রাম্পের নজরে যে দেশগুলো থাকতে পারে

অনলাইন ডেস্ক
অনলাইন ডেস্ক

প্রকাশিত: ০৫:০৯ ৬ জানুয়ারী ২০২৬

মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের দ্বিতীয় মেয়াদ শুরু থেকেই কূটনৈতিক উচ্চাকাঙ্ক্ষা ও আন্তর্জাতিক প্রভাব বিস্তারের আক্রমণাত্মক নীতির স্পষ্ট ইঙ্গিত দিচ্ছে। ভেনেজুয়েলার রাজধানী কারাকাসে নাটকীয় অভিযানে প্রেসিডেন্ট নিকোলাস মাদুরো ও তার স্ত্রীকে আটক করার ঘটনাকে ট্রাম্প নিজের নতুন পররাষ্ট্রনীতির অংশ হিসেবে তুলে ধরেছেন। তিনি একে ‘ডনরো ডকট্রিন’ নামে অভিহিত করছেন, যা ১৮২৩ সালের ঐতিহাসিক মনরো ডকট্রিনের আধুনিক ও আরও কঠোর রূপ বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা।

ভেনেজুয়েলার ঘটনার পরপরই ওয়াশিংটনের প্রভাব বলয়ের একাধিক দেশের প্রতি ট্রাম্প প্রশাসনের কড়া বার্তা আন্তর্জাতিক অঙ্গনে উদ্বেগ তৈরি করেছে। এসব দেশের মধ্যে গ্রিনল্যান্ড, কলম্বিয়া, ইরান, মেক্সিকো ও কিউবা বিশেষভাবে আলোচনায় উঠে এসেছে।

ট্রাম্পের দৃষ্টিতে গ্রিনল্যান্ড এখন কৌশলগতভাবে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। যদিও যুক্তরাষ্ট্র ইতোমধ্যেই সেখানে পিটুফিক স্পেস বেসসহ সামরিক স্থাপনা পরিচালনা করছে, ট্রাম্প পুরো দ্বীপটি নিজেদের নিয়ন্ত্রণে নেওয়ার আগ্রহ প্রকাশ করেছেন। তার ভাষায়, “জাতীয় নিরাপত্তার স্বার্থেই আমাদের গ্রিনল্যান্ড দরকার।” তিনি দাবি করেন, অঞ্চলটি রুশ ও চীনা জাহাজে পরিপূর্ণ হয়ে উঠছে। বিরল খনিজ সম্পদে সমৃদ্ধ গ্রিনল্যান্ড স্মার্টফোন, বৈদ্যুতিক যান ও সামরিক প্রযুক্তির জন্য গুরুত্বপূর্ণ হওয়ায় এর ভূরাজনৈতিক মূল্য আরও বেড়েছে।

তবে ট্রাম্পের এই প্রস্তাব গ্রিনল্যান্ডের প্রধানমন্ত্রী জেন্স ফ্রেডরিক নিলসেন ‘কল্পনাপ্রসূত’ বলে মন্তব্য করেছেন। ডেনমার্কের প্রধানমন্ত্রীও সতর্ক করে বলেছেন, নেটোর কোনো সদস্য রাষ্ট্রের ওপর সামরিক চাপ প্রয়োগ করা হলে পরিস্থিতি মারাত্মকভাবে জটিল হতে পারে।

ভেনেজুয়েলার অভিযানের পর ট্রাম্পের সতর্ক দৃষ্টি পড়েছে লাতিন আমেরিকার আরেক গুরুত্বপূর্ণ দেশ কলম্বিয়ার ওপর। দেশটির প্রেসিডেন্ট গুস্তাভো পেত্রোকে সরাসরি হুঁশিয়ারি দিয়ে ট্রাম্প বলেন, কলম্বিয়া এখন ‘এক অসুস্থ মানুষের হাতে’। তেল, সোনা, রূপা, পান্না ও কয়লার বড় উৎপাদক দেশটি একই সঙ্গে বৈশ্বিক মাদক ব্যবসার অন্যতম কেন্দ্র। যুক্তরাষ্ট্র কলম্বিয়ার বিরুদ্ধে কোনো সামরিক অভিযান চালাতে পারে কি না—এ প্রশ্নে ট্রাম্পের জবাব ছিল, “আমার কাছে ভালোই শোনাচ্ছে।” যদিও ঐতিহাসিকভাবে কলম্বিয়া মাদকবিরোধী যুদ্ধে ওয়াশিংটনের ঘনিষ্ঠ মিত্র এবং যুক্তরাষ্ট্র থেকে প্রতি বছর বিপুল সামরিক সহায়তা পেয়ে থাকে।

মধ্যপ্রাচ্যে ট্রাম্পের নজর ইরানের দিকেও। বর্তমানে দেশটি সরকারবিরোধী বিক্ষোভে উত্তাল। ট্রাম্প সতর্ক করে বলেছেন, বিক্ষোভে আরও প্রাণহানি হলে যুক্তরাষ্ট্র কঠোর পদক্ষেপ নেবে। গত বছর ইরানের পারমাণবিক স্থাপনায় হামলার পরও তিনি শাসকদের বিরুদ্ধে আরও পদক্ষেপ নেওয়ার হুমকি দিয়েছিলেন, যা অঞ্চলটিকে নতুন করে সংঘাতের দিকে ঠেলে দিতে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।

উত্তর আমেরিকার প্রতিবেশী দেশ মেক্সিকোর সঙ্গেও ট্রাম্পের সম্পর্ক বরাবরই টানাপোড়েনপূর্ণ। ২০১৬ সালের নির্বাচনী প্রচারণায় সীমান্তে দেয়াল নির্মাণের প্রতিশ্রুতি দেওয়া ট্রাম্প ২০২৫ সালে মেক্সিকো উপসাগরের নাম পরিবর্তন করে ‘আমেরিকা উপসাগর’ করার নির্বাহী আদেশে স্বাক্ষর করেন। তার অভিযোগ, মেক্সিকো যুক্তরাষ্ট্রে মাদক পাচার ও অবৈধ অভিবাসন ঠেকাতে পর্যাপ্ত ভূমিকা রাখছে না।

ক্যারিবীয় অঞ্চলে কিউবাও ট্রাম্প প্রশাসনের নজরদারিতে রয়েছে। ভেনেজুয়েলার ঘনিষ্ঠ মিত্র কিউবা দীর্ঘদিন ধরেই যুক্তরাষ্ট্রের কঠোর নিষেধাজ্ঞার আওতায়। ফ্লোরিডা থেকে মাত্র ৯০ মাইল দূরে অবস্থিত দ্বীপরাষ্ট্রটি ১৯৬০-এর দশক থেকেই নিষেধাজ্ঞার বোঝা বহন করছে। ট্রাম্পের মতে, কিউবায় সরাসরি সামরিক হস্তক্ষেপের প্রয়োজন নেই, কারণ দেশটি ইতোমধ্যেই ‘পতনের মুখে’। তিনি দাবি করেন, কিউবার আয়ের বড় অংশই আসত ভেনেজুয়েলা থেকে।

মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিও এ প্রসঙ্গে বলেন, কিউবায় শাসন পরিবর্তনের ক্ষেত্রে যুক্তরাষ্ট্রকে অত্যন্ত সতর্ক থাকতে হবে। তার ভাষায়, “যখন প্রেসিডেন্ট কথা বলেন, তা গুরুত্ব সহকারে নেওয়া উচিত।”

সব মিলিয়ে ভেনেজুয়েলার পর ট্রাম্পের পররাষ্ট্রনীতির লক্ষ্যবস্তু হিসেবে যে দেশগুলোর নাম উঠে আসছে, তা বিশ্ব রাজনীতিতে নতুন করে অস্থিরতা ও অনিশ্চয়তার ইঙ্গিত দিচ্ছে বলে মনে করছেন আন্তর্জাতিক বিশ্লেষকরা।

সূত্র: বিবিসি বাংলা

বিজ্ঞাপন