ভেনেজুয়েলার ‘কালো সোনা’ দখলের লড়াই: তেল লুটে ট্রাম্পের মহাতাণ্ডবে বিশ্ব রাজনীতিতে ঝড়


প্রকাশিত: ১২:৩৪ ৫ জানুয়ারী ২০২৬
ভেনেজুয়েলায় একটি সফল সামরিক অভিযানের পর দেশটির প্রেসিডেন্ট নিকোলাস মাদুরো ও তাঁর স্ত্রীকে আটক করে যুক্তরাষ্ট্রে নিয়ে আসার ঘটনায় বিশ্বজুড়ে তীব্র প্রতিক্রিয়া ও নিন্দার ঝড় উঠেছে। আন্তর্জাতিক অঙ্গনে যখন এই ঘটনাকে ঘিরে উত্তেজনা চরমে, ঠিক তখনই আরও বিস্ময়কর এক ঘোষণা দেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। তিনি জানান, এখন থেকে ভেনেজুয়েলার রাষ্ট্রক্ষমতা ও দেশটির বিপুল জ্বালানি তেলের মজুত যুক্তরাষ্ট্রের পূর্ণ নিয়ন্ত্রণে থাকবে। এই ঘোষণার পর প্রশ্ন উঠেছে—বিশ্বের সবচেয়ে বড় তেল মজুত থাকা সত্ত্বেও কেন ভেনেজুয়েলার তেলের প্রতি ওয়াশিংটনের এমন আগ্রহ?
মার্কিন জ্বালানি তথ্য সংস্থা ইআইএ-এর তথ্যমতে, ভেনেজুয়েলার ভূগর্ভে প্রায় ৩০ হাজার ৩০০ কোটি ব্যারেল তেলের মজুত রয়েছে, যা বিশ্বের মোট তেল সম্পদের প্রায় এক-পঞ্চমাংশ। যদিও যুক্তরাষ্ট্রের নিজস্ব তেল মজুতও উল্লেখযোগ্য, তবে সেগুলোর বেশির ভাগই ‘সুইট ক্রুড’ বা হালকা মানের তেল, যা মূলত গ্যাসোলিন উৎপাদনের জন্য উপযোগী। বিপরীতে, ভেনেজুয়েলার তেল অত্যন্ত ভারী ও ঘন প্রকৃতির। এই তেল পরিশোধনের মাধ্যমে উন্নতমানের ডিজেল, জেট ফুয়েল, অ্যাসফল্ট এবং ভারী শিল্পকারখানায় ব্যবহারের উপযোগী জ্বালানি তৈরি করা সম্ভব—যার ওপর আমেরিকার শিল্প ও পরিবহন খাত ব্যাপকভাবে নির্ভরশীল।
ভৌগোলিক দিক থেকেও ভেনেজুয়েলা যুক্তরাষ্ট্রের জন্য কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ। দক্ষিণ আমেরিকার এই দেশটি যুক্তরাষ্ট্রের তুলনামূলকভাবে কাছাকাছি হওয়ায় মধ্যপ্রাচ্যের দেশগুলো থেকে তেল আমদানির তুলনায় পরিবহন খরচ অনেক কম পড়ে। এতে করে যুক্তরাষ্ট্রের জ্বালানি সরবরাহ আরও সাশ্রয়ী ও স্থিতিশীল রাখা সম্ভব। পাশাপাশি ট্রাম্প প্রশাসনের এই পদক্ষেপের পেছনে রয়েছে বিশ্ব জ্বালানি বাজার নিয়ন্ত্রণের সুদূরপ্রসারী কৌশল।
বর্তমানে ভেনেজুয়েলা দৈনিক প্রায় ১০ লাখ ব্যারেল তেল উৎপাদন করে, যা বিশ্ব সরবরাহের মাত্র শূন্য দশমিক আট শতাংশ। তবে যুক্তরাষ্ট্র যদি দেশটির তেলক্ষেত্র আধুনিকায়ন করে উৎপাদন বাড়াতে সক্ষম হয়, তাহলে আন্তর্জাতিক বাজারে তেলের দাম ও সরবরাহ—উভয়ের ওপরই ওয়াশিংটনের প্রভাব বহুগুণে বেড়ে যাবে। এতে করে বৈশ্বিক জ্বালানি রাজনীতিতে যুক্তরাষ্ট্রের অবস্থান আরও শক্তিশালী হবে বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা।
বিশেষজ্ঞদের মতে, মাদুরো সরকারকে ক্ষমতাচ্যুত করার পেছনে মানবাধিকার লঙ্ঘন বা মাদক পাচারের অভিযোগ সামনে আনা হলেও এর নেপথ্যে মূল চালিকাশক্তি ছিল ভেনেজুয়েলার ‘কালো সোনা’। এই বিপুল সম্পদের নিয়ন্ত্রণ নিশ্চিত করার মাধ্যমে যুক্তরাষ্ট্র একদিকে যেমন ল্যাটিন আমেরিকায় নিজের প্রভাব সুদৃঢ় করল, অন্যদিকে তেল রাজনীতিতে প্রতিদ্বন্দ্বী রাশিয়া ও চীনের অবস্থানকে দুর্বল করে দিল। ভেনেজুয়েলার তেল ঘিরে এই ভূ-রাজনৈতিক লড়াই যে আগামী দিনে বিশ্ব রাজনীতিতে আরও বড় অস্থিরতা তৈরি করবে, সে আশঙ্কাই এখন ঘুরপাক খাচ্ছে।
বিজ্ঞাপন
সর্বোচ্চ পঠিত - আন্তর্জাতিক
- ডিজেলে লিটারপ্রতি প্রায় ৯০ টাকা লোকসান, জানাল বিপিসি
- ‘তুই ছাড়া...’, শুভশ্রীর পোস্টে ফের আলোচনায় দেব-শুভশ্রী
- সম্প্রচারস্বত্বে স্বার্থের দ্বন্দ্বের অভিযোগ, তদন্তে পিএসজি সভাপতি
- হরমুজে মার্কিন MQ-1 ড্রোন ভূপাতিত করার দাবি ইরানের
- জাতিসংঘ অধিবেশনে যোগ দিতে নিউইয়র্কের পথে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান
- হাজারবার প্রার্থনা করেছি যেন পুরুষদেরও পিরিয়ড হয়: শ্রুতি হাসান
- ‘কোরআন-সুন্নাহ বিরোধী আইন করার মূল্য সরকারকে দিতে হবে’: শফিকুর রহমান
- পাঁচ ভেন্যুতে হবে এনসিএল ‘সেকেন্ড ইলেভেন’ চ্যাম্পিয়নশিপ
- ইরানের শর্ত না মানা পর্যন্ত হরমুজ প্রণালি বন্ধ থাকবে: গালিবাফ
- অপ্রতিম হত্যাকাণ্ডে ৪ জন গ্রেপ্তার, অপরাধ স্বীকারের কথা জানালেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী
- রাজ্জাক দেওয়ান স্মরণে গাইবেন বগা তালেবসহ ১৫ শিল্পী
- মক্কা প্যাক্টে যোগদান বাংলাদেশের নিজস্ব বিষয়: জামায়াত আমির
- ডা. তাসনিম জারা: শিক্ষা, ক্যারিয়ার ও রাজনীতি
- অকালে হারানো বাংলা চলচ্চিত্রের চিরসবুজ মহানায়ক সালমান শাহ
- পাকিস্তানের হাসপাতালে এসি বিস্ফোরণ, ১৫ নবজাতকের মৃত্যু
- ব্রাজিলের সঙ্গে খেললেই বদলাবে না বাংলাদেশের ফুটবল, বললেন আমিনুল
- শরীফুলের বোলিংয়ে মুগ্ধ অস্ট্রেলিয়া অধিনায়ক
- দেশজুড়ে আরও পাঁচ দিন টানা বৃষ্টির পূর্বাভাস
- এআই জগতের প্রভাবশালী ১০০ ব্যক্তির তালিকা প্রকাশ করল টাইম
- বাড়ি বাড়ি স্বাস্থ্য পরীক্ষা, ইউনিয়নে হবে ‘হেলথ হাব’: স্বাস্থ্যমন্ত্রী




