• মঙ্গলবার , ২৮ জুলাই, ২০২৬ | ১৩ শ্রাবণ, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

দেশে ৫ মাসে ১১৮ শিশু ধর্ষণের শিকার

দেশে ৫ মাসে ১১৮ শিশু ধর্ষণের শিকার

অনলাইন ডেস্ক
অনলাইন ডেস্ক

প্রকাশিত: ১১:১৬ ২৩ মে ২০২৬

দেশে শিশু ধর্ষণ ও ধর্ষণের পর হত্যার ঘটনা উদ্বেগজনকভাবে বাড়ছে বলে বিভিন্ন পরিসংখ্যানে উঠে এসেছে। সাম্প্রতিক সময়ে একের পর এক এমন ঘটনায় শিশুদের নিরাপত্তা ও সুরক্ষা ব্যবস্থা নিয়ে নতুন করে প্রশ্ন দেখা দিয়েছে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, কার্যকর রাজনৈতিক সদিচ্ছা ও সামাজিক দায়বদ্ধতা ছাড়া এই পরিস্থিতির পরিবর্তন সম্ভব নয়।

বেসরকারি সংস্থার তথ্য অনুযায়ী, চলতি বছরের জানুয়ারি থেকে ২০ মে পর্যন্ত দেশে অন্তত ১১৮ শিশু ধর্ষণের শিকার হয়েছে। একই সময়ে ধর্ষণের চেষ্টার শিকার হয়েছে আরও ৪৬ শিশু। এছাড়া ধর্ষণের পর অন্তত ১৭ শিশুকে হত্যা করা হয়েছে বলে জানা গেছে। সাম্প্রতিক দুই সপ্তাহেই ধর্ষণের পর চার শিশুহত্যার ঘটনা নতুন করে উদ্বেগ বাড়িয়েছে।

বিশ্লেষকদের মতে, শিশুদের নিরাপত্তা কেবল আইনশৃঙ্খলার বিষয় নয়; এটি সামাজিক মূল্যবোধ, নৈতিকতা ও রাষ্ট্রীয় দায়বদ্ধতার সঙ্গেও জড়িত। তারা মনে করেন, শিশু নির্যাতন প্রতিরোধে বিশেষায়িত ব্যবস্থা গড়ে তোলা প্রয়োজন।

বিশেষজ্ঞদের একাংশ শিশু সুরক্ষায় পৃথক কমিশন গঠনের প্রস্তাব দিয়েছেন। তাদের মতে, শিক্ষা প্রতিষ্ঠান ও ধর্মীয় প্রতিষ্ঠানে শিশুদের সুরক্ষা নিশ্চিতে বিশেষ তদারকি ও জিরো টলারেন্স নীতি কার্যকর করা জরুরি।

মনোরোগ বিশেষজ্ঞদের ভাষ্য, সমাজে অপরাধীদের সামাজিকভাবে চিহ্নিত না করার সংস্কৃতিও সমস্যা বাড়াচ্ছে। তাদের মতে, শিশুদের জন্য নিরাপদ পরিবেশ নিশ্চিত করতে পরিবার, সমাজ এবং রাষ্ট্র—সব পক্ষকেই সমন্বিতভাবে কাজ করতে হবে।

সংবিধান ও জাতীয় শিশু নীতিতে শিশুদের জীবন, নিরাপত্তা ও মর্যাদার অধিকার নিশ্চিত করার কথা বলা হলেও বাস্তবে তা কতটা কার্যকর হচ্ছে, তা নিয়েও প্রশ্ন তুলেছেন সংশ্লিষ্টরা।

বিশেষজ্ঞরা বলছেন, শিশুদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে শুধু আইন প্রণয়ন নয়, তার কার্যকর বাস্তবায়ন, দ্রুত বিচার এবং সামাজিক সচেতনতা বৃদ্ধির ওপরও সমান গুরুত্ব দিতে হবে।

বিজ্ঞাপন