• রবিবার , ১৬ আগস্ট, ২০২৬ | ১ ভাদ্র, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

গৃহকর্মী শিশু নির্যাতনের অভিযোগে স্ত্রীসহ বিমানের এমডি সাফিকুর রহমান কারাগারে

গৃহকর্মী শিশু নির্যাতনের অভিযোগে স্ত্রীসহ বিমানের এমডি সাফিকুর রহমান কারাগারে

অনলাইন ডেস্ক
অনলাইন ডেস্ক

প্রকাশিত: ০২:৩৩ ৩ ফেব্রুয়ারী ২০২৬

১১ বছরের এক শিশু গৃহকর্মীকে নির্মমভাবে নির্যাতনের অভিযোগে বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইনসের ব্যবস্থাপনা পরিচালক (এমডি) ও প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা (সিইও) সাফিকুর রহমান এবং তাঁর স্ত্রী বিথীসহ চারজনকে কারাগারে পাঠিয়েছেন আদালত। রোববার (১ ফেব্রুয়ারি) দিবাগত রাত সাড়ে তিনটার দিকে রাজধানীর উত্তরা থেকে তাঁদের গ্রেপ্তার করে পুলিশ। পরদিন সোমবার বিকেলে ঢাকার মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট রাজু আহমেদের আদালতে হাজির করা হলে জামিন আবেদন নামঞ্জুর করে সবাইকে জেলহাজতে পাঠানোর নির্দেশ দেওয়া হয়।

কারাগারে পাঠানো অন্য দুই আসামি হলেন সাফিকুর রহমানের বাসার গৃহকর্মী রুপালী খাতুন ও মোছা. সুফিয়া বেগম। রুপালী খাতুনের দুই বছর ও ছয় মাস বয়সী দুটি শিশুসন্তান থাকায় অভিভাবক না পাওয়ায় তাদেরও মায়ের সঙ্গে কারাগারে পাঠানো হয়েছে। পুলিশ জানায়, আসামিদের গ্রেপ্তারের পর জিজ্ঞাসাবাদে তারা ঘটনার বিষয়ে পরস্পরবিরোধী তথ্য দিয়েছেন এবং নাম-ঠিকানা যাচাই করাও সম্ভব হয়নি। এ অবস্থায় জামিন পেলে তদন্ত ব্যাহত হওয়ার আশঙ্কায় তাদের কারাগারে রাখার আবেদন করা হয়, যা আদালত গ্রহণ করেন।

মামলার বাদী শিশুটির বাবা, যিনি একজন হোটেল কর্মচারী। অভিযোগে তিনি জানান, বাসার সিকিউরিটি গার্ডের মাধ্যমে পরিচয়ের সূত্রে গত বছরের জুন মাসে তাঁর ১১ বছর বয়সী মেয়েকে সাফিকুর রহমান ও বিথীর বাসায় গৃহকর্মী হিসেবে কাজে দেন। তখন তাঁকে আশ্বাস দেওয়া হয়েছিল, শিশুটির বিয়ে ও ভবিষ্যতের সব খরচ তারা বহন করবেন। সর্বশেষ গত ২ নভেম্বর তিনি মেয়েকে সুস্থ অবস্থায় দেখে আসেন। এরপর একাধিকবার দেখা করতে গেলেও নানা অজুহাতে তাঁকে ফিরিয়ে দেওয়া হয়।

গত ৩১ জানুয়ারি বিথী ফোন করে শিশুটি অসুস্থ বলে জানালে তিনি মেয়েকে নিতে যান। পরে সন্ধ্যায় মেয়েটিকে বুঝিয়ে দেওয়া হলে তিনি দেখতে পান—তার শরীরের বিভিন্ন স্থানে, বিশেষ করে হাতে, গুরুতর পোড়া ও আঘাতের চিহ্ন রয়েছে। শিশুটি কথা বলতেও কষ্ট পাচ্ছিল। পরে তাকে গাজীপুর শহীদ তাজউদ্দীন আহমদ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। সেখানে শিশুটি জানায়, গত ২ নভেম্বরের পর থেকে বিভিন্ন সময়ে শফিকুর রহমান, বিথী ও অজ্ঞাতনামা ব্যক্তিরা তাকে মারধর করেছে এবং গরম খুন্তি দিয়ে শরীরের বিভিন্ন স্থানে ছেঁকা দিয়েছে।

এই ঘটনার পর ১ ফেব্রুয়ারি উত্তরা পশ্চিম থানায় শিশু নির্যাতনের অভিযোগে মামলা করেন শিশুটির বাবা। পুলিশ জানিয়েছে, মামলার সুষ্ঠু তদন্তের স্বার্থে আসামিদের রিমান্ড ও পরবর্তী আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে। ঘটনাটি প্রকাশ্যে আসার পর সামাজিকভাবে ব্যাপক আলোড়ন সৃষ্টি হয়েছে এবং শিশু নির্যাতনের বিরুদ্ধে কঠোর পদক্ষেপের দাবি উঠেছে।

বিজ্ঞাপন