রবিবার , ৩০ নভেম্বর, ২০২৫ | ১৬ অগ্রহায়ণ, ১৪৩২ বঙ্গাব্দ

প্রকাশিত: ০১:৪৮ ২৯ নভেম্বর ২০২৫
সাভারের গেন্ডা এলাকার ইমু সাহেবের বালুর মাঠে আবারও অনুমতি ছাড়া আংশিক নাম পরিবর্তন করে মেলার কার্যক্রম শুরু হয়েছে। নাম দেওয়া হয়েছে লাল সবুজের অর্গানিক খাদ্য কৃষি শিল্প ও বাণিজ্য মেলা -২০২৫। তবে এবার আওয়ামী লীগ নেতার ছত্রছায়া অবৈধ মেলার কার্যক্রম পরিচালনা করছে জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি) পরিচয়দানকারী কিছু লোকজন।
সাভারের স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, শুক্রবার থেকে ‘নতুন একটি সংগঠনের’ পরিচয়ে কয়েকজন যুবক মেলাটি পুনরায় চালু করেন। শুধু মাত্র মেলার নাম পরিবর্তন করে “অর্গানিক খাদ্য পণ্য, কৃষি পণ্য প্রদর্শনী ও শিল্প বাণিজ্য মেলা–২০২৫” এর জায়গায় “লাল সবুজের অর্গানিক খাদ্য কৃষি শিল্প ও বাণিজ্য মেলা ২০২৫” নাম পরিবর্তন করে মেলার কার্যক্রম শুরু করেছে।
এর আগে ঢাকা জেলা প্রশাসকের অনুমতি নিয়ে মেলাটি শুরু হলেও মাত্র এক সপ্তাহের মাথায় নিয়মবহির্ভূত ও অবৈধ কার্যক্রম পরিচালনার অভিযোগে স্থানীয় দৈনিক ফুলকি পত্রিকায় একটি প্রতিবেদন প্রকাশিত হয়। পরে জেলা প্রশাসনের তদন্তে অনুমোদনের সঙ্গে অসঙ্গতি মিললে মেলা বন্ধের নির্দেশ দেওয়া হয়। মাসব্যাপী চলার কথা থাকলেও তা বন্ধ হয়ে যায়।
স্থানীয়রা অভিযোগ করেন, বন্ধ হওয়ার পরও আয়োজক কমিটির সদস্যরা বিভিন্ন উপায়ে মেলাটি পুনরায় চালুর চেষ্টা চালিয়ে আসছিলেন। যদিও জেলা প্রশাসকের কার্যালয় এখন পর্যন্ত নতুন কোনো অনুমতি দেয়নি। শুধু আবেদন জমা দেওয়ার অজুহাতে মাঠে আবারও মেলা কার্যক্রম শুরু হয়েছে বলে জানান সংশ্লিষ্টরা।
এদিকে স্থানীয় কয়েকজন বাসিন্দা জানান, মেলা পুনরায় চালু করার পেছনে ভূমিকা রাখছেন কার্যক্রম নিষিদ্ধ দল আওয়ামী লীগ নেতা সাভার পৌর আওয়ামী লীগের সিনিয়র সহ-সভাপতি বাবুল মিয়া ওরফে পাগলা বাবুল। তার ব্যক্তিগত ফেসবুক স্ট্যাটাসেও মেলা পুনরায় চালুর বিষয়টি উল্লেখ করা হয়েছে বলে জানা গেছে। তিনি সবাইকে মেলায় আসার আহ্বান জানিয়েছেন। তবে এই অভিযোগের বিষয়ে তার বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
এদিকে সামনে সাভারের বিভিন্ন স্কুল ও মাদ্রাসায় বার্ষিক পরীক্ষা শুরু হতে যাচ্ছে। স্থানীয় অভিভাবক, শিক্ষক ও এলাকাবাসীর আশঙ্কা—মেলার উচ্চ শব্দ, ভিড়, যানজট এবং অনিয়ন্ত্রিত পরিবেশ শিক্ষার্থীদের পড়াশোনায় বড় ধরনের বিঘ্ন সৃষ্টি করতে পারে। তারা মনে করেন, পরীক্ষা চলাকালে এমন মেলা শিক্ষার উপযোগী পরিবেশের জন্য ক্ষতিকর।
এ বিষয়ে শাহাদাত হোসেন নামে এক অভিভাবক বলেন,
“সারা বছর অপেক্ষার পরে বার্ষিক পরীক্ষা শুরু হয়। ঠিক এই সময় মেলা বসানো হলে বাচ্চাদের মনোযোগ নষ্ট হবে। প্রশাসনের উচিত দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়া।”
প্রশাসনের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, অনুমতি ছাড়াই কেউ মেলা চালু করলে তা আইনগতভাবে সম্পূর্ণ অবৈধ, এবং অভিযোগ পেলে তাৎক্ষণিক ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
স্থানীয়রা দ্রুত প্রশাসনের হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন, যাতে অবৈধ মেলার কারণে পরীক্ষার্থীসহ সাধারণ মানুষের ভোগান্তি না বাড়ে।
